২০ অক্টোবর ২০১৭


শ্রীমঙ্গলে বাড়ছে যানযট

শেয়ার করুন

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে প্রায় প্রতি দিনই দেশে-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ভীড় জমান। আর এসব পর্যটকের মধ্যে রির্জাভ করা বড় বড় বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, সহ প্রাইভেট গাড়ির পরিমানই বেশী থাকে।

এছাড়া শ্রীমঙ্গল শহর পুরো জেলার মধ্যে ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি রয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শ্রীমঙ্গলে প্রায় প্রতিদিনই খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা পন্য ক্রয় করে নিয়ে যান। আর এসব কারণে দিন দিন শ্রীমঙ্গলে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। শহরবাসীর কাছে খুব পরিচিত একটি শব্দ হয়ে উঠছে যানযট।

শহরের চৌমুহনা চত্তর, হবিগঞ্জরোড, মৌলভীবাজাররোড, স্টেশনরোডে ও রেলগেইটে প্রতিনিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে যানযট। আর এর জন্য যত্রতত্র রিকশা, টমটম, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন অবৈধভাবে পার্কিং এবং ফুটপাতে অবৈধভাবে ভ্রাম্যমান দোকান গড়ে উঠাকেই যানযটের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে শহর ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মার্কেট গুলোতে আন্ডারগাউন্ড পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় মার্কেটে আসা লোকজন মার্কেটের সামনেই গাড়ি পার্কিং করে কেনাকাটা করছেন। ফলে ঐ সমস্ত মার্কেটগুলোর সামনের রাস্তায় প্রায়ই লেগে থাকে যানযট। তাছাড়া শহরের প্রধান প্রধান ব্যস্ততম সড়কের পাশে ড্রাইভার বিহীন যানবাহনগুলো দীর্ঘসময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকছে। এতে করে রাস্তায় স্বাভাবিক যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এই যানযটের কারণে শহরে আগত পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ প্রায়ই ভূগান্তিতে পড়ছেন। নষ্ট হচ্ছে তাদের অনেক মূল্যবান সময়।

ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানযট নিরসনের কাজ করলেও অবৈধ পার্কিং করা গাড়িগুলোকে রাস্তা থেকে সড়ানোর কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না তারা।

এব্যাপারে শ্রীমঙ্গলের সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, যদি ট্রাফিক পুলিশ অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও চলমান রাখেন তাহলে শহরের কোথাও যানযট দেখা যাবে না।

শহরের ভিতরে গড়ে উঠা টমটম ও সিএনজি স্টেন্ডগুলো যদি ব্যস্ততম সড়ক থেকে নিরাপদ দুরত্বে সড়ানো হয় তাহলে যানযট অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করেন তারা।

এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ জাহান জানান, শ্রীমঙ্গলের বাহির থেকে আসা গাড়ি গুলো অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। অবৈধ পার্কিং এর ব্যাপারে প্রশাসন যদি কঠোর হয় তাহলে আমাদের সহযোগিতা থাকবে।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মহসিন মিয়া জানান, ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে যারা ব্যবসা করে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শ্রীমঙ্গলের ট্রাফিক ইন্সেপেক্টর রুপন কুমার রায় জানান, যে সমস্ত গাড়ি রাস্তায় পার্কিং করে রাখে অধিকাংশ ড্রাইভারকে খুঁজে পাওয়া যায় না। আর আমাদের রেকার ও লক নেই এবং ট্রাফিক পুলিশের স্বল্পতা রয়েছে। তারপরও আমরা যানযট নিরসনে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

(আজকের সিলেট/২০ অক্টোবর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন