আজ সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং

কেমন আছেন দোহালিয়া গ্রামে পানিবন্দি পরিবারগুলো?

  • আপডেট টাইম : July 21, 2017 6:00 AM

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি : বালাগঞ্জ উপজেলার বেরাঘাঘটিয়া হাওর পারে দোহলিয়া গ্রামের অবস্থান। এই গ্রামে প্রায় ৩শ পরিবারের বসবাস। গ্রামের প্রায় ৯০ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দিনমজুর এবং বুরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। চৈত্রের অকাল শতভাগ বোরো ফসল বিপর্যয়ের পর মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন।

সাম্প্রতিক বন্যায় তলিয়ে গেছে গ্রামের রাস্তাঘাট ও সবক’টি বাড়ির আঙিনা। অনেকের ঘরেও পানি প্রবেশ করেছে। এতে লোকজন তাদের পরিবারপরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ায় দিনমজুর লোকজন কাজকর্মও করতে পারছেন না। বন্যা যতই স্থায়ী রূপ নিচ্ছে, পানিবন্দি মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ততই বাড়ছে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, পানিতে ভাসমান একটি ঝুপড়ি ঘরে ৫ শিশু সহ একটি পরিবারে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস। এই ঘরের একটি মেয়ে শিশুর সাথে কথা বলে জানা গেল, তাদের মাতা হাছনা বেগম ও পিতা ছরকুম আলী নিত্যদিনের মতো কাজের সন্ধানে বেরিয়ে গেছেন। ফিরতে বিকেল হবে। এই মেয়েটির ছোট আরো ৪ ভাই। সব ছোট ভাইটির বয়স দেড় বছর।

ভাইদেরকে সে সব সময় আগলে রাখছে, যাতে তাঁরা পানিতে পড়ে না যায়। তাদের ঘরটির ভেতরেও পানি রয়েছে। এর মধ্যে ঘরের বেড়া বলতে কিছু নেই বললেই চলে। রাতের আঁধারে শোবার চৌকি থেকে নামতে গিয়ে পা ফসকে গেলেই নিশ্চিত বিপদ। গ্রামের আরো একাধিক হতদরিদ্র পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় এভাবে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।

গ্রামের আরিফ উল্লা, ছমিরুন বেগম, নুনু মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, বন্যার কারণে চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছি। ত্রাণের জন্য ইউপি সদস্যসহ কতজনের কাছে ধর্না দিয়েছি, কিন্তু ত্রাণের তালিকায় আমাদের নাম ওঠেনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজির আলী বলেন, সরকারিভাবে যে ত্রাণ আসছে তা পর্যাপ্ত নয়। দোহালিয়া গ্রামে প্রায় ৩শ পরিবারের বসবাস। এসব লোকজন ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য। ইতোমধ্যে তিন-চার দফায় যে ত্রাণ এসেছে তা থেকে গ্রামের ১৫-২০ জনের বেশি দেয়া যায় না। আর যে পরিমাণ ত্রাণ দেয়া হয়, তা দিয়ে কোনো পরিবারের চাহিদা পূরণ হবার নয়।

 

(আজকের সিলেট/২১ জুলাই/ডি/এমকে/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ