২০ নভেম্বর ২০১৭


মৌ’বাজারে এখনো পানির নিচে জমি, দিশেহারা কৃষকরা

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাওর ও হাওরতীরের বোরো জমি ও বীজতলা হাওরের পানিতে তলিয়ে থাকায় এ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন সময়ে হালিচারার জন্য বীজতলা প্রন্তুত করার কথা থাকলে ধীরগতিতে পানি কমায় বোরো আবাদই এখন হুমকির মুখে। বীজতলা তৈরি নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে মনু নদ প্রকল্পের কাশিমপুরে স্থাপিত সেচ পাম্প বন্ধ থাকায় কাউয়াদীঘি হাওর থেকে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হাওরের পানি কমতে ও সময় লাগছে।

স্থানীয় ও কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলায় প্রতিবছর ১৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। এর মধ্যে কাউয়াদীঘি হাওর, হাওরতীর ও করাইয়া হাওর অন্যতম। কাউয়াদীঘি হাওরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা ও রাজনগর উপজেলা মিলে বোরো জমির পরিমান ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর। যার মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ১৪০০ হেক্টর। রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর, পাঁচগাঁও, মুন্সীবাজার ও উত্তরভাগ ইউনিয়নে পড়েছে ৫ হাজার হেক্টর। এরমধ্যে শুধু ফতেহপুর ইউনিয়নেই রয়েছে আড়াই হাজার হেক্টর বোরো জমি।

গত এপ্রিল মাসে আকস্মিক বন্যায় কাউয়াদীঘি হাওর ও করাইয়া হাওরের কাঁচা ও আধাপাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। পরে মার্চ থেকে শুরু হয় প্রলম্বিত বন্যা। এছাড়াও কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলে এবছর আমন ধানের চাষও ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে এখন বোরো চাষাবাদের মৌসুম। এজন্য হালিচারা তৈরির এখনই সময়। কিন্তু কাউয়াদীঘি হাওর থেকে অতিরিক্ত পানি সেচ দিয়ে বের করার জন্য মনু নদ প্রকল্পের কাশিমপুর এলাকায় স্থাপিত সেচ পাম্প নষ্ট থাকায় বন্ধ আছে। সেচ দেয়া যাচ্ছে না। পাম্পের খোলা গেট দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে হাওর থেকে কুশিয়ারা নদে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। এই গতিতে পানি বের হলে বীজতলা ভেসে উঠতে সময় লাগবে বলে স্থানীয়দের ধারণা। ফলে ব্যাহত হতে পারে কাউয়াদীঘি হাওরের বোরো আবাদ।

হাওর পাড়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চারা দেরিতে রোপণ করা হলে ধান পাকতেও দেরি হবে। আবার এপ্রিল মাসেই অকালবন্যা হয়েছে। রোপণ পিছিয়ে গেলে পাঁকাও পিছিয়ে যাবে। এতে আবারো বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়ে যাবে।

রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়া জানান- হাওরের পানি এখনো কমছে না। পানি না কমায় বোরো চারা তৈরির সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ আজিজুর রহমান জানান- গতবছর ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষক একটু আগেই চারা লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই পানি নামবে। বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।

পাউবো মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মুখলিছুর রহমান জানান- হাওরে পানির লেভেল বেশি। দু’মাস ধরে সেচপাম্প বন্ধ। পাম্পগুলো অচল থাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য চালু করা যাচ্ছে না। পাম্প সচল করতে পুনর্বাসনের জন্য প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এই মৌসুমে পাম্প দিয়ে সেচ দেয়া যাবে না। তবে পাম্পের সাতটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। পাম্প চালু থাকলে সেচ দিয়ে পানি কমিয়ে দিলে এতদিনে বীজতলা ভেসে উঠত।

(আজকের সিলেট/২০ নভেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন