আজ শুক্রবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

এখনও ইলিয়াস আলীর অপেক্ষায় সিলেটবাসী

  • আপডেট টাইম : April 17, 2018 6:00 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ৬ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। সপ্তাহ, মাস, বছর, দেখতে দেখতে এভাবে ডায়েরীতে থেকে ২হাজার ১শ ৯০টি দিন চলে গেছে। দীর্ঘ দিনেও সিলেটের বিএনপির এ নেতার খোঁজ পাওয়া যায়নি! সাধারণ মানুষের মনে এখন একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এ অপোর শেষ কোথায়?

এ প্রশ্নের সদোত্তর দিতে পারছে না কেউ। নিখোঁজের ঘটনার উদ্ধার তৎপরতাও থেমে গেছে। দিনে দিনে সবকিছু যেন অন্য রকম হয়ে যাচ্ছে। সিলেটের বিএনপির প্রভাবশালী এ নেতাকে সরকার গুম করে রেখেছে এমন অভিযোগ শুরু থেকেই করে আসছে বিএনপি। তবে সিলেটের মানুষ আজও ভোলেনি তাদের নেতা ইলিয়াসকে। তার সন্ধান কামনায় চলছে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে বিএনপি নেতা. ইলিয়াস আলী ও তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি চালক আনসার নিখোঁজ হন।

দীর্ঘ ৬ বছরের মাথায় এসেও কান্না থামেনি ইলিয়াস আলীর পরিবারসহ নেতাকর্মীদের। ইলিয়াস আলীর মাতা সূর্যবান বিবি পুত্রের জন্য কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি এখন শুকিয়ে গেছে তার। টিক মত চলা ফেরা করতে পারছেননা। কারও কাছে তাঁর এখন কিছু বলা বা চাওয়ার নেই। চোখে মূখে ক্ষোভ আর হতাশার ছাপ পরিলতি হচ্ছে।

তবুও নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর আশায় অধির আগ্রহে অপো করছেন তার পরিবার, নিজ দলের নেতাকর্মীরা নিজ নির্বাচনী এলাকা বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর সহ সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ।

ইলিয়াস আলীর মতো একজন প্রভাবশালী উদীয়মান তরুণ রাজনীতিবিদ নিখোঁজ হওয়ার পেছনের কারণও আজও জানাতে পারেনি কেউ। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ি চালক আনসার আলীর সন্ধান কি আর পাওয়া যাবে?

এক ইস্যুতে অন্য ইস্যু চাপা পড়ার মতো ধীরে ধীরে অন্ধকারে হারিয়ে যাবে ইলিয়াস ইস্যুও। অপো করতে করতে পেরিয়ে গেল ৬টি বছর। কিন্ত শেষ হচ্ছে না অপোর প্রহর। কবে শেষ হবে এই অপোর প্রহর, কবে ফুঁটবে ইলিয়াস আলী ও আনসার আলীর পরিবারের মুখে হাসি এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর সন্ধান পাওয়া গেছে এমন একটি ব্রেকিং নিউজ টিভি’র পর্দায় দেখার জন্য এখনও টিভি’র সামনে বসে থাকেন অনেকেই।

অপরদিকে ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর সিলেট বিএনপি আর আগের অবস্থানে নেই। নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সঙ্গেও যেনো হারিয়ে যাচ্ছে সিলেট বিএনপির জোড়ালো অবস্থান।

সিলেটবাসীর বিশ্বাস, জনতার ইলিয়াস আবার জনতার কাছে ফিরে আসবেন। সাময়িকভাবে হয়তো তাকে বন্দি, আটক বা গুম করা হয়েছে। কিন্তু তিনি আবার ফিরে আসবেন।

ইলিয়াস নিখোঁজের পর সিলেটসহ দেশের সর্বত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে রাজপথে নেমে আসেন দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। ইলিয়াসের সন্ধানের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে সারা দেশ। এসব কর্মসূচিতে ৮ জন প্রাণ হারান।

২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল ইলিয়াসের জন্মস্থান সিলেটের বিশ্বনাথে হরতাল চলাকালে উপজেলা সদরের থানা ঘেরাও করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দল বেঁধে মিছিল সহকারে উপজেলা সদরের দিকে এগোতে থাকেন বিুব্ধ জনতা। এ সময় মিছিলকারীদের পুলিশ বাধা দিলে ঘটে রক্তয়ী সংঘর্ষ। বিশ্বনাথে স্মরণকালের ভয়াবহ সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হয় মনোয়ার, সেলিম ও জাকির। আহত হন অনেকেই। ওই সংঘর্ষে বিুব্ধ জনতা উপজেলায় হামলা-ভাংচুর করেছিল।

এতে উপজেলা পরিষদের ১৯টি দফতরের ১ কোটি ৬২ লাখসহ প্রায় ২ কোটি টাকার তি হয়।

এ ঘটনায় বিশ্বনাথে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আসামি করে দায়ের করা হয় ৬টি মামলা। এসব মামলায় বিশ্বনাথের জনপ্রতিনিধি, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী ও অনেক সাধারণ মানুষসহ প্রায় ১৮ হাজার লোককে আসামি করা হয়। ৬ ইউপি চেয়ারম্যানসহ শতাধিক নেতাকর্মী কারাবরণ করেন।

ইলিয়াস নিখোঁজের দু’বছর পূর্তির একদিন আগে ইলিয়াস পত্মী তাহসিনা রুশদী লুনা অভিষিক্ত হলেন সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে। পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটিতে ১নং সদস্য করা হয়েছে লুনাকে। লুনার রাজনীতিতে অভিষেকে উল্লাসিত হন ইলিয়াস অনুসারীরা। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর তাঁর নির্বাচনী এলাকা সিলেটের ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ বিএনপির হাল ধরেন তাহসিনা রুশদি লুনা।

জানাগেছে, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর কেন্দ্রীয় বিএনপির আহবানে সিলেটের বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলায় ইলিয়াস আলীর ইমেজ ধরে রাখতে মাঠে নামেন তাহসিনা রুশদি লুনা। স্বামীর অবর্তমানে দলের হাল ধরেন তিনি। সিলেট-২ আসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছুটে বেড়ান। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর প্রথমে দলীয় প্রতিক ছাড়া উপজেলা নির্বাচন ও পরে ইউপি নির্বাচনে লুনার মনোনিত প্রার্থীরা দলীয় প্রতিকে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন।

লুনা ইতিমধ্যে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্ঠা হিসেবে নির্বাচিত হন।

নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর সহধর্মিনী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, আমরা এখনো তাঁর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষার আছি। আমার বৃদ্ধ শাশুড়ি, আমার সন্তানরা অপেক্ষায় আছে প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পাওয়ার জন্য। আদালতের একটি নির্দেশনা ছিলো প্রতি ৬মাস পর পর পুলিশ যেন তদন্তের অগ্রগতি জানায়। দীর্ঘদিন থেকে এর কোন প্রতিফলন ঘটছেনা। বিষয়টি নিয়ে আমি আরো অনেকবার বলেছি কিন্তু কোন লাভ হচ্ছেনা।

(আজকের সিলেট/১৭ এপ্রিল/ডি/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ