২ জানুয়ারি ২০১৮


নির্মাণ শেষেই ভেঙ্গে গেলো এলজিএসপির কালভার্ট

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর পরই ভেঙ্গে পড়েছে একটি কালভার্ট। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের পূর্ব বেলাগাঁও গ্রামে নির্মিত এ কালভার্টের বিভিন্ন অংশেও ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোন সময় অন্যান্য অংশও ভেঙ্গে যেতে পারে।

২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর কালভার্টটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২১ ডিসেম্বর। ২২ ডিসেম্বর কালভার্টটির এক পাশের প্রতিরক্ষা দেয়াল ভেঙে পড়ে।

জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয় সূত্রে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকারের সহায়তা প্রকল্পের (এলজিএসপি) আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কণ্ঠিনালা সেতু-রাবার বাঁধ সড়কে পূর্ব বেলাগাঁও গ্রামে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট চওড়া একটি কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঐ প্রকল্প কমিটির সভাপতি হন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমান ওরফে বজলু মেম্বার।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) কালভার্টটির নকশা ও প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করে দেয়। নকশায় সাত ফুট উচ্চতার ওই কালভার্টের নিচে রড ও কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে দুই পাশে তিনটি স্তরে ২০, ১৫ ও ১০ ইঞ্চি চওড়া করে ইটের দেয়াল নির্মাণের কথা রয়েছে। কালভার্টের দুই পাশে মাত্র ১০ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক পাশের দেওয়ালে প্রায় তিন ফুট দীর্ঘ ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণে ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি কালভার্টটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

কালভার্টটির এক নির্মাণ মিস্ত্রি সঙ্গে কথা বললে বলাই মিয়া বলেন, ‘সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য স্থানীয় উদ্যোগে কালভার্টের পাশ থেকে খননযন্ত্র দিয়ে কিছু মাটি কেটে দুই পাশে ফেলা হয়। এ কারণে মাটির চাপে কালভার্টে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে।

নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইউপি সদস্য যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই কাজ করেছি।’

নকশার বাইরে কোনও কাজ হয়নি দাবি করে জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের সদস্য ফজলুর রহমান বলেন,‘কালভার্টটি মেরামত করে দেওয়া হবে।’

জুড়ী উপজেলা এলজিইডির কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী ওহিদুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘কালভার্টটির নির্মাণ কাজ আমাদের তদারক করার কথা ছিল। কিন্তু এর নির্মাণ কাজ শুরু বা শেষ হওয়ার বিষয়ে ইউপি সদস্য আমাদের কিছুই জানায়নি।’

তিনি আরও বলেন,‘আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ কাজের বিল দেওয়া হবে না।’

(আজকের সিলেট/২ জানুয়ারি/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন