১৮ ডিসেম্বর ২০১৭


অযত্ন আর অবহেলায় নজরুল চত্ত্বর

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : বাঙ্গালি জাতির প্রেরণার কবি, চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কবি তার জীবদ্দশায় দু’বার সিলেট সফর করেছেন। প্রথমবার ১৯২৬ এবং দ্বিতীয়বার ১৯২৮ সালে। সিলেট সফরে তিনি বেশ কিছুদিন সিলেটে অবস্থান করেছেন। ১৯২৮ সালের সফরে শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ পন্ডিত ডক্টর শহিদুল্লাহও সিলেট এসেছিলেন। এই তিন মনিষী এবং দিকপালের একই সাথে সিলেট সফরে অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সিলেটের সর্বত্র আলোড়ন দেখা দেয়। তাঁদের স্মৃতি বিজড়িত এই সিলেট। কবি নজরুল কে নিয়ে আসা হয় মকবুল হোসেন চৌধুরীর দরগামহল্লাস্থ ভাড়াটে বাসা ‘ভাদেশ্বর লজে’। কবি এ্ই বাসাতে মাসাধিককাল অবস্থান করেন। কবির ১৯২৮ সালের সফর এবং অবস্থান অনেক ঐতিহ্যমন্ডিত।

কবি’র প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে রিকাবীবাজার পয়েন্টে তৈরি করা হয় নজরুল চত্ত্বর। প্রতিবছর কবির জন্ম কিংবা মৃত্যুবাষিকীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সিলেটের সংস্কৃতিপ্রেমী জনতা। এ শ্রদ্ধাবোধ যেন সংস্কৃতি প্রেমী সাধারণ জনতার। কর্তৃপক্ষের কোন দৃষ্টি নেই কবির স্মৃতিধন্য এই চত্ত্বরের দিকে। শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটি স্থাপনা তৈরি করেই দায় সেড়েছেন তারা। নেই কোন রক্ষনা বেক্ষণ কিংবা পরিচর্যা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, নজরুল চত্তত্বরের বিভিন্ন জায়গায় ধরেছে ফাটল, প্রাইভেট কোচিং আর সিনেমার পোস্টারে ঢেকে গেছে কবির নাম লেখা চত্ত্বরের ফলকটি। নামফলকের টাইলসগুলো ভেঙ্গে পড়েছে। এগুলো দেখে দেখে সয়ে গেছে আমাদের চোখ। তাই নেই কোন সংস্কারের উদ্যোগ। মরা ফুলের গাছের শুষ্ক ডালপালা হাহুতাশ করছে। নাম ফলকের কোনায় আবার চোখে পড়ে আবর্জনারস্তুপ যেন দেখার কেউ।

এব্যপারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী লিটন জানান, জাতীয় কবির প্রতি এই অবজ্ঞা কোনভাবেই কাম্য নয়। আমরা সিলেটের সংস্কৃতি কর্মীরা এর প্রতিবাদ জানাই।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান, আমরা সংস্কারের ব্যবস্থা করছি।

(আজকের সিলেট/১৮ ডিসেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন