আজ শনিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

হবিগঞ্জে নিউমোনিয়ায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু

  • আপডেট টাইম : January 9, 2018 8:34 PM

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : গত তিন দিনে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় চার নবজাতকসহ পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুরা হলো- হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জিলুয়া গ্রামের সোমলালের দুই মাসের ছেলে শিশু সীমান্ত, চুনারুঘাট উপজেলার তাউসি গ্রামের ইদ্রিস আলীর নবজাতক সন্তান, নবীগঞ্জের শ্রীমতপুর গ্রামের মহিত মিয়ার নবজাতক সন্তান, বানিয়াচং উপজেলার উত্তর সাঙ্গর গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার নবজাতক সন্তান এবং লাখাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের আক্তার মিয়ার ১১ দিনের শিশু ছেলে। তারা সবাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ হাসপাতালে মারা যায়।

মঙ্গলবার এ হাসপাতালের ১৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ১২৯টি শিশু। তাদের অধিকাংশই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত অন্যান্য রোগে আক্রান্ত।

রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা সেবা ঠিকমতো পাচ্ছেন না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান বলেন, যে শিশুরা মারা গেছে, তারা সবাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। চিকিৎসায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেন বজলুর রহমান।

মঙ্গলবার দুপুরে ওই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ওয়ার্ডে দাঁড়ানোর কোনো জায়গা নেই। চারপাশে রোগী ও স্বজনদের চিৎকার-চেঁচামেচি। কেউ শয্যা পেয়েছে, কেউ পায়নি। ১৮ শয্যার এ শিশু ওয়ার্ডে মঙ্গলবার ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ১২৯টি শিশু ভর্তি ছিল।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু সায়মার মা দিলারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘এ হাসপাতালে ভর্তি করে কোনো লাভ নেই। চিকিৎসক ও ওষুধ কিছুই পাওয়া যায় না।’

হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রোগী দেখছেন কি না, জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি গ্রামের অসুস্থ শিশুর অভিভাবক আলাল মিয়া বলেন, ‘এখানে নার্সরাই রোগী দেখাশোনা করেন। চিকিৎসক মনে করলে সকালে এক চক্কর দিয়ে যান। পরে তাঁদের আর পাওয়া যায় না।’

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান রোগীর স্বজনদের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করে বলেন, দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই শিশু ওয়ার্ডের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। চিকিৎসাসেবায় তাঁদের কোনো ঘাটতি নেই। তবে সমস্যা হলো শয্যা-সংকট। ১৮টি শয্যার বিপরীতে ১০০ থেকে ১৫০ শিশুরোগী ভর্তি থাকে সব সময়।

(আজকের সিলেট/৯ জানুয়ারি/ডি/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ