২৬ নভেম্বর ২০১৭


আমন ধান ঘরে তুলছেন কৃষকরা

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : হেমন্তে সোনালী ধানের মিষ্টি গন্ধে মেতে উঠেছে বাংলার জনপদ। মাঠে মাঠে এখন রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। সিলেট অঞ্চলে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় নির্বিঘেœ ধান কাটা-মাড়াই কাজ করছে কৃষক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি, ধান উৎপাদনের এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

সিলেট অঞ্চলের মাঠে মাঠে পাকা ধান কাটার ধুম পড়েছে। ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। কৃষকের আঙিনা ভরে উঠছে সোনালি ধান, মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। ফসলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠছে সারা বাড়ি। উঠনে ছড়ানো সোনালি ধান। সাথে আনন্দের বন্যা। কন্যা-জায়া-জননীর ব্যস্ততা এখন দিনরাত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চার জেলার রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫ শত ৬৪ হেক্টর ভূমি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রোপা আমন আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত ভূমি থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৫২ হাজার ৮ শত ১২ মেট্রিক টন। যা সহজেই পূরণীয় বলে মনে করছেন কৃষি সংশি্লষ্টরা। অকাল বন্যায় এ বছর সিলেটের চার জেলার হাওরের বোরো আবাদ সম্পূর্ণ রূপে পানিতে ভেসে যায়। সব হারিয়ে কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েন। অসহায় কৃষকরা বোরো আবাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনায় আউশ ধান উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ করেন। কিন্তু অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে নিম্নাঞ্চলের আউশ উৎপাদনও ব্যাহত হয়।

হাওর অ্যাডভোকেসি প্লাটফমের্র তথ্য অনুযায়ী বন্যায় বোরো আবাদের ক্ষতি হয়েছে ধানে ৩ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিলেটে ৪৫০ কোটি, সুনামগঞ্জে ১ হাজার ৯৬৫ কোটি, হবিগঞ্জে ৬৬১ কোটি, মৌলভীবাজার ২৪৬ কোটি টাকা। শুধুমাত্র ধানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৩২২ কোটি টাকা।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর সব হারানো কৃষকরা রোপা আমন আবাদে মনোযোগী হন। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সিলেট বিভাগে রোপা আমন আবাদের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়। নিম্নাঞ্চলে পানি থাকায় কৃষকরা সময়মতো আবাদ না করতে পারলেও পানি নামার সাথে সাথে রোপা আমন আবাদ করছেন।

তারা বলছেন, আশানুরূপ ফলন হওয়ায় বোরো আবাদের ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে উঠা সম্ভব। বোরো আবাদে সুনামগঞ্জ জেলার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখিন হলেও আমন উৎপাদনে সিলেট বিভাগের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়েছে সুনামগঞ্জে।

হবিগঞ্জ জেলায়ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়েছে। এবারের রোপা আমন আবাদে সিলেট জেলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭ শত হেক্টর ভূমি। মৌলভীবাজার জেলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৯ হাজার হেক্টর ভূমি। হবিগঞ্জ জেলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ১ শত ৭০ হেক্টর। সুনামগঞ্জ জেলার লক্ষ্যমাত্রা ৬১ হাজার ৬ শত ৯৪ হাজার হেক্টর ভূমি।

বিশ্বনাথ উপজেলার বাগিচা বাজার এলাকার কৃষক রুবেল মিয়া বলেন, এ বছর আমন ধান অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি আবাদ করা হয়েছে। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। এখন ধান ঘরে তোলার সময়।

তিনি আরো বলেন, বোরো ধান ক্ষতি হওয়ার পর অনেক কষ্টে আমন ধান চাষ করেছি। এবার ভাল ফলন হয়েছে। বাজারে ধানের দাম আশানুরূপ হলে বোরো ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক আলতাবুর রহমান বলেন, সময়মতো বৃষ্টিপাত, বীজ ও সারের সঠিক ব্যবহার, পাকা মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়া, ধানের বিভিন্ন রোগ বালাই কম হওয়ায় এবছর রোপা আমনের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরাও কৃষির প্রতি সচেতন হয়েছে। সিলেট বিভাগে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে বলে আমাদের ধারণা।

(আজকের সিলেট/২৬ নভেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন