২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩


বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান নুনু মিয়ার বিরুদ্ধে ৯ মামলা

শেয়ার করুন

বিশ্বনাথ সংবাদদাতা: মামলা পিছু ছাড়ছে না সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়ার। সর্বশেষ সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তার বিরুদ্ধে সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনালে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন বিশ্বনাথ পৌর শহরের পার্শবর্তী জানাইয়া গ্রামের আব্দুল বারির পুত্র খায়রুল ইসলাম (৫৩) ।মামলা নং ১৯০/২০২৩। তবে, মামলাটি সাইবার ট্রাইব্যুনালে হলেও শুনানী হয় সিলেট মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে। শুনানী শেষে সাইবার ওই আাদলতের বিচারক ও জেলা জজ মো. সাইফুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠাতে সিলেটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন ‘পিবিআই’কে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছন, অ্যাডভোকেট সুমন পারভেজ ও বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুস সালাম। তারা বলেন, সিলেট মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে শুনানী শেষে মামলাটি তদন্তের জন্য সিলেট পিবিআই’কে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানাগেছে, মামলায় দু’জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা এসএম নুনু মিয়াকে। আর ২য় আাসমি করা হয়েছে হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক নুরুল হককে (৫৫)। অভিযুক্ত নুরুল হকও পূর্ব-জানাইয়া গ্রামের আব্দুল আলীর পুত্র। ওই মামলাসহ মোট ৯টি মামলায় অভিযুক্ত হলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া।

এ রমধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকারি গভীর নলকূপ বরাদ্দের নামে লাখ টাকা আত্মাতের অভিযোগ এনে একদিনেই তার বিরুদ্ধে সিলেটের সিনিয়র জুডিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট প্রথম আদালতে পৃথক এই তিনটি মামলা দায়ের করেন উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের তিন ভূক্তভোগী। মামলা তিনটিতেই উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া ও তার পিএস বিশ্বনাথ পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য দবির মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। আর তিন মামলাতেই দবির মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত দবির পৌরসভার মিয়াজানেরগাঁও গ্রামের মৃত সাজিদ মিয়ার ছেলে। মামলার বাদী তিনজনের হলেন- দিঘলী (দত্তপুর) গ্রামের রইছ উদ্দিন (৫৫)। তার দায়ের করা (বিশ্বনাথ সিআর ৩৪৬/২০২৩)। বশিরপুর (উত্তর সিরাজপুর) গ্রামের জমির আলী (৪০) (বিশ্বনাথ সিআর ৩৪৫/২০২৩) ও একানিধা গ্রামের মোতাওয়াল্লী মো.আব্দুল্লাহ (৫০) করা মামলা হলো (বিশ্বনাথ সিআর ৩৪৪/২০২৩)।

মামলার সত্যতা জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুমন পারভেজ বলেন, মামলা তিনটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন বিচারক।এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার একদিনে দুটি মামলা দায়ের করা হয় চেয়ারম্যান নুনুর বিরুদ্ধে। পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য ও শ্রমিক নেতা মো.ময়না মিয়া ও অপর মামলা দায়ের করেন উপজেলা যুবলীগ নেতা রাজন আহমদ অপু।

শ্রমিক নেতা মো.ময়না মিয়া সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে নুনু মিয়াকে একমাত্র আসামী করে এ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৭১/২৩)। মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক মনির কামাল। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মিছবাহুর রহমান আলম।

অপরদিকে, এস এম নুনু মিয়া এবং পৌরসভার মিয়াজানেরগাঁও গ্রামের মৃত সজিদ মিয়ার ছেলে কথিত পিএস দবির মিয়াকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন পৌর শহরের মুফতিরগাঁও গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে ও উপজেলা যুবলীগ নেতা রাজন আহমদ অপু। তিনি ‘সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালতে’ আদালতে দায়ের করা বিশ্বনাথ সিআর মামলা নং ৩৩৮/২০২৩ইং দায়ের করেন।

সরকারি বরাদ্দের ‘রাস্তার উন্নয়ন ও ডিপ টিউবওয়েল (গভীর নলকূপ)’ প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে ৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়। এরপূর্বে গত ২২ আগস্ট সরকারি বরাদ্দের নামে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম নুনু মিয়া ও তার পিএস দবির মিয়া’সহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন জামাল আহমদ নামের এক ভুক্তভোগী। মামলা নং বিশ্বনাথ সিআর ৩১৬/২০২৩ইং।

শেয়ার করুন