৩১ অক্টোবর ২০২২


নগরীতে হঠাৎ বেড়েছে বাসা-বাড়িতে চুরি

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : নগরীর বাসাবাড়িতে হঠাৎ করেই চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। সম্প্রতি নগরীর কয়েকটি বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। বাসাবাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ও দরজার তালা ভেঙে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার, ট্যাব ও মোবাইল ফোনসেট লুটে নিচ্ছে চোর দল। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক নগরবাসী।

চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, থানায় অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয় না। আর কতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ চুরি বৃদ্ধির বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছেন চুরির ঘটনাগুলো নিয়ে তারা কাজ করছেন।

জানাযায়, গত ২৬ অক্টোবর লালাদিঘীরপাড় এলাকার গৃহিনী শাহানা আক্তার ও সাংবাদিক আশরাফুল কবীর দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোর দল ভেতরে প্রবেশ করে ২১ লাখ টাকা মূল্যের ২৮ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এর কিছুদির আগে একই এলাকার মছব্বির আলীর বাসায়ও চুরির ঘটনা ঘটে।

এর কয়েকদিন আগে লামাবাজার এলাকার একটি টাওয়ারের বাসিন্দা ডা. প্রসুন কান্দি দেব এর বাসায় দুর্বৃত্তরা হানা দেয়। এ ঘটনায় তিনি কতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। কিছুদিনের ব্যবধানে একইভাবে চুরির ঘটনা ঘটেছে নিরাময় আবাসিক এলাকায়, ডা. নীলোৎপল লস্কর সানি নামে আরেকজন চিকিৎসকের বাসায়। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের লালাদিঘীরপার কলকাকলী আবাসিক এলাকার (৩৬/১) তৃতীয় তলায় পরিবার নিয়ে বাস করেন ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন (ইমজা)-এর সাবেক সভাপতি আশরাফুল কবীর দম্পতি।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে তারা বের হন। পরের দিন আবার বাসায় ফিরে আসেন। বাসায় এসেও চুরির কোনো আলামত বুঝতে পারেননি। এমনকি দিন গিয়ে রাত গড়ালেও চুরির বিষয়টি চোখে পড়েনি। পরের দিন সকালে স্টিলের আলমিরায় প্রয়োজনীয় কিছু খুঁজতে গিয়ে ধরা পড়ে চুরির বিষয়টি। তারা দেখতে পান, স্বর্ণ ছাড়া বাসার আর কোন জিনিস খোয়া যায়নি। তাদের ঘরের তালা অক্ষত থাকলেও চোর বাসার বেলকনি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। খবর পেয়ে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তার বাসা পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক আশরাফুল কবীর কতোয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন।

আলাপ করে জানা গেছে, লামাবাজার বিথীকা আবাসিক এলাকার মাধবীলতা টাওয়ারে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন ডা. প্রসুন কান্দি দেব। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এই চিকিৎসকের বাসাতেও হানা দেয় চোরদল। তিনি জানান, ওইদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখেন, পাশের কক্ষের গ্রীল কাটা। কাপড় এলোমেলো। তবে মূলবান কিছু নিতে না পারলেও চোরদল কিছু যে খোঁজাখুঁজি করেছে, সেটি স্পষ্ট হয়েছে।’ পরে এ ঘটনায় তিনি কতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

এসব কটি চুরির ঘটনা ঘটেছে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক জানান, ‘অভিভাবকদের সচেতন করতে আমরা সবাইকে নিয়ে বসবো। আইনের পাশাপাশি আমাদেরকেও সচেতন হতে হবে।’

লামাবাজার নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট আইনজীবী ও মহানগর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ই ইউ শহিদুল ইসলাম শাহীন জানান, ‘আমার নিজের বাসাসহ আশপাশ এলাকার মধ্যে কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ৫ দিন আগে লামাবাজার মদনমোহন কলেজের তিনমন্দিরের পূজামন্ডপে প্রবেশ করে চোরেরা স্বর্ণলংকার নিয়ে যায়। একই সপ্তাহে নয়াপাড়া এলাকার নাইসগার্ডেন টাওয়ারের বিপরীতে একটি বাসায়ও চুরির খবর আমার কাছে আসে। আমি বিষয়টি পুলিশকে অবগত করতে বলেছি।’

এই আইনজীবী আরো বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের অনেক সময় গ্রেফতারও করে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার তারা জেল থেকে বেরিয়ে আসে। জুলাই মাসে আমার বাসাতেও বড় ধরণের চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখনো অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি।

প্রতিটি চুরির ঘটনায় আলাদা আলাদা অভিযোগপত্রের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার।’

লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাশেদ জানান, চুরির ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে আমরা কয়েকটি বাসায় ছুটে গিয়েছি। চুরি করা মালপত্র উদ্ধার ও চোর ধরার জন্য অভিযান চলছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, লালাদিঘীরপাড়ে সাংবাদিক আশরাফুল কবীরের বাসায় স্বর্ণলংকার চুরির ঘটনার একদিন পরেই জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- রানা এবং হৃদয়। জড়িত অন্যদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে নিরাময় এলাকায় ডাক্তার সানির বাসায় চুরির খবর পেয়ে আমরা পরিদর্শন করেছি।’

কতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, ‘চুরি বেড়েছে, একথা সত্য নয়। কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে, এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে যেসকল বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে, অধিকাংশ পরিবারই ঘটনার সময় বাসায় ছিলেন না। এজন্য পরিবারগুলোকে এসব ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।’

শেয়ার করুন