৯ নভেম্বর ২০২২


জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পাশে সরকার

শেয়ার করুন

এম জসীম উদ্দিন : রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মৃত দেহ দাফন/সৎকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পানির ও পয়ঃ নিস্কাশন বিল, গ্যাস বিল, হোল্ডিং ট্যাক্স সুবিধা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসা ও অন্যান্য কাজে ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের সহিত যোগাযোগের জন্য ২০১৭ সালে হুইল চেয়ারে চলাচলকারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছে। এ খাতে প্রতিজনকে মাসিক ১,১০০/- টাকা হতে ১৯০০/- পর্যন্ত মোবাইল বিল প্রদান করা হয়ে থাকে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়। উক্ত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে তাঁরা নিম্নবর্ণিত সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেনঃ
যুদ্ধাহত মু্ক্তিযোদ্ধাগণ পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম শ্রেণিতে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটে এবং আন্তর্জাতিক যে কোন রুটে (ইকোনমি) বছরে একবার যাতায়াত সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিআরটিসির বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা পেয়ে থাকেন। বি, আই, ডব্লিউ, টি, এ’র জলযানে প্রথম শ্রেণিতে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা পেয়ে থাকেন। সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে গাড়ির টোল মওকুফ সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিআইডব্লিউটিএ’র ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রে তাঁদের বহনকারি প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও এ্যাম্বুলেন্স বিনা ভাড়ায় পারাপারের সুবিধা পেয়ে থাকেন।
সারাদেশের হাট-বাজারের ইজারালব্ধ অর্থ হতে প্রাপ্ত ৪% টাকা অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদান করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে ও নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করতে ৬৪টি জেলায় প্রায় ৪০০টি লাইব্রেরিতে বিনামূল্যে অনুদান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই/পুস্তক বিতরণ করা হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশের আলোকে ১৮৮ জন মহিলা মুক্তিযোদ্ধার (বীরাঙ্গনার) নাম গেজেটে প্রকাশ। মুজিব নগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন। ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করার লক্ষে ২৯৭১টি বাসস্থানের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত। এর পাশাপাশি দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীনামূল্যে/ স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার।
মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ শব্দটি ব্যবহারের বিধান করে ২০২০ সালে গেজেট প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গেজেটে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ এর ধারা ২(১১) এ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে জাতীয় পরিচয়পত্রে ‘বীর মুক্তযোদ্ধা’ খচিত উন্নতমানের স্মার্ট কার্ড অর্ধশতাধিক মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র। বিগত ১৩ বছরে তাদের জীবন মান উন্নয়নে সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জীবনমানের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন পরম শ্রদ্ধায় জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মনে রাখবে ।

শেয়ার করুন