২৪ জুলাই ২০১৭


যাদুকাটা নদীতে হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দৃষ্টি নন্দন সেতু

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার কাংঙ্খিত স্বপ্ন পুরণে সীমান্ত এলাকা যাদুকাটা নদীতে শাহ আরেফিন নামে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দৃষ্টি নন্দন সেতু নির্মাণ হতে যাচ্ছে। সেতুটি নির্মাণে দরপত্র আহবান করায় এলাকাবাসীর মাঝে খুশির বন্যা বইছে। সেতুটি নির্মিত হলে জেলা বিভাগসহ ঢাকার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা তাহিরপুর সাজবে নতুন সাজে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটি নির্মাণের দাবী এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, সেতু নির্মাণের জন্য গত মঙ্গলবার দরপত্র আহবান করা হয়েছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৫০ মিটার ও প্রস্ত ৫.৮৩ সে. মিটার। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৭ কোটি টাকা। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করা হবে বলে জানিয়েছেন এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, এলাকাবাসীর দীর্ঘ ধরে পাহাড়ী নদী যাদুকাটার উপর সেতু নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছেন। দাবীর সাথে সহমত প্রকাশ করে স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সংসদে নদীতে সেতু নির্মাণের জোরালো দাবী উত্থাপন করেন। দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার যাদুকাটা নদীতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। গত মঙ্গলবার সেতু নির্মাণের দরপত্র আহবান করায় জেলার হাওরপারের মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সেতুটি শাহ আরেফিন নামে নামকরন হওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে কোন দ্বিমত নেই। সেতুটি নির্মাণে সাইড নিয়ে প্রথম দিকে মত বিরোধ সৃষ্টি হয়।

একপক্ষ লাউড়েরগড় আরেকপক্ষ বিন্নাকুলিতে দাবী তুলে। অবশেষে বিন্নাকুলি বাজারের দক্ষিণ পাশে সেতুটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। সেতুটি নির্মাণ হলে ধর্মপাশা-মধ্যনগর, মহেষখলা, তাহিরপুর টেকেরঘাট, লাউড়-সুনামগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এবং সরাসরি ঢাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ হবে। পর্যটন এলাকা তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর, বারিক টিলা, শিমুলবাগান, যাদুকাটা নদী, মেঘালয় পাহাড়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকন করতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে। বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক ষ্টেশন হয়ে উঠবে ব্যবসায়ীদের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রাণ ফিরে পাবে টেকেরঘাটের চুনাপাথর খনিজ প্রকল্প। বদলে যাবে সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আপ্তাব উদ্দিন বলেন, যাদুকাটা নদীতে সেতু নির্মাণের দরপত্র হওয়ায় আমি মহাখুশি। সেতুটি নির্মিত হলে সরাসরি রাজধানীর সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পর্যটন এলাকায় পর্যটকদের পদচারণায় বদলে যাবে মেঘ পাহাড়ের দেশ। আমি চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতু নির্মিত হোক।

তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, সেতুটি নির্মিত হলে সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা নতুন রূপে সেজে উঠবে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপুর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। আমি চাই শীঘ্রই কাজ শুরু হয়ে সঠিক সময়ে সেতুটি নির্মিত হবে।

 

 

(আজকের সিলেট/২৪ জুলাই/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন