আজ শনিবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

কথা রাখলেন না মেয়র আরিফ

  • আপডেট টাইম : January 23, 2018 11:49 AM

আরাফাত হোসেন : সামনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। নির্বাচনে নিজের পক্ষে দলীয় মনোনয়ন টিকিয়ে রাখতে লন্ডনে পাড়ি দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। আর লন্ডনে যাওয়ার সময় মেয়র প্যানেলের কোন সদস্যকে দায়িত্ব না দিয়ে যাওয়া নিয়ে ফের সমালোচনার মূখে পড়েছেন এই নগরপিতা। আর সিসিকের প্যানেল মেয়র (১) রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে মেয়রের দায়িত্ব না দিতেই তিনি এমনটি করেছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, সিসিকের বর্তমান পরিষদ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই মেয়র আরিফ কয়েস লোদীকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালতও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন। তার পরও মেয়র আরিফ বার বার আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসছেন। এনিয়ে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও বিষয়টি নিয়ে আরিফেরে উপর নাখোস রয়েছেন বলেন জানা গেছে।

আর নিজের ক্ষোভ ও জনগনের দাবীর প্রেক্ষিতে আসন্ন নির্বাচনে দল থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন চাইছেন নগর বিএনপির সহ-সভাপতি, প্যানেল মেয়র (১) ও টানা তিনবারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। আর এতে করে বেশ বেকায়দায় পড়েছেন মেয়র আরিফ। দলের বেশীরভাগ নেতাকর্মী কয়েস লোদী পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের হাউকমান্ডেরও এতে মৌন সমর্থন রয়েছে।

কয়েস লোদীর সাথে বিষয়টি মিটমাট করতে গত বছরের ৭নভেম্বর সকালে হঠাৎ করেই কয়েস লোদীর বাসায় হাজির হন মেয়র আরিফ। তিনি বাসায় ঢুকেই প্রথমে কয়েস লোদীর মায়ের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। এবং লোদীর মায়ের বিগত দিনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে কথা বলেন। নগরী ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে দু’জনকে এক সাথে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। অতীতের সৃষ্ট ভুলবোঝাবুঝির ঘটনা ভুলে গিয়ে ভবিষ্যতে দুজনে এক সাথে কাজ করার আহবান জানান। এসময় কয়েস লোদীর মা দু’জনের মধ্যে কোলাকুলিও করিয়ে দেন।

এসময় মেয়র আরিফ বলেছিলেন, তিনি ইচ্ছা করে কিছু করেন নি। এতে ‘শয়তানের ওয়াসওয়াসা’ ছিল। ভবিষ্যতে এরকম ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবেনা।

কিন্তু সর্বশেষ হত রোববার মেয়র আরিফ লন্ডন যাওয়ার সময় মেয়র প্যানেলের প্রথম সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে দায়িত্ব না দিয়ে কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিবকে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দিয়ে যান। যা কর্পোরেশনের আইন ও আদালতের নির্দেশ পরিপন্থি। এনিয়ে নগরজুড়ে আবারো সমালোচনার ঝড় বইছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র (৩) এ্যডভোকেট রুকসানা বেগম শাহনাজ আক্ষেপ করে আজকের সিলেট ডটকম’কে বলেন, কেই যদি আইন অমান্য করেন তবে কি আর করার আছে। আমি মহিলা হিসেবে বঞ্চিত না কি কারনে বঞ্চিত আমি জানিনা। মেয়রর বার বার কর্পোরেশনের আইনকে অমান্য করছন, তা মোটেই কাম্য নয়। সর্বশেষ সাম্প্রতিক সময়ে কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে মতবিরোধ দেখা দিলে তিনি কাউন্সিলরদের একটি সভা আহ্বান করেছিলেন। সেখানে কাউন্সিলররা কর্পোরেশনের আইনকে বার বার অমান্য করে সিইওকে দায়িত্ব দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র এঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবেনা বলে প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু শেষমেষ সেই প্রতিশ্রুতিও তিনি রাখেন নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৫ জুন মেয়রের দায়িত্ব গ্রহন করেন আরিফুল হক চৌদুরী। এর পর ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে যান তিনি। এসময় তিনি কর্পোরেশনের আইনকে অমান্য করে মেয়র প্যানেলের দ্বিতীয় সদস্য সালেহ আহমদ চৌধুরীকে দায়িত্ব দিয়ে একটি চিঠি ইস্যু করেন। এর পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

অবশেষে কয়েস লোদীর বাসায় মেয়র আরিফ

সাড় তিন বছর পর এক সাথে আরিফ-লোদী!

(আজকের সিলেট/২৩ জানুয়ারি/এএইচ/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ