৯ ডিসেম্বর ২০১৭


বিলুপ্ত প্রায় ১৮ জাতের ধান ফিরিয়ে এনেছেন কৃষক আব্দুল বাছিত

শেয়ার করুন

খালেদ আহমদ (অতিথি প্রতিবেদক) : ছন দিয়ে তৈরী মঞ্চ। টেবিলে সারি সারি করে রাখা নানা জাতের ধান। ধানের গন্ধে মৌ মৌ করছে অনুষ্ঠানস্থল। নবান্ন উৎসবে অংশ নিয়েছেন সূধীজন। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের নাম দেয়া হয়েছে ‘জনপ্রিয় জাত ধান শষ্য কর্তন ১৪২৪ বাংলা’।

এ বি কৃষি প্রকল্পের উদ্যোগে অভিন্ন এ আয়োজনে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীরা এসেছিলেন ভিন্ন আঙ্গিকে। মাঠে নেমে দল বেঁধে গবেষণা করেছেন ধান নিয়ে। এই ধান তিন মাস পূর্বে তারাই বপন করে গেছেন। দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর বিসিক শিল্প নগরী সংলগ্ন মাঠে এ ধান চাষে অভাবনীয় সাফল্যের নায়ক কৃষিতে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত কৃষক আব্দুল বাছিত সেলিম।

বিলুপ্ত প্রায় ১৮ জাতের ধান পুনরায় ফিরিয়ে এনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন আব্দুল বাছিত সেলিম। আগামীতে আরো ২৪ জাতের নতুন ধান উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আজম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো: আবুল কাশেম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। এখন দরকার নিরাপদ খাদ্য। ভাল ফলনে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় উল্লেখ করে বক্তারা আব্দুল বাছিত সেলিমের নতুন নতুন উদ্ভাবনীতে কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে বলে মন্তব্য করেন। সুন্দর ব্যবস্থাপনার কারণে এবার কৃষক সেলিমের ফলনে প্রতি হেক্টরে ৬১০ কেজি ফলন বেশী হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে তথ্য উঠে আসে। হাজার হাজার বছর ধরে ঐতিহ্যের ধারক ধানগুলো নতুনভাবে কৃষিতে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি সভায় অনুরোধ জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে চিনি শংকর, চিনিগুড়া, কাটারীভোগ, বালাম, টলা বিরইন, কালাভাত, গাইনজা, ছাদখানি, রানার শাইল, সাদা বাদশা ভোগ, কালোজিরা ১ ও ২, গর্ছি সাইল, রাধা তিলক, পাজাম, গর্ছি খাইল, পাখি বিরইন, রাধুনি পাগল সহ ১৮ জাতের ধানের প্রদর্শনী করা হয়। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীরা গবেষণা ও গ্র“প ওয়ার্ড করেন।

সিকৃবি শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমানের উপস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক আলতাবুর রহমান, বিএডিসি সিলেটের উপ-পরিচালক সুপ্রিয় পাল, হবিগঞ্জ ব্রি এর সিএসও নাজমুল বারি, এসও ড. আবু সাঈদ ও ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছয়েফ খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো: আকিব ও হোমায়রা জাহান সনম বলেন, এটি আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। ফিল্ড ওয়ার্ডের মাধ্যমে আমরা আমাদের অর্জিত জ্ঞানটুকু সহপাঠিদের সাথে শেয়ার করতে পারবো। নতুন নতুন জাতের ধান উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার এবং তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়ায় এবি কৃষি প্রকল্পকে অভিনন্দন জানায় তারা।

(আজকের সিলেট/৯ ডিসেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন