আজ বুধবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘স্বর্নালী ছড়া’

  • আপডেট টাইম : জুলাই ২১, ২০১৭ ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : প্রকৃতির নিজহাতে অপরুপ সাজে সজ্জিত চায়ের রাজধানী হিসেবে সুপরিচিত সুনাম ধন্য পর্যটন এলাকা চায়ের শহর শ্রীমঙ্গল। এই অঞ্চলে যতোদূর চোখ যায় মসৃণ সবুজের হাতছানি উচুঁ-নিচু পাহাড়ি টিলা, উপরে রয়েছে বিস্তৃত নীলাভ আকাশ। শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যের কথা বর্ণনাতিত। এখানে চতুর্দিকে রয়েছে বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থান সমূহ। যেখানে প্রতিদিন আগত হাজারো দর্শনার্থীদের মিলনমেলা দেখা যায়। এতদ্বঅঞ্চলে যত বেশী বেড়ানো যায় ততই নতুন নতুন কোন না কোন বৈচিত্রময় স্থানের সন্ধান পাওয়া যায়।

বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বিভিন্ন মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দর্শনীয় স্থান সমূহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেই সুবাদে সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাধানগর এলাকায় এক মনোরম ছড়ার সন্ধান পাওয়া যায় যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনোমুগ্ধকর স্থান হিসেবে দ্রুত পরিচিতি লাভ করে।

রাধানগর এলাকা হতে প্রায় অর্ধ কি:মি: সামনে এগিয়ে গেলেই ছোট্ট একটি ব্রিজ এর নিচে এমন এক মনোরম সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান রয়েছে যা যে কাউকেই অতি সহজেই মুগ্ধ করে দিতে পারে। ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সেই ছড়াটি। ছড়ায় পাথরের উপড়ে সোনালি আইশ পড়ে উজ্জ্বল হয়ে মনোরম দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। এই সোনালী আবরনের কারণেই মূলত এই ছড়াটি স্থানীয় ভাবে “স্বর্নালী ছড়া” নামে পরিচিতি লাভ করে।

ব্রিজের নিচে ছড়ায় ছোট নালা রয়েছে একটু উচু থেকে নিচে ধবধবে স্বচ্ছ পানি পড়ার শব্দ সত্যিই এক কাব্যিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। প্রতিদিনই স্থানীয় ও আগত বিভিন্ন পর্যটকগন এই ছড়ায় এসে তার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্বের দরবারে। ছড়া দিয়ে পায়ে হেটে একটু সামনের দিকে এগিয়ে গেলে দেখা যাবে বিশাল বাশঁ ঝাড়। তার পাশেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছ-গাছালির বাগান। ছড়ায় প্রবাহিত অত্যন্ত স্বচ্ছ এই পানির নিচে দেখা যাবে সোনালী সৌন্দর্য্য।

ব্রিজের নিচে দাড়িয়ে স্বচ্ছ পানির স্বা স্বা শব্দ মনে হবে কোন এক বিশাল আকৃতির কোন এক ঝর্ণার পাশে দাড়িয়ে রয়েছেন। ব্রিজের নিচে ছড়ায় যেসব উচু নিচু স্থান রয়েছে তাতে দেখা যাবে গর্তের উপর থেকে পানি পড়ছে, এমন দৃশ্যে মনে হবে যেন একটি সোনালী বর্ণের প্রাকৃতিক ঝর্ণাধারার সামনে দাড়িয়ে আছেন।

মাধবকুন্ড, হাম হাম বিশাল বড় ধরনের ঝর্ণা দেখেছেন। এখানে এসে আপনি দেখবেন আরো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা-খেলা। খন্ড খন্ড ছোট ছোট এইসব গর্তের উপড় থেকে নিচে পানি পড়ার এমন দৃশ্য দেখে বিমুগ্ধ হয়ে যাবেন যেকেউ। ছড়া দিয়ে হাটতে হাটতে সামনের দিকে এগুতে থাকলে দেখা যাবে সোনালী আইশযুক্ত বিভিন্ন আকারের পাথর। উচু নিচু খন্ড রয়েছে এসব পাথরের মাঝে উচু থেকে নিচুতে প্রবেশ করলে যে সৌন্দর্য উপলব্ধি করা যায় তা সত্যিই এক অভাবনিয় রূপ।

ছড়ার দু পাশে রয়েছে হরেক রকমের নাম না জানা বিভিন্ন বন্য ফুলের ঝোপ। ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ শুনে মনোরম সৌন্দর্যে অবশ্যই শিহরিত করে তুলবে যে কাউকে। ছড়া দিয়ে সামনের দিকে প্রায় অর্ধ কি:মি: সামনে এগোলেই দেখা যাবে বাঁশের তৈরী একটি সাকু। শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে এই স্বর্নালী ছড়া দেখতে এখন দর্শনার্থীদের আগমন শুরু হয়েছে। এর সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে বর্তমানে স্থানীয় লোকজন সহ আগত পর্যটকরা এই মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে যাচ্ছেন। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর সৌন্দর্যের কথা ছড়িয়ে দিচ্ছেন দেশ-বিদেশে।

শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থানের এমনিতেই শেষ নেই। চতুর্দিকে বিস্তৃত রয়েছে এর সৌন্দর্য্য। কানাডিয়ান ফ্রিল্যান্স লেখক এন্টনি আর ডেল্টন শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এই অঞ্চলকে এক খন্ড স্বর্গ বলে (স্বর্গের কাছাকাছি) আখ্যায়িত করেছেন।

দেশের পর্যটন শিল্পে শ্রীমঙ্গল অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। শুধু দেশ নয় দেশের বাহিরেও এই চায়ের রাজধানী খ্যাত শহরের সুনাম ও সৌন্দর্য্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয় শ্রীমঙ্গলের প্রত্যন্ত অঞ্চল। শ্রীমঙ্গলের যেদিকে আপনার চোখ যাবে সেদিকেই মনে হবে সৌন্দর্যের অপরূপ সমারোহ। এখানের প্রতিটি স্থানেই রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশের মনোরম দৃশ্য যা অতি সহজেই যে কাউকে বিমোহিত করে দিবে।

 

(আজকের সিলেট/২১ জুলাই/ডি/কেআর/ঘ.)

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ...