১৪ ডিসেম্বর ২০১৭


কুশিয়ারার ভাঙ্গনে নিঃস্ব অর্ধ শতাধিক পরিবার

শেয়ার করুন

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি : পানি কমার সাথে সাথে ভয়াল রূপ ধারণ করছে প্রমত্তা কুশিয়ারা নদী। বালাগঞ্জের পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন অংশে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। আর এতে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ৭টি বসতভিটা। এছাড়া বালাগঞ্জের অর্ধশতাধিক বাড়ীর বৃহৎ অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে কয়েক শ’ লোক। আতংকে কাটছে তাদের রাত-দিন। বাড়ী-ঘর হারানোদের অনেকে তাঁবু বা কুঁড়ে বানিয়ে রাস্তার উপর হাড়কাঁপানো শীতে রাত কাটাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুশিয়ারার ভাঙ্গনে উপজেলার পূর্বগৌরীপুর ইউনিয়নের খাইস্তঘাট মাঝমহল্লা গ্রামের আলমগীর মিয়া, আহমদ আলী, ময়ুরুন্নেছা, তাজিবুন নেছাসহ ৫/৭ পরিবারের বসতভিটা। এতে তারা সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো।

বালাগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী উপজেলা সদর থেকে পশ্চিম দিকে অবস্থিত রাধাকোনা গ্রাম। এই গ্রামের অধিকাংশ হত দরিদ্র ও দিন মজুর। চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে কুশিয়ারার উত্তর পাড়ে রাধাকোনা গ্রামের পূর্ব দিকে ভাঙ্গন দেখা দেয়। গত এক সপ্তাহে এই ভাঙ্গন ভায়াবহ রুপ ধারণ করেছে। এতে করে অর্ধশতাধিক পরিবারের বসত ভিটাসহ অধিকাংশ জায়গা ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে গেছে। রাক্ষুসী কুশিয়ারার ভাঙ্গনের শিকার গ্রামের হত দরিদ্র মানুষের আর্তনাদ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এভাবে প্রতিবছরই নদীর করাল গ্রাসে সর্বশ্রান্ত হচ্ছে বালাগঞ্জে কুশিয়ারার পাড়ের মানুষ।

জানা গেছে, ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর ৩৭৫.৭৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের বালাগঞ্জ থানা উপজেলায় উন্নীত হওয়ার পর মুহূর্তে এলাকাবাসী নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে প্রবল দাবী জানায়। তৎকালিন সরকার কিভাবে নদী ভাঙ্গন রোধ করা যায় তা খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করলেও তা শুধুমাত্র কাগজ কলমেই বিদ্যমান ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দু-একবার এ নিয়ে মাঠ জরিপসহ আনুসঙ্গিক বিভিন্ন কাজ সমাধা করলেও বরাদ্দের অভাবে নদী ভাঙ্গন রোধে কোন ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৯১, ১৯৯৩, ১৯৯৬, ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় বালাগঞ্জ উপজেলার শেরপুর বাজার ও বালাগঞ্জের একাধিক দোকান কোঠা ভাঙ্গনের মুখে পড়লে আবারো জোরালো হয়ে উঠে নদীন ভাঙ্গন রোধের দাবী।

ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে বালাগঞ্জের বেতারী নদীর মুখ থেকে শেরপুর বাজার পর্যন্ত পূর্ব গৌরীপুর, বালাগঞ্জ সদর, পূর্ব পৈলনপুর, পশ্চিম পৈলনপুর ও সাদীপুর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ ঘর-বাড়ি, আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন, দোকান কোঠা হারিয়ে নিস্বঃপ্রায়। প্রসিদ্ধ বালাগঞ্জ বাজারের প্রায় ৩০টি দোকান কোঠা ইতিমধ্যে নদী ভাঙ্গনে তলিয়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, ২০১০ সালের ১১ মার্চ বর্তমান সরকারের পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুবর রহমান তালুকদার ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বেশ কবার বালাগঞ্জে কুশিয়ারার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও ভাঙ্গন রোধে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এদিকে আলাপকালে স্থানীয় সমাজ সেবক ও বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এম. মুজিবুর রহমান ভাঙ্গনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অসহায় এ পরিবারগুলোর করুন অবস্থা দেখে বর্ণনা করার ভাষা পাচ্ছিন না। তাদের কষ্ট দেখে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ খাইস্তঘাট মাঝমহল্লা গ্রামের আলমগীর মিয়া, আহমদ আলী, ময়ুরুন্নেছা, তাজিবুন নেছাসহ ৭টি পরিবারের বসবাসের জন্য ১০ শতক ভুমি দানের ঘোষণা দিয়েছি।

বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দাল মিয়া জানান, প্রতিবছরই নদীর করাল গ্রাসে সর্বশ্রান্ত হচ্ছে বালাগঞ্জে কুশিয়ারার পাড়ের মানুষ। আমাদের পক্ষ থেকে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

(আজকের সিলেট/১৪ ডিসেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন