আজ সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং

শাবিতে অভিযোগকারী ছাত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ অভিযুক্তদের

  • আপডেট টাইম : July 20, 2017 11:03 PM

শাবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে র‌্যাগিং ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা একই বিভাগের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন অভিযুক্ত ওই তিন শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ওই তিন শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ।

পাল্টা অভিযোগ আনা তিন শিক্ষার্থী হলেন, রিয়াদ, আদনান এবং হাফিজ। তারা নৃবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। আর অভিযুক্ত ওই ছাত্রী একই বিভাগের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত।

গতকাল বুধবার দুপুরে তিন শিক্ষার্র্থীর বিরুদ্ধে প্রক্টর বরারব লিখিত অভিযোগ করে ওই ছাত্রী বলেন, “পড়ালেখার সহযোগিতার কথা বলে রিয়াদ, আদনান ও হাফিজ ১১ জুলাই তাকে শহীদ মিনারের নিচে ডেকে নিয়ে যায়।

সেখানে গিয়ে তারা তাকে মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে। পরে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন আলাপ করে মানসিকভাবে নির্যাতন করে। এমনকি অনবরত উত্ত্যক্ত ও ভয় ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে তারা।”

ওই ছাত্রী অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, “গত ১৭ই জুলাই (সোমবার) তার ব্যাচের সবার সাথে আলোচনার নামে টার্গেট করে তারা তাকে হেয়প্রতিপন্ন করে। যার ফলে এক পর্যায়ে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং অজ্ঞান হয়ে গেলে বন্ধুরা আমাকে জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।”

বৃহস্পতিবার প্রক্টর বরাবর দাখিল করা পাল্টা অভিযোগে রিয়াদ, আদনান এবং হাফিজ বলেন, “ গত ১১ জুলাই দেড়টার দিকে ওই ছাত্রী আমার (রিয়াদ) ফোনে কল দিয়ে শহীদ মিনারে দেখা করতে বলে। এতে প্রমাণিত হয় যে, আমি নিজে তাকে ডেকে নিয়ে মানসিক নির্যাতন করেছি বলে যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।”

এছাড়াও অভিযোগ পত্রে তারা আরো বলেন, “ গত ১৭ জুলাই নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২১ তম ব্যাচের সাথে ১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ বিষয়ে অলোচনা হয়। সেখানে কোন র‌্যাগিং এর ঘটনা ঘটেনি বলে দুই ব্যাচের শিক্ষার্থী একমত হবেন।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত ওই ছাত্রী বলেন, “আমি মেন্টালি অসুস্থ। একটু রিলাক্স নিতে চাই। আপনার সাথে পরে কথা বলব।”

এ বিষয়ে প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “গতকাল বুধবার ওই মেয়ের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগপত্র পেয়েছিলাম। আজ আবার অভিযুক্ত ওই তিন শিক্ষঅর্থীদের কাছ তিনটি পাল্টা অভিযোগ পত্র পেয়েছি। যেগুলো দেখে মনে হয় ওই ছাত্রীর অভিযোগের সত্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা সবকটি অভিযোগ পত্র আমলে নিয়েছি। তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী প্রসিডিউর মেনটেইন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ