৫ ডিসেম্বর ২০১৭


শ্রীমঙ্গলে ঝুঁকিপূর্ণ গাড়িতে শিক্ষার্থীদের চলাচল

শেয়ার করুন

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : পুরনো মডেলের জরাজীর্ণ জিপ গাড়ি। বয়স পঞ্চশ-ষাট বছর পেরিয়ে গেলেও ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে শ্রীমঙ্গলে আজও চলাচল করছে মিতসুবিসির গাড়িগুলো। অনেক গাড়িতেই হর্ন চাপলে আওয়াজ বেরোয় না, ঠিকঠাক নেই গতিরোধক ব্রেক।

মারাত্মক এসব ত্রুটি নিয়েও শ্রীমঙ্গল উপজেলার শ্রীমঙ্গল-সিঁন্দুরখান সড়কে রানার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে গাড়িগুলো। দিনের পর দিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ এমন চলাচলের পরও ভ্রুক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

জিপ গাড়ির যাত্রী রানার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মজিব, নুরুল, অষ্টমী, কণিকা, খুশি, সঞ্জনা, রুনা, গয়না, দুলাল, মান্নাফ এবং সুকান্তদের সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের। এরা সবাই ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

জিপ গাড়িতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল প্রসঙ্গে শিক্ষার্থী বলে, আমাদের বাগান থেকে স্কুলের দূরন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার। এতো দূরের পথে হেঁটে যাওয়া যায় না। হাতে সময় না থাকায় তাই বাধ্য হয়ে আমাদের তাড়াতাড়ি যেতে হয় এবং ফিরেও আসতে হয়। গাড়িতে প্রয়োজনীয় আসন না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে অনেক সময় গাড়ির ছাদে চড়েও যাই।

ছাদে চড়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূণ কিনা? প্রশ্ন করলে উত্তরে শিক্ষার্থীরা সম্মতি প্রকাশ করে বলে, আমাদের জন্য বিকল্প একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হলে আমাদের খুব ভালো হতো। আমরা এভাবে আর আসতাম না।

লাখাইছড়া চা বাগানের প্রবেশমুখে রানার স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার সময় বাধা দেন ফিনলে চা কোম্পানির পুটিয়াছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. নুরুন্নবী। ফিনলে চা বাগানের উপর দিয়ে বাগানের শ্রমিকের শিক্ষার্থীদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করেন মো. নুরুনবী।

সূত্র জানায়, রানার উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধীদের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সাবেক চিপ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আবদুস শহীদ একটি গাড়ি দিয়েছেন। এটি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ব্যবহৃত হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি পাঁচ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চা বাগানের এক চা শ্রমিক জানান, চা বাগান কর্তৃপক্ষ কখনোই চায় না যে চা শ্রমিকদের সন্তানরা লেখাপড়ে শিখুক। তাই শিক্ষার্থীদের চা বাগান থেকে কোনো প্রকারের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না।

ওই ব্যক্তি আরও বলেন, চা বাগানের কোনো মালবাহী ট্রাক্টর যদি কখনো রানার স্কুলের পার্শ্ববর্তী এলাকায় যায়, মালামাল অনলোড করে খালি ট্রাক্টরেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসে না। শিক্ষার্থীদের পাঁচ-সাত কিলোমিটার হেঁটে আসতে হয়।

লাকাইছড়া চা বাগানের শ্রমিক পবন তাঁতি এবং রানা তাঁতি বলেন, দু-তিন মাস আগেও এই এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এখনই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত না নিলে যে কোনো সময় আবার দুর্ঘটনার মুখে পড়ে প্রাণ হারাবে চা শ্রমিকের স্কুলগামী সন্তানরা।

রানার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নুরুল হক বলেন, গাড়ি ছাদে চড়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের যাতাযাতের বিষয়টি আমি জানতাম না। এ বিষয়ে সচেতন হতে শিক্ষার্থীদেরে অবহিত করাবো।

(আজকের সিলেট/৫ ডিসেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন