১৩ নভেম্বর ২০১৭


ইব্রাহীমপুর-চৌমুহনী সড়ক যেন মরণফাঁদ

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর-সৈয়দপুর-চৌমুহনী এলাকায় ৭ কি.মি. সড়ক এখন ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কটি সংস্কারের অভাবে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী লাখো মানুষ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ সড়ক দিয়ে ইব্রাহীমপুর থেকে ডলুরা শহিদ মিনারে যাওয়ার অন্যতম সহজ মাধ্যম। সড়কের যথাযথ উন্নয়ন হলে কম সময়ে এবং কম খরচে মাত্র বিশ মিনিটে ডলুরা যাওয়া সম্ভব। কিন্তু শহরবাসী বা বাইরের লোকজন বিকল্প সড়কে হালুয়ারঘাট হয়ে ডলুরা শহিদ মিনার যেতে খরচ পড়ে চার গুণ বেশি, সময়ও লাগে বেশি এবং ভোগান্তিও বেশি।

স্থানীয়রা জানান, ২০১১ সালের দিকে ইব্রাহীমপুর থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত সড়কের সর্বশেষ কাজ হয়েছিল। কাজটি করিয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন এমপি। সড়কে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় ২-১ মাস পর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়।

গত দু বছর আগে জাতীয় পার্টির এমপি সৈয়দপুর থেকে ঝরঝরিয়া পর্যন্ত আরও ১ কিলোমিটার সড়কের পাকাকরণের ব্যবস্থা করেন। এর আগে বিএনপির আমলে সৈয়দপুর গ্রামের মধ্যে ১ কিলোমিটার সড়কের পাকাকরণ হয়। কিন্তু কোনো সময় সড়কের সংস্কার কাজ ভালো না হওয়ায় অল্পদিনে ভাঙাচোরা সড়কে পরিণত হয়। এখনও এ সড়কের আমপাড়া এলাকায় ৩ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে।

এ সড়ক যতটুকু পাকাকরণ ছিল, তা ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে পড়েছে প্রায় সকল স্থানে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অসংখ্য গর্ত। যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে সড়কটি। গাড়ি বা মোটরসাইকেলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এ সড়কে।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের স্কুল ও কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ শহরে আসা যাওয়া করেন। এ ছাড়াও শহরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সড়কে যাতায়াত করতে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হন।

এ সড়কের মোটরসাইকেল, অটোরিকশাচালক ও সিএনজি চালক জসীম উদ্দিন, নবীর হোসেন, আবুল হোসেন, মো. শাহাজালাল ও সামছুল হক বলেন, আমরা যদি গাড়ি চালিয়ে একবার চৌমুহনী থেকে ইব্রাহীমপুর গ্রামে আসি, তখন দেখা যায় সড়কের উপর বেরিয়ে পড়া রডে গাড়ির চাকা ছিদ্র হয়ে গেছে। এছাড়াও নানা সমস্যা দেখা দেয় গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে।

হুড়ারকান্দা গ্রামের ইবনে মোমেন গণি ও সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা নাদির শাহ বলেন, এলাকার লাখো মানুষের অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। কিন্তু সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে সড়কটি। অতি জরুরি প্রয়োজনে এ সড়কে যাতায়াত করতে হয় আমাদের। আমরা জরুরিভিত্তিতে সড়কের উন্নয়ন চাই।

সৈয়দপুর গ্রামের কাশেম আলী মোড়ল বলেন, আমরা বয়স্ক মানুষ এ সড়ক দিয়ে একবার মোটরসাইকেলে যাতায়াত করলে অসুস্থ হয়ে পড়ি। সড়কটি সংস্কারে কেউ এগিয়ে আসেননি।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সড়কটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

 

(আজকের সিলেট/১৩ নভেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন