আজ শনিবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

লাশের রাজনীতি দিয়েই বছর শুরু করল ছাত্রদল-ছাত্রলীগ

  • আপডেট টাইম : January 10, 2018 6:00 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক : বছরের প্রথম দিনে ছিলো ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ওই দিনই দলীয় কোন্দলে সিলেট নগরে খুন হন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হাসনাত শিমু।

এর তিন দিন পর ৪ জানুয়ারি ছিলো ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ওইদিনও নগরীর টিলাগড়ে এমসি কলেজে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষ। অস্ত্রের মহড়া, ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া এবং গুলাগুলিও হয়। তবে সেদিন কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে এ জন্য বেশি অপেক্ষা করেনি ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংঘাতের জের ধরেই রোববার টিলাগড়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের ছুরিকাঘাতে খুন হন সিলেট সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী তানিম খান।

ফলে ছাত্রদলের পর, ছাত্রলীগও হত্যাকান্ডের মাধ্যমেই নতুন বছরকে ‘স্বাগত’ জানালো। সিলেটে খুনোখুনির মাধ্যমেই শুরু হলো ইংরেজি নতুন বছর।

২০১৮ সালকে বলা হচ্ছে নির্বাচনী বছর। সবকিছু ঠিকঠিক থাকলে এবছরই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। চলতি বছরেই অনুষ্ঠিত হবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ একাধিক সিটি নির্বাচন।

নির্বাচনকে লক্ষ্য করে যখন দল গোছাতে তাগাদা দিচ্ছেন শীর্ষ নেতারা তখন সিলেটে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল মেতে উঠেছে খুনোখুনিতে। এই দুই ছাত্রসংগঠনের আভ্যন্তরীন বিরোধে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিলেটে দুই তরুণ খুন হলেন।

ছাত্রসংগঠনের এমন সংঘাতময় আচরণকে বিব্রতকর বললেও এদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন সিলেটের আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা।

গত ১ জানুয়ারি নগরীর কোর্ট পয়েন্টে ছাত্রদলের মিছিলের মধ্যে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আবু হাসনাত শিমুকে। এঘটনায় মহানগর ছাত্রদল নেতা নাবিল রাজা চৌধুরীকে প্রধান আসামী করে মামলা করা হয়। মামলায় মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাজী মেরাজকেও আসামী করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বিএনপি বা ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও আসামীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোনো সংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রোববার রাতে নগরীর টিলাগড়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ছাত্রলীগ কর্মী তানিম খানকে। তানিম ছাত্রলীগের হিরণ মাহমুদ নিপু গ্রুপের কর্মী। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরীর অনুসারীরা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তানিমের সহপাঠীরা। তবে এই হত্যাকান্ডের পরও এখন পর্যন্ত এ ব্যপারে কোনো মন্তব্য করেননি সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা। নেওয়া হয়নি কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা।

(আজকের সিলেট/১০ জানুয়ারি/ডি/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ