৯ নভেম্বর ২০১৭


সিলেটে অবৈধ পাথর উত্তোলনে ১০ মাসে ২৮ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে গত ১০ মাসে সিলেটে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই পাথর শ্রমিক। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১১ শ্রমিক। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সকালে সিলেটের কানাইঘাটে পাথর উত্তোলনকালে ভূমি ধসে মারা যান ৬ জন।

সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচপালক সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সিলেটের বিভিন্ন পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া সিলেটে পাহাড় টিলায় কাটায় উচ্চ আদালতের নিধেঅজ্ঞা রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই গোপনে পাথর উত্তোলন করে একশ্রেণীর অসাধূ ব্যবসায়ীরা। দরিদ্র শ্রমিকদের এ কাজে ব্যবহার করে তারা। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড়-টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের ফলে বিভিন্ন সময় টিলা ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই, মামলা করি, তবু পাথর উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না।

পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার জানান, গত ১০ মাসে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকালে ২৮ জনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে ২৩ জানুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা ধসে ৫ জন, ১ ও ১১ ফেব্রুয়ারি একই টিলা ধসে ২ জন, শাহ আারেফিন টিলা ধসেই ২ ও ৬ মার্চ, ২০ জুলাই এবং ২৬ অক্টোবর আরো ৪ জন মারা যান।

গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দিতে পাথর উত্তোলনকালে গত ১০ ফেব্রুয়ারি মারা যান ৩ শ্রমিক। একই উপজেলার জাফলংয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২ জন, ২১ ফেব্রুয়ারি ২ জন এবং ৮ মার্চ ও ১৬ মার্চ ৩ জন শ্রমিক মারা যান এছাড়া কানাইঘাটের লোভাছড়ায় পাথর উত্তোলনকালে মারা যান আরও এক শ্রমিক।

এদিকে, সিলেটের পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের নেতারা বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে ‘জরুরী ভিত্তিতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- সুজন-সিলেটর সভাপতি ফারুক মাহমুদ মাহমুদ চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম, ব্লাষ্ট সিলেট ইউনিটের সমন্বয়ক মোঃ ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, সনাক-সিলেটের সভাপতি আজিজ আহমেদ সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি-সিলেটের সভাপতি সৈয়দা শিরীন আক্তার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম ও বেলা’র সিলেট বিবঅগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার।

বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, ‘অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন দিন দিন বেড়েই চলছে। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত অবস্থা এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন কালে শাহ আ্রফিনটিলা, জাফলং, বিছনাকান্দি ও লোভাছড়া ও বাংলাটিলাতে চলতি বছর ২৮ জন পাথর শ্রমিক নিহত এবং ১১ জন পাথর শ্রমিক আহত হন। পাথর উত্তোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শ্রমিক মৃত্যু থামানো যাবে না।’

এদিকে, মঙ্গলবার কানাইঘাটে ৬ জন নিহতের ঘটনায় রাতেই ৮ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কানাইঘাট থানার উপর পরিদর্শক রাজিব মন্ডল বাদী হয়ে ধসে পড়া বাংলা টিলার ইজারাদার আহমেদ সুলায়মানসহ ৮ জনকে আসামী করে এ মামলা দায়ের করা হয় বলে জানান কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ।

তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাাতালের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বিকেলে নিজ এলাকায় তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন গঠিত দুটি তদন্ত কমিটিও বুধবার থেকে কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত লোভাছড়ার পাশে অবস্থিত বাংলা টিলার নিচ অংশ থেকে অবৈধ ভাবে মাটি খুড়ে পাথর উত্তোলনের সময় মাটি চাপা পড়ে মারা যায় ৫ শিক্ষার্থীসহ ৬ জন।

 

(আজকের সিলেট/৯ নভেম্বর/ডি/এসটি/ঘ)

শেয়ার করুন