২৯ অক্টোবর ২০১৭


ঘরের আগুনে পুড়ছে বিয়ানীবাজার আওয়ামীলীগ

শেয়ার করুন

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের অধীনস্থ বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটিতে কোন্দল ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আকস্মিক এ কোন্দল জিইয়ে ওঠায় তৃণমূলে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ছে ক্ষমতাসীন এই দলটি। উপজেলার লাউতা, মুল্লাপুর, তিলপাড়া ও শেওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য এ কোন্দল আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন রাজনীতি সচেতন নেতৃবৃন্দ।

ইউনিয়নভিত্তিক দলীয় কোন্দলের কারণে গত ইউপি নির্বাচনে মুল্লাপুর, লাউতা ও তিলপাড়ায় নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। শেওলায় শুধু আঞ্চলিক কারণে নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করলেও উপজেলা নির্বাচনে এ ইউনিয়ন থেকে বিএনপি দলীয় প্রার্থী বেশি ভোট লাভ করেন।

শেওলায় কাউন্সিল ছাড়া কমিটি গঠন নিয়ে একটি পক্ষ শুরু থেকে নাখোশ। ওই পক্ষ জেলা এবং উপজেলা নেতৃবৃন্দের কাছে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের জন্য বহু আবেদন-নিবেদন করে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন দলীয় রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। সূত্র জানায়, শেওলা ইউনিয়ন কমিটি গঠনের জন্য নির্ধারিত তারিখে কাউন্সিলস্থল শেওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ অবস্থায় পরে কাউন্সিল হবে জানিয়ে সম্মেলন মুলতুবি করে চলে আসেন জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীকালে কাউন্সিল ছাড়াই তারা একপক্ষের ফখরুল ইসলামকে সভাপতি এবং তারেক আহমদ খানকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে কমিটি ঘোষণা করেন। এতে অপরপক্ষের সভাপতি প্রার্থী ছালিক আহমদ খান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কামাল হোসেন পক্ষ কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণার দাবি জানায়। কিন্তু তাদের সে দাবি উপেক্ষিত থাকে। এতে ক্ষুব্ধ ওই পক্ষের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন।

এ বিষয়ে সভাপতি প্রার্থী ছালিক আহমদ খান জানান, ‘কাউন্সিল ছাড়া উপজেলা পর্যায়ের দু’একজন নেতার প্রভাবে যে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা নেতাকর্মীরা মেনে নিচ্ছেন না।’ তিনি বলেন ‘নেতাকর্মীরা এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে শেওলায় একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি ঘোষণা করেছে। আমরা সেই কমিটির ছায়াতলে আছি।’

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল জানান, ‘কাউন্সিল না করে কমিটি গঠনের বিষয়টি আমি জেলা নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছি। আগামী বর্ধিত সভায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হবে।’

মুল্লাপুরে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কমিটির দায়িত্বকালে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীর লজ্জাজনক পরাজয় ঘটে। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে মুল্লাপুর ইউনিয়ন কমিটি অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এ কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন বদরুল ইসলাম বদই ও সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন আব্দুল গফুর জগলু। মুল্লাপুরে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. সারওয়ার হোসেনের বাড়ি। এ ইউনিয়নে তার একটি নিজস্ব বলয় বেশ সক্রিয় রয়েছে।

লাউতায় প্রায় দুই বছরের বেশি সময় থেকে আহবায়ক কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দলীয় রাজনীতিতে পদবি দিয়ে মূল্যায়ন করা হলেও সেখানে আওয়ামী রাজনীতি একদম নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। গত ইউপি নির্বাচনে লাউতায় আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন বিদ্রোহী প্রার্থী। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের শেষ নেই।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামিল আহমদ জানান, ‘তিন মাসের জন্য আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর প্রায় দুবছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের সম্মেলন হয়নি। আমরা এ বিষয়ে উপজেলা নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছি। কিন্তু তারা জেলার সম্মতি না পাওয়ায় এখানে সম্মেলন আয়োজন করতে পারছেন না বলে আমাদের জানিয়েছেন।’ তিনি নিজেও দলের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেন।

লাউতায় দলীয় কার্যক্রম একদম স্থবির হয়ে পড়ার কথা স্বীকার করে যুগ্ম আহবায়ক মো. কমর উদ্দিন জানান, ‘আসলে সম্মেলন হওয়া না হওয়ার পেছনে আমাদের কোনো হাত নেই। এটা সম্পূর্ণ উপজেলা নেতৃবৃন্দের বিষয়। তারা চাইলে যে কোনো সময় সম্মেলন করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

তিলপাড়ায় পাল্টাপাল্টি সভার মাধ্যমে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোন্দল প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। একপক্ষ তলবি সভা করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপর অনাস্থা প্রকাশ করেছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ জানান,‘বহিষ্কৃতদের নিয়ে সভা করে যারা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকান্ড করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কমিটি বিদ্রোহ করে ভেঙে দেয়া যাবে না। সূতরাং আওয়ামী লীগে আসতে হলে পারিবারিকভাবে জামায়াত-বিএনপির সঙ্গ ছাড়তে হবে।’

এদিকে তলবি সভা আহবান প্রসঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রমিজ উদ্দিন জানান, ‘গত বছর কমিটি অনুমোদন হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি সভাপতি-সম্পাদক কোনো সভা ডাকেননি। এমনকি সংগঠনের ৬৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির কোনো পদে কে আছেন, তাও জানে না কেউ। এ অবস্থায় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ নিরসনে আমরা তলবি সভার আহবান করি।’

সার্বিক বিষয় নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান বলেন, ‘লাউতায় ওয়ার্ড কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় কাউন্সিল করা যাচ্ছে না। তাছাড়া শেওলায় কোনো পাল্টা কমিটি নেই। যাদের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিলপাড়ার বিষয়টি আমরা দেখব। এসব নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

 

(আজকের সিলেট/২৯ অক্টোবর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন