২১ ডিসেম্বর ২০১৭


শাবির সিন্ডিকেট নির্বাচন : ইশতেহারে বাদ শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন

শাবি প্রতিনিধি : সিলেটর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের তিনটি প্যানেল পৃথকভাবে ঘোষণা করছেন তাদের নির্বাচনী ইশতেহার; যেখানে শিক্ষকদের নানান ভোগবিলাসী জীবনমান নিশ্চিতকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া থাকলেও বাদ দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষামানের উন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধার ও সংকট নিরসনের কথা।

সিন্ডিকেটের পাশাপাশি এদিন একাডেমিক একাউন্সিলেরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে এসব নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ ও মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকবৃন্দের তিনটি প্যানেল সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের নির্বাচনকে কেন্দ্র্র করে পৃথক পৃথক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

তিন প্যানেলেরই নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষকদের জন্য বহুতল বিশিষ্ট বাসভবন নির্মাণ, ঢাকায় অতিথি ভবন নির্মাণ করা, শিক্ষকদের সন্তানের জন্য বেবী কেয়ারের ব্যবস্থা করা, ৫% বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করা, টিচার্স লাউঞ্জ প্রতিষ্ঠা, শীতকালীন ছুটির ব্যবস্থা করাসহ বিনোদনের জন্য আধুনিক সুযোগ-সবিধা সম্পন্ন ক্লাব গঠনেরর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ, শিক্ষকদের গবেষণা কাজের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি, শিক্ষকদের দ্রুত পদোন্নতি, পরীক্ষার ফলাফলের পর তড়িৎ বিল প্রদানসহ মাইনর কোর্স সমূহে শিক্ষকদের সম্মানী পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে এসব ইশতেহারে।

শাবির সিন্ডিকেটের মোট ১৩ জন সদস্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সভাপতি করে ও রেজিস্ট্রারকে সদস্য সচিব করে অন্য ৯টি পদ সরকার কর্তৃক মনোনিত থাকে। দুটি সদস্য পদের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৮৭ অনুযায়ী, দুইটি পদে অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক থেকে একজন এবং যেকোন ক্যাটাগরির শিক্ষকদের মধ্যে থেকে একজন সিন্ডিকেট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবনে।

সিন্ডিকেট নির্বাচনে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেলের হয়ে ক্যাটাগরি-১ (অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক) থেকে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুল আলম ও ক্যাটাগরি-২ (যেকোন শিক্ষক) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মস্তাবুর রহমান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেলের হয়ে ক্যাটাগরি-১ (অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক) থেকে সিভিল এন্ড এনভার্নমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম ও ক্যাটাগরি-২ (যেকোন শিক্ষক) থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম বেলায়েত হোসেন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকবৃন্দের প্যানেলের হয়ে ক্যাটাগরি-১ (অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক) থেকে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল ও ক্যাটাগরি-২ (যেকোন শিক্ষক) থেকে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

তিনটি প্যানেলের শিক্ষকরা শুধুামাত্র শিক্ষকদের ভোগবিলাসী জীবনমান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করায় এবং তাতে শিক্ষার্থীদের যাবতিয় বিষয় এড়িয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আতাউর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠেছে মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষার্থী না থাকলে এখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী কারোরই দরকার পড়ত না। অথচ শিক্ষকেরা নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কোন উল্লেখ ছাড়াই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করলেন। এটা আমার কাছে অনেকটা হাস্যকর। ”

বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মনোনিত প্রতিনিধি তাদের শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন অধিকার ,সমস্যা ও সংকটের কথা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলতে পারার নিয়ম রয়েছে।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট না থাকায় এখানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষামানের উন্নয়নসহ তাদের যাবতিয় সুযোগ-সুবিধা, অসুবিধার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

এ বিষয়ে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ রুদ্র বলে, “শিক্ষকরা যে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন তা দেখে আমরা হতবাক। বর্তমানে শিক্ষকদের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে। তাই তারা নিজেরদের ভোগবিলাসী জীবন নিশ্চিতে ব্যস্ত। তারা শিক্ষার্থীদের অধিকারের ব্যাপারে কোন কথা বলবে না।

“ শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে কথা বলবে ছাত্র সংসদের নেতারা। কিন্তু শিক্ষকেরা কায়দা করে দীর্ঘদীন যাবব সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রেখেছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার আর কেউ নেই। ”

শিক্ষার্থীদের কথা ইশতেহারে কেন নেই জানতে চাইলে মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকবৃন্দের প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বি তাজ উদ্দিন আহমেদ আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, “ তাড়াহুড়া করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি আমরা সংযোজন করতে পারিনি। ভুলে বাদ পড়েছে।”

এ বিষয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বি এ এইচ এম বেলায়েত হোসেন বলেন, “একাডেমিক কাউন্সিলেরের সব সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে অনুমোদন করে থাকে। সিন্ডিকেট নির্বাচনে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে যা ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়েছে তা শিক্ষার্থীদের ভালো জন্য করা হয়েছে। তাতে শিক্ষার মানের উন্নোয়ন হবে।”

তবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষামান, সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা, সংকট নিরসনের কথা নির্বাচনী ইশতেহারে কেন আনলেন না এমন প্রশ্নে কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি এই শিক্ষক।

একই বিষয়ে জানার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বি অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলমের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেনি।

২০১২ সালের এপ্রিলে সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দুই বছর পর পর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে গত কয়েক বছরে নির্বাচন হয়নি।

একাডেমিক কাউন্সিলের নির্বাচনে যারা প্রার্থী

সিন্ডিকেট নির্বাচনের পাশাপাশি আজ বৃহস্পতিবার একাডেমিক কাউন্সিলের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৮৭ অনুযায়ী, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য পদে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান নন বিশ^বিদ্যালয়ের এমন দুইজন সহযোগী অধ্যাপক এবং দুইজন সহকারী অধ্যাপক নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন। সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্য থেকে একাডেমিক কাউন্সিলের দুইজন সদস্য নির্বাচনে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ড. আসিফ ইকবাল, ইংরেজি বিভাগের মো. সেকেন্দার আলী, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগের ড. ওয়াহিদ উজ্জামান, গণিত বিভাগের ড. পাভেল শাহরিয়ার প্রার্থী হিসেবে অংশ গ্রহণ করছেন।

সহকারী অধ্যাপকদের মধ্য থেকে দুইজন সদস্য নির্বাচনে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. সাইফুল ইসলাম, আর্কিটেকচার বিভাগের সুব্রত দাশ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোহাম্মদ জাভেদ কায়সার ইবনে রহমান, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের মোহাম্মদ সাইফুল আলম আমিন, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সোবহানা তানজিমা আতিক, গণিত বিভাগের মো. মতিয়ার রহমান প্রার্থী হিসেবে অংশ গ্রহণ করছেন। রেজিস্ট্রার ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ ইশফকুল হোসেন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমরা চেষ্ঠা করব। এজন্য সকলের সহযোগিতা কাম্য ।

 

(আজকের সিলেট/২১ ডিসেম্বর/প্রতিনিধি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন