৮ ডিসেম্বর ২০২২


৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারে উড়েছিল স্বাধীন বাংলার পতাকা

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : আজ ৮ ডিসেম্বর। একাত্তরের অগ্নিঝরা এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখল মুক্ত হয় মৌলভীবাজার। মুক্ত আকাশে ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে সেদিন হানাদার বাহিনীরা সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। মুক্ত হয় মৌলভীবাজার জেলা।

কমলগঞ্জ, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলাকে হানাদারমুক্ত ঘোষণার পর একাত্তরের ৫ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী তিনদিক থেকে আক্রমণের জন্য মৌলভীবাজার শহরের দিকে অগ্রসর হয়। ৬ ডিসেম্বর বর্ষিজোড়া, সালামিটিলা এবং শমসেরনগর সড়ক এলাকায় মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সঙ্গে পাকসেনাদের ব্যাপক যুদ্ধ হয়। যুদ্ধের এক পর্যায়ে হানাদার বাহিনী পরাস্ত হয়ে ৭ ডিসেম্বর সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও সংগঠকদের সুচিন্তিত দিক নির্দেশনায় অবশেষে মৌলভীবাজারের পবিত্র ভূমি হানাদার মুক্ত হয় একাত্তরের ৮ ডিসেম্বর।

তখনকার গণপরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে ঐদিন তৎকালীন মহকুমা হাকিমের কার্যালয় (বর্তমান জর্জ কোর্ট ভবনে) মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনসাধারণকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। বাংলার বীর সন্তানেরা ও মুক্তিকামী মানুষের উল্লাসে মুখর হয় পাকবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষত-বিক্ষত মৌলভীবাজার। স্বজন হারানোর বেদনা ভুলে সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসে মুক্তিপাগল আপামর জনতা।

জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মৌলভীবাজার জেলার মানুষের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভুমিকা।

বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমানের সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে শমশেরনগরে আমাদের হাতে ১১ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। এরপর সেক্টর কমান্ডার মেজর সিআর দত্ত এবং হবিগঞ্জের তৎকালীন এমপি মানিক চৌধুরীর নির্দেশে বর্ডার অতিক্রম করে ভারতে যাই ও সেখানে গিয়ে ট্রেনিংসহ যুদ্ধের বৃহৎ প্রস্তুতি নিয়ে আসি। পরে মৌলভীবাজারের হেডকোয়ার্টার থেকে বিভিন্ন স্থানে সহযোদ্ধাদের নিয়ে যুদ্ধ করি। ৯ মাস যুদ্ধের এক পর্যায়ে পাকহানাদার বাহিনী পরাস্ত হয়ে ৭ ডিসেম্বর সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। একাত্তরের ৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখল মুক্ত হয় মৌলভীবাজার।’

জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে জানা যায়, মৌলভীবাজার শহরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ছিল পাক বাহিনীর এই অঞ্চলের ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার। যুদ্ধকালীন হানাদার বাহিনীর টর্চার শেল হিসেবে পরিচিত বাংকারটি পিটিআইতে মাটি চাপা অবস্থায় আজো সাক্ষী হয়ে আছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের আক্ষেপ, জেলায় অনেক গণহত্যার গণকবর ও বধ্যভূমি রয়েছে যা এখনো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ করার স্বার্থে বধ্যভূমি, গণহত্যার স্থানগুলো সংরক্ষণ করে শহীদদের নাম-স্মৃতিফলক করা প্রয়োজন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন জানান, দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

শেয়ার করুন