২৪ জানুয়ারি ২০২৩


শাবিতে এক বছরে ভর্তি ফি বেড়েছে ৬৯০০

শেয়ার করুন

শাবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গতবছরের তুলনায় ভর্তি ফি প্রায় দ্বিগুণ নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভর্তির রসিদে তিনটি খাত সংযোজন করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের খরচ বেড়েছে আরও চার হাজার ৭০০ টাকা। আগের খাতের কয়েকটিতেও টাকার পরিমাণ বেড়েছে। সবমিলিয়ে শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গুচ্ছতে প্রাথমিক ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হলেও টাকার রসিদে এর কোনো নির্দিষ্ট খাত উল্লেখ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হিসাব নম্বরে নতুন তিনটি খাতসহ মোট পাঁচটি খাতে ১০ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ খাতে গুচ্ছতে নেওয়া প্রাথমিক ভর্তির ফি পাঁচ হাজার টাকা সমন্বয় করা হয়েছে। তবে এ ফি নির্দিষ্ট কোন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে তার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা নেই রসিদে। অন্য হিসাব নম্বরে ১৭টি খাতে চার হাজার ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

গতবছরের ভর্তির রসিদে উল্লেখিত খাতের টাকার সঙ্গে তুলনা করলে শিক্ষার্থীদের এ বছর ছয় হাজার ৯০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। যা নিয়ে এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভর্তি ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তবে এখনো প্রশাসন থেকে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। এ ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের হাতে পাওয়া রসিদ মারফত ‘খাতওয়ারি’ তথ্য জানা যায়। এবছর খাতের তালিকায় দেখা যায়, ভর্তি ও আনুষঙ্গিক ফি ৭০০ টাকা, বেতন ৪৫০ টাকা, রেজিস্ট্রেশন ফি ৪৩০ টাকা, পরিবহন ফি ৫৫০ টাকা, ইউনিয়ন ফি ১০০টাকা, ছাত্র/ছাত্রী কল্যাণ ফি ৩০০ টাকা, লাইব্রেরি ফি ১৭৫ টাকা, রোভার স্কাউট ফি ২৫ টাকা, বিএনসিসি ফি ২৫ টাকা ও ইনস্যুরেন্স ফি (জীবন বীমা ও স্বাস্থ্য বীমা) বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যান্য ফির মধ্যে রয়েছে পাঠবহির্ভূত কার্যক্রম ১৫০ টাকা, চিকিৎসা ফি ১২০ টাকা, উৎসব ফি ১০০ টাকা, পরিচয়পত্র ফি ১৭৫, সিলেবাস ফি ৪০০ টাকা, শিক্ষাপঞ্জি ফি ১০০ টাকা ও মাদকাসক্তি পরীক্ষা ফি ৫০০ টাকা।

এছাড়া বিভাগের উন্নয়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা, হল সংযুক্তি ফি ৫০০ এবং নতুন সংযোজিত তিনটি খাতে যথাক্রমে প্রক্টরিয়াল সার্ভিস ফি ১০০ টাকা, ভর্তি প্রক্রিয়াকরণ ফি ৩৪০০ টাকা ও বিভাগীয় কম্পিউটার/ল্যাব উন্নয়ন ফি ১২০০ টাকা।

বিভাগের উন্নয়ন ফি গতবছর ছিল তিন হাজার টাকা। এবছর ৬৬ শতাংশ বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। গতবছর কম্পিউটার ফি ৩০০ টাকা নিলেও এবছর বিভাগীয় কম্পিউটার/ল্যাব উন্নয়ন ফি নামে নতুন খাত সংযোজন করে ১২ ০০ টাকা, মাদকাসক্তি পরীক্ষা ফি ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা এবং ইন্স্যুরেন্স ফি ৩০০ টাকা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

ভর্তি ও আনুষঙ্গিক ফি এবং ভর্তি প্রক্রিয়াকরণ ফি নামে দুই হিসাব নম্বরে টাকা নেওয়ার বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সেক্রেটারি ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ফজলুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টস নীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধার্থে দুই হিসাব নম্বরে টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ভর্তি প্রক্রিয়াকরণ খাত বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যবারের চেয়ে এবার ভর্তি প্রক্রিয়ার পদ্ধতি ভিন্ন। ভর্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহের জন্য এ খাত তৈরি করা হয়েছে।

প্রক্টরিয়াল সার্ভিস ফি প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রক্টরিয়াল বডির বিভিন্ন কার্যাবলির জন্য এটা নেওয়া হয়েছে।

তবে বিভাগের উন্নয়ন ফি ও বিভাগীয় কম্পিউটার ফিসহ অন্যান্য ফি বাড়ানো এবং খাত বৃদ্ধির বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তিনি বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।

গতবছর কম্পিউটার ফি ৩০০ টাকা নেওয়া হলেও এবার বিভাগের উন্নয়ন ফির পাশাপাশি বিভাগের কম্পিউটার/ল্যাব উন্নয়নের জন্য ১২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে একাডেমিক কাউন্সিলের সেক্রেটারি বলেন, ‘এখন বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে বিধায় নেওয়া হচ্ছে। আধুনিকায়ন হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে। সেজন্যই নেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি ও ‘খাতওয়ারি’ ফি নির্ধারণ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার এবং ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ও ‘খাতওয়ারি’ ফি নির্ধারণ কমিটির সদস্য সচিব ইশরাত ইবনে ইসমাইলের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন