৩১ অক্টোবর ২০১৭


তাহিরপুরে ৫০ পরিবার গ্রামছাড়া

শেয়ার করুন

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় হাফিজ উদ্দিন গ্রুপের ৫০ পরিবার গ্রাম ছেড়ে পাশের গ্রামগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই তাদের বসতভিটার স্থাপনা ছেড়ে নৌকাযোগে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, শনিবার নোয়ানগর গ্রামের আলী আকবর ও হাফিজ উদ্দিন পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আলী আকবর গ্রুপের সাথে হাফিজ উদ্দিন গ্রুপের লোকজন পরাজিত হয়। আলী আকবর গ্রুপের লোকজন রবিবার রাতে নোয়ানগর গ্রামজুড়ে প্রচারনা চালায় সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে হাফিজ উদ্দিন গ্রুপের লোকজন নোয়ানগর গ্রাম না ছাড়লে তাদের ওপর হামলা করা হবে। এমন ঘোষণা ছড়িয়ে পড়লে হাফিজ উদ্দিন পক্ষের ৫০ পরিবার সকাল থেকেই নোয়ানগর গ্রাম ছেড়ে পাশ্ববর্তী গ্রামগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।

এ বিষয়ে নোয়ানগর গ্রামের আলী আকবর জানান, হাফিজ উদ্দিন পক্ষদ্বয়ের সাথে আমাদের সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে গ্রাম ছেড়ে যেতে আমরা কোন ঘোষণা দেইনি।

দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিয়া হোসেন বলেন, সকাল থেকেই আমি দেখেছি- নোয়ানগর গ্রামের হাফিজ উদ্দিন গ্রুপের লোকজন তাদের নিজ গ্রাম ছেড়ে পাশের গ্রামগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি আরো জানান, ১২০ পরিবারের গ্রাম নোয়ানগর। এ গ্রামের ৫০টি পরিবার তাদের ছেলেমেয়েসহ নোয়ানগর গ্রাম ছেড়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে আশ্রয় নেয়ার ঘটনায় এ প্রভাব নোয়ানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়বে। বিদ্যালয়টি এখন ছাত্রশূন্য হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে।

গ্রাম ছেড়ে যাওয়া পরিবারগুলো হলো- আজগর আলী, খুরশিদ আলী, হাফিজ উদ্দিন, লোকমান মিয়া, দুলাল মিয়া, ফখর উদ্দিন, রিয়াজ উদ্দিন, কপিল উদ্দিন, সামছুল হক, গিয়াস উদ্দিন, ফারুক মিয়া, রতন মিয়া, নাঈম আহমদ, আবুল কাশেম, মিন্টু মিয়া, মতি মিয়া, কামাল হোসেন, আছিম উদ্দিন, ওয়াসিম মিয়া, স্বপন মিয়া, সাজিকুল মিয়া, আলীনূর, সিরাজুল হক, সাজিকুল হক, আলখাছ উদ্দিন, হারিছ উদ্দিন, ময়না মিয়া, আশরাকুল মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, হবিকুল, হাবিদ আলী, বাবলু মিয়া, শাহিন মিয়া, জয়নাল আবেদীনসহ ৫০ পরিবার নিজ গ্রাম নোয়ানগর ছেড়ে বাড়িঘর ফেলে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গরুবাছুর নিয়ে পাশ্ববর্তী মারালা, কান্ডব পুর ও সাহেব নগর গ্রামে নতুন করে বসতি স্থাপনের জন্য চলে গেছেন। আবার অনেকেই বসতির স্থাপনা নিয়ে তাদের শ্বশুরালয়ে চলে যাচ্ছেন। বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় নোয়নগর গ্রামে তাদের কান্নার মাতম ও হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার নোয়ানগর গ্রামের আকবর আলী ও হাফিজ উদ্দিন পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৪০ আহত হয়েছিল।

এ ব্যাপারে নোয়ানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুবাশ্বির আলম বলেন, বিদ্যালয় স্ক্যাচম্যাপ এলাকার পরিবারগুলো অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে যাবে।

 

 

(আজকের সিলেট/৩১ অক্টোবর/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন