৩০ নভেম্বর ২০১৭


স্বপ্ন ডোবার শঙ্কায় কৃষকরা

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : দীর্ঘ বন্যার পর মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলের পানি নামেনি এখনো। ফলে আমন ধান হারানোর পর এবার বোরো চাষেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে চাষিদের মাঝে। তারা বলছেন, ধীরগতিতে পানি কমায় রোপণ শুরু তো দূরের কথা, বীজতলা তৈরিতেই ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে মৌসুমের শুরুতেই বোরো আবাদ হুমকির মুখে পড়ে গেছে।

মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগ উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওর এবং কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখাসহ পাঁচ উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওরের চাষিরা বাংলানিউজকে আরও বলেন, পানি না নামায় আমন চাষে ও ফলন ঘরে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। হাওরতীরের বোরো জমি ও বীজতলা এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। যার ফলে বোরো চাষ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলার কৃষি বিভাগ এ বছর ২ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি ও ৫৩ হাজার ৫৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যার মধ্যে হাওরগুলোতেই রয়েছে ২০ হাজার হেক্টর জমি। কিন্তু বছরের এ সময়টাতে ধান রোপণ শুরুর কথা থাকলেও বীজতলা তৈরিতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।

বোরো রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরাসরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যার পানি না নামায় বীজতলা তৈরি করতে পারেননি হাওরের বেশিরভাগ চাষীই। কিছু এলাকায় বীজতলা তৈরি সম্ভব হলেও জমিতে এক থেকে দুই ফুট পানি থাকায় তা রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। কেউ কেউ ক‍ঁচুরিপনা দিয়ে জমি উঁচু করে সেখানে বীজতলা করার চেষ্টা করছেন।

কাউয়াদীঘি হাওরপাড়ের খোঁজারগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুস শুক্কুর বলেন, ‘গতবার বোরো চাষ করতে পারিনি। আর এবার দু’দফায় বন্যা হলো। কাশিমপুর পাম্প হাউজের সেচ মেশিন বিকল হওয়ায় সে পানি নামছে ধীরগতিতে। বীজতলা তৈরি করে ধান রোপণে সময় আছে আর মাত্র কয়েকদিন। পানি না নামলে আমাদের বোরো ধানের স্বপ্ন পানিতেই ডুবে যাবে এবারও’।

গত এপ্রিল মাসের আকস্মিক আগাম বন্যায় হাওরের কাঁচা ও আধাপাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। জুলাইয়ের শেষ দিকে শুরু হয় ফের বন্যা। দীর্ঘমেয়াদী সে বন্যার পানি নামেনি এখনো। হাওরের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখনো কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানি রয়েছে। ফলে গতবারের বোরোর পর চলতি আমন মৌসুমের ধানও ঘরে তুলতে পারেননি হাওরের চাষিরা।

হাকালুকি হাওরপাড়ের ভুকশিমইল ইউনিয়নের কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে বীজতলা ভেসে উঠতে সময় লাগবে। আর দেরিতে বোরো রোপণ করা হলে অন্য মৌসুমের চাষাবাদের ওপরও প্রভাব পড়বে।

হাওরের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখনো কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানিবড়লেখা উপজেলার হাকালুকি পাড়ের হাল্লা গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘বন্যা আমাদের বাড়ি-ঘর কেড়ে নিয়ে অসহায় করেছে। এবার ধান চাষ করে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে আহার দেওয়ার আশা করেছিলাম। তাও হবে না দেখছি’।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, ‘এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি সম্ভব হয়েছে। সম্পূর্ণ তৈরি করতে কৃষকদের আরো ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। আশা করি, এ সময়ের মধ্যে পানি নেমে যাবে’।

(আজকের সিলেট/৩০ নভেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন