১৮ নভেম্বর ২০১৭


নগরজুড়ে প্রকাশ্যে চলছে ভারতীয় তীর খেলা

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : পাকা টিনশেড ঘর। দুটি চেয়ারে বসে আছেন দুজন যুবক। সামনের টেবিলে আছে কাগজের কিছু টুকরো। গ্রাহকরা আসছেন সারি বেঁধে। চেয়ারে বসা যুবকরা তাদেরকে ১০ টাকার বিনিময়ে একটি টোকেন দিচ্ছেন। কেউবা নিচ্ছেন কয়েকটি। এমনকি কেউ কেউ একসাথে ৫০টি টোকেনও নিচ্ছেন। এ যেন কোনো যানবাহনের অথবা চিকিৎসকের টিকিট কাউন্টার। কিন্তু আসলে এই টোকেন হচ্ছে শিলং তির খেলার। এমন দৃশ্য নগরীর শতাধিক স্থানে এমনি খোলামেলাভাবে চলছে শিলং তিরের জমজমাট মচ্ছব।

নগরীতে খোলাখুলিভাবে এমন শিলং তির খেলার কথা পুলিশ জানে না, তা নয়। পুলিশের কতিপয় নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কনস্টেবলকে ম্যানেজ করেই শিলং তিরের মচ্ছব চলছে। অথচ তির খেলার মাধ্যমে জুয়ার আসরের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা করেছিল মহানগর পুলিশ। এর অংশ হিসেবে গোয়েন্দা পুলিশের ব্লকরেইডও চলেছে।

পুলিশ সূত্রমতে, গত কয়েক মাসে সিলেটে অন্তত শতাধিক জুয়ার আসর বন্ধ করে দেয়া হয়। আর এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি প্রশংসার দাবিদার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু জুয়ার আসর বন্ধ করা হলেও ফাঁড়ি ও গোয়েন্দা পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যদের কারণে তির খেলা ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো সিলেটের আনাচে-কানাচে।

শিলং তির খেলা শুধু সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়, ওইসব এলাকা ছাড়িয়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে নগরীর অলিগলিতে। এমনকি এ খেলা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায়ও। সিলেটের যে-কোনো এলাকায় বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিলং জুয়ায় বাজি ধরেন জুয়াড়িরা। এ খেলাটি সপ্তাহের ছয়দিনই বসে। প্রতিদিন দু বার এ খেলার ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ভাগ্যের জন্য দু-একজন পেলেও বাকিরা খালি হাতে ফিরেন জুয়ার বোর্ড থেকে। ০ থেকে ৯৯ জন এ খেলার নাম্বার নিলেও প্রতিদিন কেবল একজনই দেখা পান কথিত ভাগ্যের চাকার। সেদিন তিনিই তিরের বোর্ডের বাদশা। অন্যরা সেদিনের জন্য জিরো।

মাঝে মধ্যে এমন হিরোদের দেখা পেলেও জিরোদের সংখ্যাটাই বেশি। কারণ প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের শিলং থেকে প্রকাশিত ওয়েবসাইটে এ খেলার দুটি ফল প্রকাশ করা হয়। যেখানে প্রতি ২শ’ জনের মধ্যে ভাগ্যের দেখা পান মাত্র একজন। অন্যদের ফিরতে হয় শূন্য হাতে। তবুও তারা হার মানতে রাজি নন! রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পথের ফকির হতে চলেছেন। এ খেলার বিস্তার সিলেটে দিন দিন বেড়ে চললেও প্রশাসন ‘শিলং তির’ চক্রকে ধরতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। খোলাখুলিভাবে তারা টিকিট বিকিকিনি করছে।

এ যেন মারাত্মক এক নেশা। এমন নেশায় পড়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে রাস্তায় নেমেছেন। দিন শুরুর পর থেকেই নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের কাছ থেকে শুরু হয় নাম্বার কেনা। কেউ কিনেন সরাসরি। কেউবা ‘বিকাশ’ ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এ খেলায় অংশ নেন। টাকা হাতে চলে গেলে দিয়ে দেওয়া হয় কাক্সিক্ষত নাম্বার। সিলেটে তাদের এজেন্টের মাধ্যমে এ দেশীয় এজেন্টরা ভারতের এজেন্টদের সাথে জুয়ার আসরের সমন্বয় করে থাকেন।

আর ভাগ্যের খেলায় স্কুল-কলেজের ছাত্র, দিনমজুর, রিকশাচালক, যানবাহনের চালক-শ্রমিকসহ বেকার যুবকরা অংশ নিচ্ছেন। আর এতে অনেক স্কুলগামী ছাত্ররা স্কুল ফাঁকি দিয়ে এ খেলায় অংশ নিচ্ছে। এতে ছাত্রদের মনোযোগ বইয়ের পরিবর্তে জুয়ার প্রতি বাড়ছে। ইদানীং মহিলারাও এই খেলায় অংশ নিতে শুরু করেছেন। ‘মেঘ না চাইতে বৃষ্টি’র আশায় শিলং তিরের প্রতি মহিলারাও আকৃষ্ট হচ্ছেন। মহিলারাও ঘরে বসে এ খেলায় অংশ নেন। এ যেন ‘যদি লাইগা যায়’।

পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করেও দমন করা যাচ্ছে না ‘শিলং তির’। গ্রেপ্তারের পর জামিনে বের হয়ে পুনরায় ওই খেলায় জড়িয়ে পড়ছেন জুয়াড়িরা। ২০ থেকে ২৫ বছর পূর্বে ভারতীয় ধনকুবেররা এ খেলাটি আবিষ্কার করে। এর নাম রাখেন মেঘালয়ের আঞ্চলিক ভাষায় ‘তির খেলা’। পরে ধীরে ধীরে স্থানীয়ভাবে খেলাটিকে অনেকেই শিলং তির, ডিজিটাল নাম্বার খেলা ইত্যাদি নামে অভিহিত করে থাকেন।

জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধির পছন্দ না হলে অথবা জনপ্রতিনিধিদের কর্মীরা সন্তুষ্ট না হলে ভারতীয় তির খেলার স্পট (এজেন্ট) নেওয়া যায় না। অপর দিকে এসব এলাকার মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই এই তির খেলার নেপথ্য নিয়ন্ত্রণকারীর ভূমিকা পালন করছেন।

নগরীর বিভিন্ন ‘শিলং তির’ স্পট ঘুরে পাওয়া গেল বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিকেল থেকে শুরু হওয়া খেলার নিয়ম হচ্ছে ১ টাকায় ৭০ গুণ অর্থাৎ ৭০ টাকা। সারাদিনে এ খেলার ২টি বাজি টানা হয় একটা বিকেল ৫ টায় অপরটি সন্ধ্যা ৭ টায়। ভারতের শিলং হচ্ছে এ খেলার মূল স্থল, সেখানে লটারি টানা হলে একই নম্বরে বাংলাদেশেও লটারি ফলাফল দেওয়া হয়। সিলেটে জুয়ার পুরাতন আস্তানাগুলোকে কেন্দ্র করে তির খেলা পাড়ায়-পাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। আর এই সব তিরের এজেন্টদের শেল্টার দিচ্ছেন মাঠ পর্যায়ের কিছু সংখ্যক অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা-কনস্টেবল, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও তাদের গ্রুপের কর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বিভিন্ন এলাকায় তির শিলং খেলায় পুলিশের কিছু সদস্য সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিতভাবে তারা এসব জুয়ার আসর থেকে বড় অংকের টাকাও নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নগরীতে প্রায় নিয়মিত বিরতিতেই অভিযান চলে তির শিলং নামক জুয়ার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে। নিয়মিত এসব অভিযানে আটক হন অনেক জুয়াড়ি। আবার জামিনে তারা বেরিয়েও যান। আর এসব কারণে নিয়মিত অভিযান চললেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

নগরীর এমন কোনো এলাকা নেই যে, যেখানে শিলংয়ের তির খেলা নিয়ে জুয়া হচ্ছে না। আর এসব আসরে কিছু কিছু পুলিশ সদস্যদের অবাধে যাতায়াত রয়েছে। ‘তির খেলা’ লটারি খেলা। প্রথমে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা ভোলাগঞ্জ, দয়ারবাজার, বিছনাকান্দি, পাড়–য়া, জাফলং, মামার দোকান, তামাবিল, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় এসব অবৈধ তির খেলার প্রচলন ছিল। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রকাশ্যে নগরীর বিভিন্ন রাস্তাঘাট, সরকারি অফিসের পেছন, বিভিন্ন কলোনি, রেস্টুরেন্ট, চা-দোকানসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান অবস্থায় এই খেলার নম্বর টোকেন বিক্রি হয়।

১০ টাকায় ৭০০ টাকা পাওয়া যায়, এমন খেলায় আগ্রহী হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক গ্রুপের কর্মী, রিকশা-ভ্যানচালক, অটোরিকশাচালক, শ্রমিক, দিনমজুর এমনকি প্রশাসনের কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ বেকার যুবকরা এই ‘তির খেলায়’ অংশ নিচ্ছেন। ক্ষুদ্র দোকানি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারাও বাদ যাচ্ছেন না এই খেলা থেকে।

প্রতিদিন বিকাল সোয়া ৪টায় ও সাড়ে ৫টায় দু বার এ লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। তারপর আবার শুরু হয় ‘‘নাইট শিলং তির” প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয় রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এই খেলার টিকিট বিকিকিনি। প্রত্যেক খেলার ফলাফল দেওয়া হয় অনলাইনে। ভারতের শিলং থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জুয়ার আসরটি পরিচালনা করা হয়। আর এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ফলাফল জানানো হয়।

বিভিন্ন স্পটে গিয়ে দেখা যায়, টোকেন নম্বর বইয়ের মালিকরা হোটেলে-কলোনিতে-দোকানে কিংবা কোনো মাজার প্রাঙ্গণে বসে নিরাপদে নাম্বার টোকেন বিক্রি করছেন। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি উৎকোচের বিনিময়ে এলাকায় প্রকাশ্যে তির খেলার দোকান স্থাপন ও টোকেন বিক্রয়ের সুযোগ করে দিয়েছেন।

তেমনি প্রশাসন কিংবা আইনের কাউকে পরোয়া না করে নগরীর কাজিরবাজারস্থ মাছবাজারের ভেতরের তিরের বোর্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাউন্সিলরের ভাই আসকির, কাজিরবাজারস্থ কাঠালহাটা এজেন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুমন আহমদ ও পাখি মিয়া, আফজল, জাবেদ, লালা মিয়া। তালতলাস্থ আনা ম্যানশনের ২য় তলায় তিরের এজেন্টের নেতৃত্বে রয়েছেন ছাত্রদল নেতা রাহি, লিটন, দেলোয়ার। নন্দিতা সিনেমা হলের নিচে তিরের এজেন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতা হাবিব ও তপু, সোবহানিঘাটের এজেন্টের নেতৃত্বে আছেন ইকবাল, ধোপাদিঘিরপার আসাদ ডেন্টালের পেছনের স্পটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাসেল, লালদিঘিরপার ও কালীঘাটে তিরের এজেন্টের নেতৃত্বে আছেন আওয়ামী লীগ নেতা কামাল, শাহজাহান আজিজ, সাজু, আনোয়ার, নয়ন ও পলয়, নগরীর সাদারপাড়া পয়েন্টে তিরের বোর্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অটোরিকশাচালক শাহিন ও বিল্লাল, বেতের বাজারে বেশ কয়েকটি এজেন্টের নেতৃত্বে রয়েছেন সুজেল ও রাসেলসহ আরো কয়েকজন।

ঘাসিটুলা ফকির মিয়ার কলোনিতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র, ডাক্তারের টিকিটের জন্য যেভাবে সিরিয়াল নিতে হয়, ঠিক সেভাবে ফকির মিয়ার কলোনিতে টোকেন বিক্রি করছেন এজেন্টরা। ঘাসিটুলায় ফকির মিয়ার কলোনির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেলাল ও শাহীন, ঘাসিটুলায় লতিফ শাহের মাজারের সামনের স্পটের নেতৃত্বে আছেন কাদির, জুমন, মুন্না, সাইফুল, দক্ষিণ সুরমার জিঞ্জির শাহ মাজারের সামনে তিরের এজেন্টের নেতৃত্বে রয়েছেন কামরুল, রুবেল, জাহেদ, দেলোয়ার।

লামাবাজারের সরশপুর সৈনিক ক্লাবেও গিয়ে দেখা যায় শিলং তিরের টোকেন বিক্রির ধুম পড়েছে। সৈনিক ক্লাবে তিরের এজেন্টের নেতৃত্বে আছেন মহসিন, শাহি ঈদগাহের পেছনে কালাপাথরের মাঠের নেতৃত্ব দেন মুরাদ, জাহেদ ও মন্টু বাবু, কুয়ারপারের বোর্ডের নেতৃত্ব দেন কুমারবাড়ির আজাদ, পশ্চিম শেখঘাটের স্পটে নেতৃত্ব দেন হান্নান এবং মরাটিলা তিরের বোর্ডের নেতৃত্ব দেন সালাম ও সুজন। নগরীর শাহজালাল উপশহর, সাদারপাড়া, তেররতন, বন্দরবাজার, সন্ধ্যাবাজার, কালীঘাট, লালদিঘিরপার, ছড়ারপাড়, সুরমা মাকেৃট পয়েন্ট, তোপখানা, কাজির বাজার, রিকাবীবাজার, শেখঘাট, বেতের বাজার, শামিমাবাদ, মেডিকেল রোড, বাগবাড়ি, নবাব রোড, কাজলশাহ, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া, নেহারী পাড়া (লেকসিটি), ধানুকাটা, গোয়াবাড়ি, কালীবাড়ি, নতুনবাজার, কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড, তেমুখী, টুকেরবাজার, বালুচর, টিলাগড়, মেজরটিলা, আম্বরখানা, চৌকিদেখি, লাক্কাতোরা, শাহি ঈদগা, দক্ষিণ সুরমার মেন্দিবাগ, বাস টার্মিনাল, কদমতলী (বালুরমাঠ), মোমিনখলা, রেল স্টেশন, ভাবনা পয়েন্ট, বরইকান্দি, তেতলীসহ শহরের শতাধিক স্পটে ভারতীয় এ জুয়ার আসর বসে থাকে।

এসব জুয়ার আসরের নেতৃত্বে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন থানার অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় চলছে এ খেলা। কাজিরবাজারস্থ কাঠালহাটা এজেন্টের সুমন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন থেকে কাঠালহাটা বোর্ডের মালিক তারা দু জন। ডিউটিতে থাকা পুলিশকে প্রতিদিন তারা ২০০-৩০০ টাকা করে দেন। প্রত্যেকদিন ভিন্ন ভিন্ন পুলিশের লোক এসে এই টাকা নিয়ে যান।

লালদিঘিরপার ও কালীঘাটের তিরের বোর্ডের এজেন্টের কামাল জানান, অনেকদিন যাবৎ তারা এ বোর্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন সময় প্রশাসনের বিভিন্ন লোক লালদিঘিরপার ও কালীঘাটের তিরের বোর্ড থেকে টাকা নিয়ে আসেন।

ফকির মিয়ার কলোনির শিলং তিরের এজেন্ট শাহীন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে শাহীন ও বেলাল এই কলোনিতে বোর্ড পরিচালনা করে আসছেন। নির্ভয়ে এবং নির্দ্বিধায় তারা বোর্ড পরিচালনা করছেন।

সৈনিক ক্লাবের মহসিন জানান, তাদের ক্লাবে শুধু কার্ড খেলা হয়। ক্লাবের আশপাশের লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, সৈনিক ক্লাবেও শিলং তিরের টিকিট বিক্রি হয়।

সূত্র জানায়, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার এবং থানার কিছু অসাধু পুলিশের সহযোগিতায় তারা নিশ্চিন্তে প্রত্যেকের বোর্ড পরিচালনা করে আসছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. আব্দুল রউফ জানান, তির শিলং খেলার বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর। তির শিলংয়ে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। যারা এই জুয়াখেলে তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে খেলে।

তিনি বলেন, তির খেলা নির্মূল করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মানুষ সচেতন হলেই এই খেলা বন্ধ হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিটিআরসিতে দু বার চিঠি দেওয়া হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো রেজাল্ট আসেনি। এই খেলা বন্ধের প্রধান উৎস হল, ওই সার্ভার (উৎস) বন্ধ করতে হবে। তাহলে এই তির শিলংয়ের জুয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

কৃতজ্ঞতা-সবুজ সিলেট

(আজকের সিলেট/১৮ নভেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন