২৭ জুলাই ২০১৭


সিলেটের ৬টি আসনে জাপার মনোনয়ন চান ২১ প্রার্থী, থাকছেন এরশাদও

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটকে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ.এম এরশাদ। একসময় এই অঞ্চল ছিল এরশাদের ঘাটি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এখন আর সেই আগের অবস্থান নেই। তবুও হাল ছাড়তে নারাজ সাবেক এই সেনা শাসক। এবার সিলেটের সকল আসনে প্রার্থী দেয়ার পাশাপাশি তিনি নিজে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান।

এক সময় সিলেট বিভাগের ১৯ আসনেই প্রার্থী দিয়েছিলেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু গত নির্বাচনে সিলেটের সবকটি আসনে প্রার্থী দিতে ব্যার্থ হয় দলটি।

তবে এবার বিষয়টি পুরুপুরি বিপরীত নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় শুরু হয়েছে প্রার্থীদের তোড়জোড়। দলীয় কর্মসূচি পালন হচ্ছে কী না, কর্মসূচি পালন করা প্রয়োজন কী না-এর চিন্তা না করেই প্রার্থী হতে মরিয়া হয়ে ওঠছেন তাঁরা। কোনো কোনো নেতা বছরের পর বছর প্রবাসে অবস্থান করে ঠিক নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে সংসদ সদস্য প্রার্থী হচ্ছেন বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কেউ কেউ নেতৃত্বকে ম্যানেজ করে পার্টির বাহারি পদও বাগিয়ে নেন।

আগামী সংসদ নির্বাচনের বছর দেড়েক সময় বাকি থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনই নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন। সিলেটের রাজপথে বর্তমানে কর্মসূচিবিহীন জাতীয় পার্টির অবস্থা কোমরভাঙা হলেও আগামী সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ৬ আসনে ২১ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আগামী সংসদ নির্বাচনে সদর ও দক্ষিণ সুরমার একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ ১ আসসে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ নিজে প্রার্থী হবেন। যদিও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে এরশাদ প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি প্রার্থী হননি। এবার এ আসনে এরশাদ প্রার্থী হবেন বলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘স্যারের ইচ্ছা আছে। তিনি এ আসনে নির্বাচন করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
এহিয়া চৌধুরী বলেন, সিলেট-১ আসন অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে সবসময় হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচন করেন। স্যার সিলেটকে আলাদাভাবে দেখেন। সিলেটের প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি তাঁর অন্যরকম একটা টান রয়েছে। সে হিসেবে আমরা ধারণা করছি, এবার তিনি এ আসনে প্রার্থী হবেন।’

দলের অপর আরেকটি সূত্র জানায়, এ আসনে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ প্রার্থী না হলে তাঁর সাবেক উপদেষ্টা ও সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা বাবরুল হোসেন বাবুলকে প্রার্থী করা হতে পারে। এ আসনে দলের মনোনয়ন চাইবেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমেদও।

বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চাইবেন ৪ জন প্রার্থী।

তাঁরা হলেন, দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও এ আসনের বর্তমান এমপি ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া, সাবেক এমপি মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, জাপার সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী এবং কেন্দ্রীয় সদস্য যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী।

দক্ষিণ সুরমার একাংশ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ৬ জন। তাঁরা হলেন, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, জেলা জাপার সদস্য সচিব উছমান আলী চেয়ারম্যান, মহানগর জাপার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কাইয়ূম, যুক্তরাজ্য জাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা এবং যুক্তরাজ্য প্রাবাসী জাপা নেতা ব্যারিস্টার ইম্মানুল হামিদ এনাম ও মুহিদুর রহমান।

জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসনে জাপার মনোনয়ন চাইতে পারেন দুজন। তাঁরা হলেন, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান ও প্রবাসী জাপা নেতা ইসমাইল আলী আশিক।

কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসনে জাপার মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী চারজন। তাঁরা হলেন, বিরোধীদলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন এমপি, দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাব্বির আহমদ, কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ ও জাপা নেতা, শিল্পপতি জাকির আহমদ।

গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন জাপার দু’জন। তাঁরা হলেন, বিরোধীদলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন এমপি ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন এমপি বলেন, দল যদি দুটি আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে তিনি দুটি আসনেই নির্বাচন করবেন।

অপর নেতা এটিইউ তাজ রহমান বলেন, তিনি দুটি আসনে মনোনয়ন চাইবেন। দল চাইলে দুটিতেই নির্বাচন করবেন। সর্বোপরি দলের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন।

 

 

(আজকের সিলেট/২৭ জুলাই/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন