৩০ নভেম্বর ২০২২


হাকালুকিতে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে অতিথি পাখি

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলের হাকালুকি হাওরে ঝাকে ঝাকে নামছে অতিথি পাখি। ইউরেশিয়া অঞ্চলের সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়ায় একটু উষ্ণতার খোঁজে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এসব অতিথি পাখি ছুটে আসছে বাংলাদেশে। আর এসব পাখির বেশিরভাগ নামছে হাকালুকি হাওরসহ সিলেট অঞ্চলের হাওর-বাওরে। অবশ্য বসে নেই পেশাদার পাখি শিকারী চক্র। শীতের শুরুতেই তারা তৎপর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ফাঁদ পেতে এবং বিষটোপে প্রতিদিন অতিথি পাখি শিকার করছে এই চক্রটি। ক্ষেত্র বিশেষ তারা ধরাও পড়লেও অতিথি পাখি রক্ষায় নেই তেমন কোনো পদক্ষেপ।

জানা গেছে, শীতের শুরুতেই মৌলভীবাজারের হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরের বাইক্কা বিলসহ ছোট ছোট হাওর-বাঁওড়, বিল-ঝিলে পরিযায়ী পাখি আসা শুরু হয়। সাইবেরিয়াসহ শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে তুলনামূলক উষ্ণ অঞ্চলে খাদ্যের খোঁজে এসব পাখি আসে। বিভিন্ন জাতের হাঁসসহ অনেক ধরনের পাখির কাকলিতে সরব হয়ে ওঠে হাওরের বুক। সারা দিন বিলে বিলে পাখির ওড়াউড়ি চলে। পাখির এই আগমন শুরু হলেই তৎপর হয়ে ওঠেন শৌখিন ও পেশাদার পাখিশিকারিরা। শুরু হয় হাওরসংলগ্ন জলাভূমিতে জালের ফাঁদ পেতে ও বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকার। এরই মধ্যে হাইল হাওরের বাইক্কা বিল ও বাইক্কা বিলসংলগ্ন এলাকা, কাউয়াদীঘি ও হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন পাশে পাখিশিকারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, শীত মৌসুমে পাখিদের কলরবে মুখরিত থাকে হাওর এলাকা। এ সময় বালি হাঁস, পাতিহাস, ল্যাঞ্জা হাঁস, কানাবগি, লালবগি, শামুকখুরসহ দেশি-বেদেশি পাখি বিচরণ করে। এ সুযোগে পাখি শিকারিরা বিষটোপ ও বিভিন্ন ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে। পাখি শিকারিদের দমন করা না গেলে দিন দিন ঐতিহ্যবাহী পাখিগুলো হারিয়ে যাবে এবং এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে।

সিলেট বন বিভাগের জুড়ী উপজেলার সহকারী বন সংরক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সকালে হাকালুকি হাওরে গিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় পাখি শিকারিদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয় এবং আহত ৩টি পাখিকে চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে আর পাখি শিকার করবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে শিকারিদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

জুড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার অধিকারী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতে শিকার হওয়া পাখিগুলোকে অবমুক্ত করা হয়।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, শীত এলে পাখি শিকারিদের উৎপাত বেড়ে যায়। পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন