৭ নভেম্বর ২০১৭


নয় মাসেও শেষ হয়নি কাজ, চরম ভোগান্তি

শেয়ার করুন

কাইয়ুম উল্লাস (অতিথি প্রতিবেদক) : ‘এই ভাঙা অংশটুকুতে আশার পর রিকশায় এমনভাবে ঝাঁকুনি শুরু হয়, মনে হয় রিকশায় নয়; ঘোড়ায় চড়েছি। ঝাঁকুনির ভূমিকম্পে কলিজাও নড়েচড়ে ওঠে। কতক্ষণে এই ৩ শ ফুটের মতো রাস্তা ফুরাবে তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকি।’- কথাগুলো বলছিলেন পুলিশ লাইনের গেইট থেকে সুবিদবাজারর দিকে যাওয়া রিকশার যাত্রী কাদির মিয়া।

নগরীর মীরের ময়দান থেকে সুবিদবাজার পর্যন্ত ভিআইপি সড়ক হিসেবে উন্নীত হচ্ছে। সে অনুযায়ী চলতি বছরে এ সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু পুলিশ লাইন গেট থেকে সিলেট বেতারের গেট পর্যন্ত ৩ শ ফুটের পাথর বিছানো খোঁড়া ভাঙা রাস্তার ঝাঁকুনিতে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হয় গাড়ি যাত্রীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মীরের ময়দানের এই সড়কের ডিভাইডারে গাছের আকৃতিতে সিমেন্ট দিয়ে সৌন্দর্য বর্ধন করছেন কয়েকজন শ্রমিক। রাস্তার বিভিন্ন অংশ খোঁড়া। পাশে টুকরো পাথরের স্তূপ। মাটিতে গেঁথে আছে চোকা চোকা পাথরের টুকরো। দীর্ঘ ৯ মাস ধরেই পুলিশ লাইনের ফটক থেকে কেওয়াপাড়া রাস্তার মোড় অর্থাৎ, সিলেট বেতারের অফিসের সামন পর্যন্ত রাস্তা এভাবে অবহেলায় পড়ে আছে। শ্রমিকেরা ডিভাইডারে কাজ করলেও রাস্তায় কাজ করেন না। এতে রিকশাসহ যানবাহন আসা-যাওয়ার সময় ঝাঁকুনির কবলে পড়ে। আবার বৃষ্টিতে খানাখন্দে পানি জমে রিকশা ওল্টে যাওয়ার মতোও ঘটনা ঘটে। টানা দুদিন রোদ হলে আবার রাস্তায় ধুলো ওড়ে। এই ৩শ ফুটের অংশের কাজ চলছে খুবই ধীরগতিতে। যে-কারণে শুদু যাত্রীরাই নয়, স্কুলগামী পায়ে হাঁটা শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ৩ শ ফুটের এই অংশের কাজ শেষ হবে কতদিনে-এটাই ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন।

রিকশাচালক ইয়াসির আলী বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়া আমারে কেউ নিতে পারে না। ভাড়া বেশি দিলেও যাইতে মন চায় না। ঝাঁকুনি শুরু হইলে মনে হয় মগজে ধরতাছে।’

রাস্তার নির্মাণাধীন এবড়োখেবড়ো অংশের পাশের ফাতেমা স্টোরের দোকানি আবুল কাশেম বলেন,‘ ছয় মাস ধরি রাস্তাটারে ফালাইয়া রাখছে। প্রত্যেক দিন শ্রমিকরা আইয়া ডিভাইডারে ঘষামাজা করে। মানুষের দুর্ভোগের কথা তারার (কর্তৃপক্ষের) মাথায় আয় না। বৃষ্টি অইলে দোকানের সামনে পানি জমি যায়।’

সিসিক সূত্রে জানা গেল, নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে গত জানুয়ারিতে মীরের ময়দান থেকে ব্লুবার্ড স্কুলের সামনে পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। প্রশস্তকরণ কাজ শুরুর প্রথম দিকে এক সাথে পুরো সড়কটির পিচ তুলে মাটি ভরাট করার পর বেশ কিছু দিন কাজ বন্ধ থাকে। তখন থেকেই সড়কটি অনেকটা গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর মাঝখানে ডিভাইডার বসানো হয়। ডিভাইডার বসানোর পর আবার প্রায় এক মাস সড়কের কাজ বন্ধ ছিল। এরপর কিছু পাথর ভরাট করে রোলার মেরে পুনরায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে কিছুদিন কাজ চলে আবার বন্ধ হওয়ায় দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সড়কটির কাজ এখনো প্রায় অর্ধেক বাকি। এতদিন বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন বৃষ্টি নেই। তবু কাজ শুরু হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে নগরে বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে এবার কাজে নামা হচ্ছে। রাস্তা বড় হলে যানজটের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের বড় ড্রেনেজ নির্মাণ করা হবে। কিন্তু বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু স্থানে স্থাপনা ভাঙা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। এখন ধীরে ধীরে সকলের সহযোগিতায় স্থাপনা ভেঙে রাস্তা বড় করার ব্যাপারে সবার সাড়া পাচ্ছি। আশা করি, শিগগিরই মীরের ময়দানের সমস্যার সমাধান হবে।

 

(আজকের সিলেট/৭ নভেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন