১৮ ডিসেম্বর ২০১৭


বালাগঞ্জে শফি চৌধুরীর ব্যার্থ মিশন

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিল্পপতি শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সিলেট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তার বাড়ির পুকুর থেকে ত্রাণের টিন উদ্ধার হওয়ার পর বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এই শিল্পপতি। এমনকি বিএনপির নিখোঁজ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি এম. ইলিয়াস আলীকে নিয়েও নাকি বিভিন্ন কটাক্ক করেছেন এমন অভিযোগও রয়েছে বালাগঞ্জবাসীর।

আর সর্বশেষ বালাগঞ্জ উপজেলার ১টি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব আরো দীর্ঘ হয় তার। এনিয়ে সিলেট-৩ আসনের নির্বাচনী এলাকার জনগন ধীরে ধীরে তার কাছ থেকে দূরে সরতে থাকনে। বর্তমানে বিএনপির নেতারাও তার কাছে বিড়ছেন না।

সর্বশেষ রবিবার বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরিপুর ইউনিয়নে কর্মীসভা করেন শফি চৌধুরী। কিন্তু এই কর্মীসভায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বিএনপির এমনকি এই ইউনিয়নের বাসিন্ধা দলটির সিংহভাগ সিনিয়র নেতাকর্মীই উপস্থিত হননি। তারা শফি চৌধুরীর সভাটি বয়কট করেন। ফলে বহিরাগতদের নিয়েই সভাটি করতে হয় সাবেক এই সংসদ সদস্যকে।

জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী’র উপশহরস্থ বাসায় বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র অন্তর্গত সকল ওয়ার্ড কমিটি’র সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের ভোটের মাধ্যমে মোঃ আজম আলীকে সভাপতি, হারুন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক ও মঈদ উদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন করেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা। এসময় সিলেট জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ময়নুল হক, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার, সাধারণ সম্পাদক এ. মুজিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছালিক মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু এর পরই শফি চৌধুরী এই ইউনিয়নে পাল্টা আরেকটি কমিটি গঠন করার চেষ্টা শুরু করেন। যার অংশ হিসেবে এই কর্মীসভা আহ্বান করেন তিনি। এনিয়ে তৃণমূল বিএনপি’র মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পাল্টা কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মী সভায় মাত্র ৩জন ভোটারের উপস্থিতি দেখে তিনি ব্যর্থ হয়ে চলে যান।

পশ্চিত গৌরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের সিলেট ডটকমকে জানান, মূলত সিলেটবাসীর অবিসংবাধিত নেতা এম. ইলিয়াস আলী’র সাজানো বাগানে তছনছ করতেই এই ষড়যন্ত্র। যেকোন মূল্যে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।

পাল্টা কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মী সভায় বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রায় ২২জন নেতৃবৃন্দের মধ্যে ১৭জন নেতাই উপস্থিত হননি।

বয়কটকারী নেতারা হলেন- উপজেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রফি উল্লাহ (সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান), ডাঃ আহমদ আলী, আজমুল আলী, মোঃ তাজ উদ্দিন, মোঃ কয়েস মিয়া, নুনু মিয়া সিকদার মেম্বার, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এস এম আনোয়ারুল ইসলাম (সাবেক চেয়ারম্যান), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান (সাবেক চেয়ারম্যান), আব্দুর রব কাওসার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওঃ মনির হোসেন, উপজেলা বিএনপি’র সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মরম মিয়া মেম্বার, কামাল আহমদ, আজম আলী, আব্দুস সালাম কালাম মেম্বার, হেলাল মিয় ও হারুন মিয়া মেম্বার।

তাছাড়া পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের ২৭জন নেতার মধ্যে ২৪ জনই উপস্থিত হননি।

বয়কটকারী নেতারা হলেন- ১নং ওয়ার্ডের সভাপতি আজমুল আলী, সাধারণ সম্পাদক মুতলিব মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনসুর আলী। ২নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোঃ আজম আলী, সাধারণ সম্পাদক ছুরাব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হুসেন। ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিদুর রহমান (চন্দন)।

৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি জহির আলী, সাধারণ সম্পাদক মুজেফফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক জানু মিয়া। ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আপ্তাব আলী। ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি ইবরাহীম আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মঈন উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিন।

৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আহমদ আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক লেখন মিয়া। ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোঃ ফখরুল ইসলাম খাঁন, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুল হক বাসিত (সাবেক মেম্বার), সাংগঠনিক সম্পাদক যুবায়ের আহমদ। ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি হাজী সজ্জাদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ছমরু মিয়া।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মুজিবুর রহমান আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনো এম. ইলিয়াস আলীর জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এই অঞ্চলের মানুষ ইলিয়াস আলী ও তার পরিবারের নেতৃত্বের প্রতি দূড়ভাবে আস্তাশীল। এই এলাকায় ইলিয়াস আলী ও তার পরিবারকে অসম্মান করে অন্তত পক্ষে বিএনপির রাজনীতি করা সম্ভব নয়। তাই ইলিয়াস আলীকে যারা অসম্মান করবে তাদেরকে এই এলাকায় রাজনীতি করতে দেয়া হবেনা। প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও ইলিয়াস আলীর সম্মান রক্ষা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরীর সাথে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

(আজকের সিলেট/১৮ ডিসেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন