৬ জুলাই ২০১৭


জগন্নাথপুরে ফসল ডোবানো এবার সড়ক ডুবালেন সেই ঠিকাদার

শেয়ার করুন

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি সড়কের কাজ অসমাপ্ত রেখে জনগণকে অবর্ণনীয় কষ্ট দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। ওই ঠিকাদারের অবহেলার কারণে হাওরের বোরো ফসলহানি হয়েছিল। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের ফলে ভাঙাচুরা এই সড়কটি এখন পানিতে ডুবে যাচ্ছে। সড়কের অধিকাংশ স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যানবাহন চলাচল করছে। যে-কোনো মুহূর্তে সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে ।

এলাকাবাসী জানান, গত বছর জগন্নাথপুর উপজেলার ভবেরবাজর-নয়াবন্দর- গোয়ালাবাজার সড়কের ১১ কিলোমিটার অংশে চার কোটি ২০ লাখ টাকার কাজের ঠিকাদারি পায় সজিব রঞ্জন দাশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই ঠিকাদার জগন্নাথপুরের নলুয়া ও মইয়ার হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের বরাদ্দ নিয়ে সময়মতো কাজ না করায় হাওর তলিয়ে যায়।

জানা গেছে, সজিব রঞ্জন দাশের ব্যবসায়িক অংশিদার (সাব কন্ট্রাকটর) জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য সৈয়দ মাসুম আহমদ কাজ নিয়ে কিছু কাজ করে অধিকাংশ কাজ ফেলে রেখেছেন।

২০১৬ সালের ১৩ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ওই সময়ে কাজ শেষ হয় মাত্র ৩৫ শতাংশ। তাও আবার নিয়ম অনুয়ায়ী ৫০০ মিটার ভাঙার পর ৫০০মিটারের কাজ শেষ করে আরো নতুন ৫০০ মিটার ভাঙার কথা থাকলেও মেশিনের টাকা বাঁচাতে পুরো সড়কের অংশ ভেঙে রেখেছেন।

এলজিইডির ওই প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, আমরা চার বার ঠিকাদারকে তাগিদপত্র দিয়ে কাজ শেষ করানোর চেষ্টা করে ৩৫ শতাংশ থেকে ৪২ শতাংশ কাজ করিয়েছি। গত বছরের অক্টোবর মাসে চুক্তি বাতিলের চিঠি দিলে ঠিকাদার ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়ে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়। ওই সময়ে আরো কিছু কাজ করেন। পরবর্তীকালে আরো তিন মাস সময়বৃদ্ধির আবেদন করেন। আদালত আরো তিন মাসের সময় বাড়িয়ে দেন। যার সময়সীমা উত্তীর্ণ হয় গত ৩০ মে। ওই সময়ে কাজের বিল উত্তোলন করেন ১ কোটি ৯৭ লাখ ৯২ হাজার ৫৪২ টাকা।

কিন্তু আদালতের সময়সীমা ও নির্দেশনার সময় পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদার কাজ ফেলে এলাকার লাখো মানুষকে জনদুর্ভোগে ফেলে রেখেছেন।

এদিকে গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই সড়ক পরির্দশন করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব।

আশারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাবেদ চৌধুরী জানান, ভবেরবাজার-নয়াবন্দর-গোয়ালাবাজর-কাঠালখাইড় সড়কের দুর্ভোগের কথা বর্ণনা করার ভাষা নেই। বড় যানবাহন চলাচল অনেক দিন ধরে বন্ধ। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে সড়কের অধিকাংশ জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে। যে-কোনো মুহূর্তে সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেথে পারে।

ওই সড়কের কাজের দায়িত্বে থাকা সাব-কন্ট্রাক্টর সৈয়দ মাসুম আহমদ জানান, দরপত্রের সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই। কাজ শুরু করার সময় সড়কের ক্ষতি হয়েছে। সড়কের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয়ের প্রমাণপত্র অফিসে জমা আছে। আমি যেটুকু কাজ করেছি ওই কাজের বিল না দিয়ে কাজ বাতিলের চিঠি দেয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত থেকে সময় পাই। ওই প্রাপ্ত সময়ের মধ্যে কাজ করি। এরপর বৃষ্টি হওয়ায় আর কাজ করাতে পারিনি।

জগন্নাথপুরের এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, সড়কটির কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে অনেক আকুতিমিনতি করেছি। তিনি নিজেও উক্ত সড়ক নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সড়কের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।

জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, সড়কে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কিছু সংস্কার কাজ করার সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে।

 

(আজকের সিলেট/৬ জুলাই/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন