২৪ অক্টোবর ২০১৭


কুলাউড়ায় ঘুমন্ত স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

শেয়ার করুন

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : কুলাউড়ায় ব্রাহ্মণবাজারে শ্বশুড় বাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী রফিক মিয়ার। সোমবার রাতে তিনি স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩০) কে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

এসময় বাধা দিতে গিয়ে রফিক মিয়ার শ্বাশুড়ি সোনাজান বিবি (৫৫) ও শ্যালিকা নাজামা বেগম সোনিয়া (১২) আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কাজলধারাস্থ আদমপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। রাত ১টার দিকে শ্বশুড় বাড়ির পাশের একটি বিল থেকে স্থানীয় জনতার সহযোগীতায় রফিক মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র ও আহত সোনাজনবানু জানান, সোমবার রাতে উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কাজলধারাস্থ আদমপুর গ্রামের তাহির মিয়ার স্ত্রী সোনাজানবানু, বড় মেয়ে নাছিমা বেগম ও ছোট মেয়ে নাজমা বেগম রাত ৮টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাসিমার স্বামী রফিক বেড়া ভেঙ্গে ঘরের ভেতর ঢুকে নাছিমাকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এসময় তাঁরা (সোনাজানবানু ও নাজমা) টের পেয়ে বাঁধা দিতে চাইলে রফিক তাদেরকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরী কোপাতে থাকে। এতে নাজমার পেট কেটে ভুড়ি বের হয়ে যায় এবং সোনাজানবানু’র হাটু কেটে যায়। তাদের চিৎকার শুনে আশেপাশের বাড়ির লোকজন ছুটে এলে রফিক পালিয়ে যায়। পরে আহত সোনাজানবানু ও নাজমাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সোহেল আহমদ নাজমার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেনাজানবানু ও তাঁর ছেলে গিয়াস মিয়া জানান, একই ইউনিয়নের লোহাইউনি গ্রামেরতাজুল মিয়ার পুত্র রফিক মিয়ার সাথে নাসিমার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ৪টি ছেলে সন্তান রয়েছে। কয়েকদিন ধরে নাছিমার সাথে রফিকের মনোমালিন্য চলছিলো। গত দু’সপ্তাহ আগে রফিক নাছিমাকে চার ছেলেসন্তানসহ বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

ব্রাহ্মণবাজারের স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কুলাউড়া থানার ওসি তদন্ত বিণয় ভূষণ জানান, আহতদের হাসপাতলে পাঠানো হয়েছে। রফিক মিয়াকেও আটক করা হয়েছে।

 

(আজকের সিলেট/২৪ অক্টোবর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন