আজ বৃহস্পতিবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

গাছের উপর অত্যাচার!

  • আপডেট টাইম : February 9, 2018 5:55 AM

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার গাছে গাছে পেরেক ঠুকে টাঙ্গানো হচ্ছে ব্যানার-ফেস্টুন। ফলে মরছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, হারিয়ে যাচ্ছে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সৌন্দর্য্য। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়াও মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানীর পন্য সামগ্রীর প্রচারের জন্য ব্যানার-ফেস্টুন পেরেক দিয়ে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে। এতে করে গাছ গুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনেক গাছ মারা যাচ্ছে যেন দেখার কেউ নেই।

জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের সামনে,ভিতরে লাগানো গাছে ও ৭টি ইউনিয়নের তাহিরপুর সদর,বাদাঘাট,উত্তর বড়দল,দক্ষিন বড়দল,উত্তর শ্রীপুর,দক্ষিন শ্রীপুর,বালিজুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক গুলোতে ব্যাক্তি উদ্যোগে লাগানো গাছে ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে নিজেদের প্রচার দিচ্ছে সবাই সবার মত করে। কিন্তু কারোরই চিন্তা নেই যে গাছে পেরেক ঠুকে লাগানোর ফলে গাছের কি ক্ষতি হচ্ছে।

এই বিষয়ে উধর্বতন কর্তৃপক্ষের অবহেলা,দায়িত্বহীনতা ও অসচেতনতার কারনে শুধু তাহিরপুর উপজেলায় নয় সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ, ধর্শপাশা, দিরাই, শাল্লা, দোয়ারা বাজার, ছাতক, সুনামগঞ্জ সদসহ ১১টি উপজেলায় গাছে ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে নিজেদের প্রচার দিচ্ছে।

আরো জানা যায়, নির্বিচারে গাছে পেরেক লাগানোর কারনে সড়কের বিভিন্ন গাছ মরে যাচ্ছে। গাছে পেরেক লাগানো কারনে ক্ষত-বিক্ষত স্থান থেকে গাছের রস,আঠা বা আঠা জাতীয় পর্দাথ নিঃস্বরন হয়। পেরেক লাগানোর কারনে গাছে চিদ্র হয়। তা দিয়ে পানি ও এর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া,ছত্রাক ও অনুজীব প্রবেশ করে। ফলে গাছের ওই স্থানে পছন ধরে খাদ্য ও পানি শোষন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। এক সময় ঐ গাছটি মারা যায়।

তাহিরপুর উপজেলার সাকিব মুন খোকনসহ উপজেলার সচেতন এলাকাবাসী জানান, উপজেলার প্রবেশ মুখেই আব্দুর জহুর চত্তর থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন গাছ,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি গাছেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছবি সংবলিত শুভেচ্ছা ব্যানার-ফেস্টুনসহ মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানীর পন্য সামগ্রীর প্রচারের জন্য শোভা পাচ্ছে ব্যানার-ফেষ্টুন। তাও পেরেক দিয়ে গাছে গাছে ঝুলে আছে। এক সময় ঐ গাছটি মারা যাচ্ছে। এই বিষযটি কারো চোখে পড়ছে না। গাছে পেরেক না মেরে অন্য ভাবে ঝুলানো যায় আর গাছের ক্ষতি করে নয় কারন গাছ আমাদের পরম বন্ধু।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুস পুরকাস্ত টিটু বলেন, স্বাভাবিক নিয়মেই গাছকে বাড়তে দেওয়া উচিত। গাছে পেরেক মারা রোধ করতে হবে। তা না হলে এক সময় গাছ মারা যাবে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। আমরা হারাবো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, গাছ আমাদের সবার আপন জন কারন জীবন বাচাঁর মূল্যবান ঔষধ ও অক্সিজেন গাছ থেকেই পাই। গাছের ক্ষতি হবে এমন কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।

(আজকের সিলেট/৯ ফেব্রুয়ারি/ডি/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ