৭ ডিসেম্বর ২০১৭


মানুষ গড়ার কারিগর দেলোয়ার বাঁচতে চান

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : মোঃ দেলওয়ার হোসেন। মানুষ গড়ার কারিগর। প্রায় এক দশক থেকে আগামির ভবিষ্যতদের শিক্ষা প্রদান করে যাচ্ছেন। ভালো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার পথ প্রদর্শন করছেন। তাঁর বহু ছাত্র-ছাত্রী আজ স্ব স্বপদে প্রতিষ্টিত। শিশু-কিশোরদের ভালো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখানোর মানুষটির স্বপ্ন আজ ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

আর্থিক-অভাব অনটনের কারণে তিনি আজ শেষ যাত্রার পথযাত্রী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দ্রুত কিডনী প্রতিস্থাপন করা না হলে দেলওয়া হোসেনের বেঁচে থাকাটা অসম্ভব। গ্রামের মধ্যবিত্ত হাফেজ পরিবার তার চিকিৎসার জন্য সহায়-সম্ভল বিক্রি করেছে। তবুও এখনো বহু দূরের পথ বাকী রয়ে গেছে। শিক্ষক দেলোয়ার হোসনেক বাঁচাতে তাই সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার আর সহপাঠীরা।

লওয়ার হোসেন একজন শিক্ষক। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের কোরআন, হাদীস ও আরবী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে জীবন গড়ার পথ দেখিয়েছেন। ২৯ বছরের জীবনের এ সন্ধিক্ষনে এসে শরীরে দেখা দিয়েছে কিডনিজনিত সমস্যা। ডাক্তারের পরামর্শে দ্রুত উন্নত ও স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরতে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। কিন্তু তিনি এবং তার পরিবার নিরুপায়। শত শত ছাত্র-ছাত্রীর জীবন সাজানোর জন্য যিনি নিরলসভাবে শ্রম দিয়েছেন, আজ তার জীবনই এলোমেলো। ছেয়ে গেছে কালো মেঘে। তার চলার পথের সাথী, কর্মক্ষেত্রের বন্ধু, ছাত্র-ছাত্রী এবং আত্মীয়-স্বজনরা সাহায্যার্থে এগিয়ে আসলে হয়তো চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন। আবারো শ্রেণি কক্ষে কোরআন, হাদিস এবং আরবি বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করবেন।

ওসমানী হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অসুস্থ শিক্ষক মোঃ দেলওয়ার হোসেন সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সোনাসার গ্রামের হাফিজ হোসাইন আহমদ সাহেবের প্রথম পুত্র। তার পিতাও একজন কোরানে হাফেজ ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব।

দেলওয়ার সিলেটের হযরত শাহ জালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০১১ সালে প্রথম গ্রেডে কামিল পাশ করেন। সাথে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে এমসি কলেজ থেকে অনার্স সহ মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জকিগঞ্জের উত্তরকুল মোশাহিদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে একই উপজেলায় ইছামতি গার্লস একাডেমীতে ধর্মীয় শিক্ষক পদে যোগদান করে অদ্যাবদি কর্মরত আছেন। তিনি ২০১৪ সালে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় কলেজ পর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে উত্তীর্ণ হন।

শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হন দেলওয়ার। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি কিডনিজনিত রোগে ভূগছেন। তার দু’টি কিডনীই ‘বিকল’ হয়ে গেছে। দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে তিনি ও তার পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সব শেষে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, ডাঃ আলমগির হোসেন তাকে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য পরামর্শ দেন এবং বলেন কিডনি ছাড়া রোগীকে বাচানো যাবেনা।

এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ শুভার্থী করও একই পরামর্শ দেন। ডাক্তার পরামর্শ প্রদানের পরও শুধুমাত্র আর্থিক সমস্যার কারনে তিনি কিডনি প্রতিস্থাপনে এখনো যেতে পারেন নাই।

শত শত ছাত্র-ছাত্রীর প্রিয় শিক্ষক, সহকর্মীদের প্রিয় সাথী এবং অসংখ্য শুভাকাংখি ও বন্ধুদের একজন প্রিয় মানুষ মোঃ দেলওয়ার হোসেন। সকলে যদি নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে তার জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট দোয়া করি এবং সাহায্যের হাত বাড়াই তাহলে সকলের দোয়া ও ভালোবাসায় উন্নত চিকিৎসা শেষে তিনি আবার সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। আবারো কোরআন, হাদিসের বাণীগুলো শ্রেণি কক্ষে তার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা শ্রবন করবেন।

আসুন সকলে মিলে একজন আদর্শ শিক্ষককে বাঁচাতে এগিয়ে আসি। যে শিক্ষক কোরআনের কথা বলেন, হাদিসের কথা বলেন।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা
মোঃ ইমরান হোসাইন (ভাই)
মোবাইল নং 01718994619
01733478888
হিসাব নং 20501040205794403, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ,সিলেট শাখা।

(আজকের সিলেট/৭ ডিসেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন