৩ ডিসেম্বর ২০১৭


গোলাপগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলন

শেয়ার করুন

গেলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে শেষ হয়ে গেছে। এখনও সোনালী ধানে ভরে আছে গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন ক্ষেতের মাঠ। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কৃষক কূলের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে এখনও নিতে পারছে না কৃষক সমাজ। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে আশায় বুক বেঁধে কৃষকরা মাঠে নামে ফসল উৎপাদন করতে। হতাশার মাঝে এখন সোনালী ধান কৃষক সমাজের মধ্যে আশার আলো জাগাচ্ছে। এখন মাঠে মাঠে সোনালী ঝিলিক আর পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ। তারপরও বেশীর ভাগ কৃষক বোরো ধান উৎপাদনে প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষে বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অকাল বন্যা দেখা দিলে গোলাপগঞ্জেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়। হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যায় বন্যার পানিতে। এরপুর্বের বছরও বন্যায় বোরো ধান তলিয়ে গেলে পরপর দু’বারের ক্ষতির ঘানি টানতে হয়েছে কৃষকদের। বিশেষ করে এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা সর্বনাশা ডেকে এনেছিল। বন্যার পানি থেকে ক্ষেতের মাঠ মুৃুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকরা কোমর বেধে মাঠে নামেন।

আমন চাষের উপযোগী কোন ক্ষেতের জমি বাদ যায়নি, বিশেষ করে সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় পানি শূণ্যতা দেখা দেয়নি। ফলে ব্যাপক হারে আমন ধান চাল করা হয়েছে। গোলাপগঞ্জের যে দিকে চোখ যায়, সেদিকেই শুধু মাঠ জুড়ে সোনালী চিত্র দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা ধান কাটা আর কৃষাণীরা তা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিন-রাত পরিশ্রম করলেও তাদের চোখে মুখে রয়েছে আনন্দের তৃপ্তি।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ খায়রুল আমীন জানান, এবারে ১২ হাজার ৯শত ৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের সঙ্গে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও খুশি।

আগামী বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে উপজেলা কৃষি বিভাগের ব্যাপক উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ৮ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আনার লক্ষে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে প্রতিটি এলাকার চাষীদের মধ্যে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে বোরো লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে বলে কৃষক ও কৃষি বিভাগের লোকজন আশাবাদী। আমন ফসলের কথা উল্লেখ করে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, গোলাপগঞ্জে লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে। যথা সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ও বন্যা পরবর্তী সময়ে কৃষকরা দ্রুত উদ্যোগী হওয়ায় আমনের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। পোকামাকড় দমনে কৃষি বিভাগের লোকজন খুবই আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

(আজকের সিলেট/৩ ডিসেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন