আজ শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

সিলেট বিএনপির হাল ধরছেন জোবায়দা রহমান!

  • আপডেট টাইম : April 10, 2018 6:00 AM

অতিথি প্রতিবেদক : সিলেট বিএনপির ভবিষ্যত কান্ডারি হবেন তারেক পত্নী ডাক্তার জোবায়দা রহমান! দলীয় নেতারা জোবায়দা রহমানকে নিয়ে স্বপ্নও দেখছেন। জোবায়দার হাত ধরে দলটির পুরোনো দূর্গ ফিরে পাবে-এমন প্রত্যাশাও তাদের। সিলেটের মেয়ে জোবায়দাই দলের অভিভাবনের আসনে আসলে দল যেমন চাঙ্গা হবে তেমনি নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে।

সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, জোবায়দা রহমানের হাত ধরেই দীর্ঘদিন থেকে নেতৃত্ব শূণ্য বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। শুধু নেতৃত্বই নয়; জোবায়দা রহমানকে সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তারা।

বিএনপির শীর্ষ নেতা সাবেক মন্ত্রী সাইফুর রহমান মারা গেছেন। সাবেক এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ রয়েছেন দীর্ঘদিন থেকে। সমশের মুবীন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন অনেক আগেই। শীর্ষ এ তিন নেতার অনুপস্থিতে এখন অনেকটা নেতৃত্বশূন্য সিলেট বিএনপি। কারণ এই তিন নেতা ছিলেন সিলেট বিএনপির অতীত ইতিহাসের অধিপতি। এখন তারা নেই।

সিলেটে বিএনপির হাল ধরবে কে- এটি এখন বড় প্রশ্ন। এ কারণে অভিভাবকহীন সিলেট বিএনপিতে অভিভাবক চান নেতারা। এতে করে সিলেটে ঘুরে দাঁড়াবে বিএনপি। উদ্ধার করবে হারানো দুর্গ। সিলেট বিএনপির নেতারা দীর্ঘ দিন সিলেট বিএনপিতে এক যোগ্য কান্ডারি খুঁজছেন। এর মধ্যে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমান সকলের পছন্দের শীর্ষে।

সিলেটের মেয়ে জোবায়দা রাজনীতিতে নামলে দীর্ঘদিন পর সিলেট বিএনপি খুঁজে পাবে যোগ্য নেতৃত্ব- এমনটি জানিয়েছেন তারা। এ নিয়ে জল্পনারও অন্ত নেই। সিলেটের নেতারাও ইতিমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছেন। বলছেন, পুরাতনের মধ্যে তো কেউ নেই।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১২ সালে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। এরপর থেকে অনেকটা নেতৃত্ব সংকটে পড়ে সিলেটের বিএনপি। মাঝখানে বিএনপির সহসভাপতি শমসের মুবীন চৌধুরী দলের হাল ধরেছিলেন। কিন্তু তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে পুরোপুরি সংকট দেখা দেয়। এই সময়ের মধ্যে দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জীবন দলের কার্যক্রম চালান। আর গেলো পৌর নির্বাচনে সিলেট বিভাগে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ইনাম আহমদ চৌধুরী। কিন্তু ইনাম চৌধুরী সিলেটের রাজনীতি নিয়ে তেমন একটা মাথা গামান না।

এদিকে, ডা. জুবাইদা রহমান কেবল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ কিংবা নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান শহীদ রিয়ার অ্যাডমিরা মাহবুব আলী খানের কন্যাই নন, এর বাইরেও তিনি আপন মহিমায় ভাস্বর, আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। ডা. জুবাইদা রহমান নিজ মেধা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বের ৫৫টি দেশের মধ্যে সেরা চিকিৎসকের স্বীকৃতি পান।

শিক্ষা জীবনে ডা. জুবাইদা রহমান কখনো দ্বিতীয় হননি। না দেশে না বিদেশে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইতিহাসে ডিস্টিংশনসহ সর্বোচ্চ মার্কস পেয়ে এমবিবিএস পাশ করেছিলেন তিনি। জুবাইদা ইমপেরিয়াল কলেজ অব লন্ডন থেকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে মাস্টার্স অব কার্ডিওলজি ডিগ্রি অর্জন করেন। চার বছরের মাস্টার্স অব কার্ডিওলজিতে (এমএসসি ইন কার্ডিওলজি) ডিস্টিংশনসহ শতকরা ৮৩ ভাগ নম্বর পেয়ে প্রথম হন জোবায়দা।

যেখানে ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইউই), কমনওয়েলথভুক্ত দেশ, নাইজেরিয়া, চীনসহ মোট ৫৫টি দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা এই কোর্সে অংশ নিয়েছিলেন। এ কোর্সে প্রথম হয়েছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। ১৯৯৫ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে উন্নীত হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামান্য চাকরিই বেছে নেন তিনি। এখনো তার ধ্যান জ্ঞান আর স্বপ্ন কীভাবে দেশের চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন হয়। তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশের চিকিৎসাশাস্ত্রে উন্নয়নের বিষয়ে উদগ্রিব। দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের হৃদরোগ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা তার প্রবল।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, জিয়া পরিবারে একজন সদস্য ডা. জোবায়দা রহমান। আমরা চাই জিয়া পরিবারের কেউ সিলেট বিএনপির হাল ধরোন। আর তিনি যদি সিলেটের মেয়ে জোবায়দা রহমান হন তাহলেতো আর কোনো কথাই নেই। দল সিলেটে অনেক এগিয়ে যাবে। আলী আহমদ বলেন, আমরা চাই জোবায়দা রহমানকে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেট বিএনপির দায়িত্ব দেওয়া হোন। আমরা তাকে সিলেট বিএনপির কান্ডারি হিসেবে দেখতে চাই দলের স্বার্থে।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম বলেন, ‘ডা জোবায়দা রহমান সিলেটের কান্ডারি হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে সিলেট বিএনপি। আমরা চাই সিলেটের মেয়ে জোবায়দা সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করেন।

(আজকের সিলেট/১০ এপ্রিল/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ