১৯ জানুয়ারি ২০২৩


জাফলংয়ে মোবাইল নেটওয়ার্কে ভোগান্তি

শেয়ার করুন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : প্রকৃতি কন্যা হিসাবে পরিচিত গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে থরে থরে সাজানো পাথর রাশি স্বচ্ছ জল এবং মায়াবী ঝর্ণা জাফলং এর প্রধান আকর্ষণ।

সীমান্তের ওপারে ভারতের পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরামধারায় ছুটে চলা প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি,উঁচু পাহাড়ের গায়ে লেপ্টে থাকা গহীন অরণ্যের মাঝে শুনশান নিরবতা পর্যটকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। আগত পর্যটকরা হারিয়ে যায় প্রকৃতির এক অনিন্দ সুন্দর ভূবনে। কয়েক যুগ ধরে জাফলং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্যটন নগরী হিসাবে দেশ ও বিদেশের ভ্রমণপিপাসুদের কাছে যেমন পরিচিত তেমনি সরকারিভাবে স্বীকৃত উল্লেখযোগ্য পর্যটন নগীরর একটি।

সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা পর্যটন মৌসুমে পর্যটক মুখর থাকে জাফলং পর্যটন স্পট । আর এই সময়ে পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক নিয়ে।পর্যটকদের ভিড় হলেই নেটওয়ার্কের ধীরগতি আবার কখনো বন্ধ হয়ে যায় সেবা। শুধু তা-ই নয়, ব্রডব্যান্ড পরিষেবাতেও ধীরগতি চলে আসে ওই সময়ে।

পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে নৌকা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পর্যটন স্থান থেকে ফিরতে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘসময়। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায় না মাঝিকে নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনার কারণে। স্বচ্ছ জলে গা ভিজিয়ে যে প্রশান্তি আসে ফেরার পথে তা রূপ নেয় ভোগান্তিতে। শুধু তাই নয় অনেক সময় ২০-২৫ জনের বন্ধু বান্ধবের গ্রুপ আসা মাত্রই দুই চারজন এদিক সেদিক হলেই তাদেরকে খুঁজে বের করতে ভ্রমনের আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়।

একমাত্র মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে। কুলের শিশু হারিয়ে দিশেহারা পর্যটক চারিদিক হন্য হয়ে ঘুরেন। দায়িত্বরত টুরিস্ট পুলিশরা হারিয়ে যাওয়া শিশুকে পেলেও ঠিক সময়ে শিশুর বাবা মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন না একমাত্র মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে। এটা নিত্যদিনের ঘটনা।

টাঙ্গাইল মধুপুর থেকে আসা আল আমিন বলেন,আমরা ৪১ জন জাফলং এসেছি।আসা মাত্র আমাদের বন্ধুদের ১৭ /১৮ জন আমাদের মাঝ থেকে ছিটকে পড়েছে। দেড় ঘণ্টা খোঁজাখুজির পরও তাদেরকে খুঁজে পাচ্ছি না। এটা আমাদের জন্য চরম একটা ভোগান্তি। মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকলে আমাদের এই ভোগান্তি পেতে হতো না। তিনি জানান এই লম্বা সিড়ি তিন থেকে চারবার সাথে থাকা অন্য বন্ধুদের নিয়ে উঠানামা করেছেন। তা যে কি কষ্টের বলে বুঝাতে পারবেন না।

জাফলং টুরিস্ট পুলিশের ইউনিট ইনচার্জের ওসি রতন শেখ বলেন, জাফলং পর্যটন স্পটে নেটওয়ার্কের ভোগান্তি বলে শেষ করা যাবে না। বিভিন্ন সিম কোম্পানির টাওয়ার বসানোর পরও নেটওয়ার্ক সমস্যায় দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের নিত্যদিনের ভোগান্তি। অনেক সময় মা তার শিশুকে হারিয়ে খুজে পায়না,অনেক স্বামী এসে বলেন আমার স্ত্রীকে খুঁজে পাচ্ছি না হারিয়ে গেছে। আসলে হারায় নাই মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে খুঁজে পায় না। এখানেই শেষ নয়, প্রতারক ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের কাছ থেকে এই সুযোগটা খুব ভালোভাবে নেয়।

ক্যামেরাম্যান থেকে শুরু করে বিভিন্ন নকল প্রসাধনীর ভাসমান ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের কাছে তাদের নকল পূণ্য বিক্রি করে পক্ষান্তরে পর্যটকরা যখন বুঝতে পারে তখন ভয়াবহ মোবাইল নেটওয়ার্ক ভোগান্তির কারণে তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে না। আমারাও যথাযত সময়ে পর্যটকদের পরিপূর্ণ সেবা দিতে ব্যর্থ হই।

শেয়ার করুন