২৯ অক্টোবর ২০১৭


বহুমূখি সংকটে ওসমানীনগরের রাউৎখাই প্রাইমারী স্কুল

শেয়ার করুন

জুবেল আহমদ সেকেল, ওসমানীনগর থেকে : ওসমানীনগরের রাউৎখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষের অভাব ও অবকাঠামো না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। একটিমাত্র কক্ষ নিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি। একসঙ্গে একই কক্ষে ঠাসাঠাসি করে তিন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। এতে যেমন লেখাপড়ায় উৎসাহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তেমনি সুষ্ঠু পাঠদান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা।

এদিকে, ১৩৭ বছরের প্রাচীন বিদ্যালয়ের এমন দৈন্যদশায় অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের পাশের প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করছেন।

১৮৮০ সালে রাউৎখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৮ সালে স্থানীয় এক দাতার উদ্যোগে আধাপাকা একাডেমিক ভবন নির্মিত হয়। কিন্তু ভবনটি এখন জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী। ১৯৯৬ সালে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মিত হয়। এ ভবনে কোনোমতে চলছিল পাঁচটি শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ২০১৩ সালের ২২ মে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনেই পাঠদান চলছিল।

২০১৭ সালে প্রশাসন ভবনটিতে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ায় ১৯৬৮ সালে নির্মিত ভবনের একটি কক্ষ মেরামত করে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করা হচ্ছে। প্রথম থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং ১২টার পর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি ৯০জন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে ঠাসাঠাসি করে পাঠদান চলে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয়। বিদ্যালয়ে শুধু ভবন সংকটই নয় রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। একটি নলকূপ থাকলেও পানি পরিশুদ্ধ নয়। স্যানিটেশন অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর না থাকায় শিক্ষার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার বৈশ্য বলেন, একটি মাত্র কক্ষে পাঁচটি ক্লাস নিতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার তিনটি শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে ঠাসাঠাসি করে পাঠদান চলে। এতে কাক্সিক্ষত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বালাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রকিব ভূঁইয়া বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা এলজিইডি অফিস যৌথভাবে বিদ্যালয়ের ছবিসহ ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে।

ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইনুল হক চৌধুরী বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার পদায়ন না হওয়ায় উপজেলায় শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এরইমধ্যে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কিছু বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

(আজকের সিলেট/২৯ অক্টোবর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন