২৫ অক্টোবর ২০১৭


দুর্ভোগের আরেক নাম কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক

শেয়ার করুন

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : সংস্কার না হওয়ায় চলতি বছরের দীর্ঘ বন্যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন এ অঞ্চলের চালক ও যাত্রীরা। খানাখন্দে ভরপুর এ সড়কটি যাত্রী ও চালকদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে পড়েছে।

এবার কুলাউড়ার উত্তর কুলাউড়া নামক স্থানে সড়কের ভাঙ্গাচুড়া অংশে গর্তে মালবোঝাই ট্রাক ও যাত্রবাহী বাস আটকে পড়ায় এ রুটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ২১ অক্টোবর (শনিবার) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখাপর্যন্ত কুলাউড়াসহ জেলা সদরের সাথে বড়লেখা-জুড়ীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ রুটে চলাচলকারী গাড়ি আটকে প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।

জানা যায়, সম্প্রতি টানা বন্যার পানিতে কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের অনেক জায়গা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এ সড়কের অনেক স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। দির্ঘদিন পানি নেমে যাওয়ার পরও পূর্ণ সংস্কার না করে শুধু ইট-বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করে রাখা হয়। বৃষ্টি হলেই পানি জমে আবারও সেসব স্থানে গর্ত তৈরী হয়। সড়কের বেহাল দশায় প্রায়ই গাড়ি আটকে যাওয়াসহ ছোট বড় নানা দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় বলে জানান এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকেরা।

তাছাড়া যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়াও গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার উত্তর কুলাউড়া নামক স্থানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যখানে একটি মালবোঝাই ট্রাক গর্তে আটকা পড়ে। এরপর থেকে ঝুঁকি নিয়ে সড়কের দুই পাশ দিয়ে যান চলাচল করছিল। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং দুদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে সড়কের ভাঙ্গাচোরা ওই অংশে পানি জমে বেহাল অবস্থা হয়ে পড়ে। শনিবার ভোরে নেত্রকোনা থেকে বিয়ানীবাজারগামী যাত্রীবাহী বাস সড়কের বাম পাশে ও সকাল ৯টার দিকে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি বাস সড়কের ডান পাশে গর্তে আটকে পড়ে। এতে এ রুটে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় আটকে পড়া গাড়ির দুইপাশে প্রায় দুইশতাধিক গাড়ি আটকা পড়ে আছে। এতে সকাল থেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। জুড়ীগামী সিএনজি অটোরিকশা চালক দেলওয়ার হোসেন, সুলতান মিয়া বলেন আটকে পড়া ট্রাকের পাশ দিয়ে কোনরকম ঝুঁকি নিয়ে সকালে গাড়িতে গ্যাস ভরার জন্য কুলাউড়ায় এসেছিলেন। ফিরে যাওয়ার সময় এসে দেখেন তিনটি গাড়ি এক জায়গায় গর্তে আটকে পড়ায় রাস্তা বন্ধ রয়েছে। অনেকক্ষণ ধরে বসে আছেন তাঁরা।

তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ বন্যায় এ রুটের কয়েকটি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্তৃপক্ষ এসব ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার না করায় প্রতিনিয়ত তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন এবং গাড়িও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁরা আরও বলেন গতকাল (শুক্রবার) সকালে মালবোঝাই ট্রাক সড়কের মধ্যখানে আটকে যাওয়ার একদিনপেরিয়ে গেলেও গাড়িটি সরানোর কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের চালক মো. ইউনুছ বলেন সকাল ৯টার দিকে এসে দেখেন গাড়িগুলো আটকে যাওয়ায় সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় গাড়িতে থাকা যাত্রীদের টিকেটের টাকা রিটার্ণ দিয়েছেন।

বড়লেখা থেকে মৌলভীবাজারগামী যাত্রী আহসান হোসেন ও জহিরুল আহমদ বলেন, সিএনজি আটোরিকশা ভাড়া করে যাচ্ছিলাম। এখানে অনেকক্ষণ ধরে বসে উপায় না দেখে ভাড়া করা গাড়ি ছেড়ে দিয়েছি। এখন কুলাউড়ায় গিয়ে গাড়ি ভাড়া করে যেতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার না করায় দির্ঘদিন ধরে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া গাড়ি চালকদের দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের।

ইলেকট্রনিক কোম্পানী ফিলিপস্ এর পণ্যবাহী গাড়ি চালক মো. ছালাম বলেন, প্রায়ই কোম্পানির পণ্য নিয়ে এসড়ক দিয়ে যেতে হয়। রাস্তা ভাঙ্গা তাই গাড়ি চালাতে খুবই কষ্ট হয় এবং সময়ও বেশি লাগে। আজ সকালে বড়লেখায় পণ্য দিয়ে ফেরার পথে এখানে আটকা পড়েছি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সড়ক ও জনপথের শ্রমিক আব্দুল হান্নান জানান, আমরা ট্রাকে করে সরঞ্জামাদি নিয়ে এসেছি। আটকে থাকা গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হলে ইট-বালু দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করে দেব।

ঘটনাস্থলে থাকা কুলাউড়া থানার এস আই আনোয়ার হোসেন সন্ধ্যায় মোবাইলে বলেন, আটকে পড়া বাস সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু ছোট গাড়ি চলাচল করছে। গর্তে পড়া পণ্যবাহী ট্রাক এর পণ্য আনলোড করে সেটিও সারনোর কাজ চলছে। ঘণ্টাখানেক এর মধ্যে সেটিও সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

এব্যাপারে মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপদের প্রকৌশলী মিন্টু চৌধুরী মোবাইলে বলেন, গাড়ি আটকে যান চলাচল বন্ধের খবর পেয়েছি। সড়ক ও জনপদের লোক সেখানে রয়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক আপাতত ইট বালু দিয়ে যান চলাচলের উপযোগী রাখছি।

তিনি বলেন, এগুলো সংস্কারে প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ের নিকট বরাদ্দের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বন্যায় সড়কের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বড়লেখায়, সেগুলো সংস্কার করা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে জুড়ী, কুলাউড়ায় সড়ক সংস্কার করা হবে।

 

(আজকের সিলেট/২৫ অক্টোবর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন