২৭ মার্চ ২০২৩


শিলাবৃষ্টিতে থেঁতলে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

শেয়ার করুন

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : পাখিমারা হাওরে আমার ১০ কেয়ার জমি ছিলো। তাতে ২৮ জাতের ধান রোপন করেছিলাম। ধান পেকে গিয়েছিলো। চৈত্র মাসের ২০ তারিখ ধান কেটে ফেলতে পারতাম। গত রাতের শিলাবৃষ্টি আমার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। হাওরে ধান বলতে আমার আর কিছুই রইলো না। বুকে প্রচণ্ড কষ্ট চেপে কথাগুলো বলেছেন বীরগাঁও খালপাড় গ্রামের কৃষক শিপাউর রহমান।

একই ইউনিয়নের সফল (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা কৃষক উকিল আলী। ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনিও জানান কষ্টের কথা। উকিল আলী বলেন, জামখলার হাওরে জমি চাষ করেছিলাম। সব জমিতেই ভালো ধান ফলেছিলো। কয়েক দিনের মধ্যে জমিতে শ্রমিক লাগিয়ে ধান কাটানো শুরু করার কথা ছিলো। শিলাবৃষ্টি আমাদের অনেক বড় ক্ষতি করেছে। শুধু আমার নয় বীরগাঁও, দরগাপাশা ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের পাখিমারা, পিঁপড়াকান্দি, শল্যারদাইড়, বাঁচাডুবি ও দক্ষিণের হাওরসহ প্রায় সব হাওরেই কৃষকের কম বেশি ক্ষতি করেছে শিলাবৃষ্টি। এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় প্রচণ্ড বেগে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয় শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। এর মধ্যে পূর্ব বীরগাঁও, পশ্চিম বীরগাঁও ও দরগাপাশা ইউনিয়নের পাখিমারা, পিঁপড়াকান্দি, শল্যারদাইড়, বাঁচাডুবি ও দক্ষিণের হাওরসহ ছোটবড় প্রায় সব হাওরে ঝড়-বৃষ্টির সাথে প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টি হয়। এতে এসব ইউনিয়নের কয়েকশ কৃষকের স্বপ্নের রোপনকৃত ধান একেবারেই থেঁতলে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা সকালে হাওরে জমির কাছে গিয়ে এমন অবস্থা দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বাঁচাডুবি হাওরের কৃষক আবদুর রহমান জানান, এ হাওরে আমার ৪ কেয়ার জমি আছে। সময় মতো বৃষ্টি পেয়ে ভালো ফলন হয়েছে। ধানে খুব ভালো ধানফুল এসেছিলো। কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি হয়ে অঙ্কুরেই আমার সব জমি নষ্ট করে দিয়েছে। এ দুঃখ-কষ্টের কথা কাকে বলবো? নিজেও বা কীভাবে সহ্য করবো?

দক্ষিণের হাওরের অপর কৃষক নূর মিয়া বলেন, আমার সব শেষ। এ বছর আর ধান কাটতে হবে না। কাঁচা ধানেই সব কিছু নষ্ট করে দিয়ে শিলাবৃষ্টি।

শেয়ার করুন