আজ শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

ওসমানীনগর উপজেলা চেয়াম্যানকে নিয়ে বিএনপিতে কানাঘুষা

  • আপডেট টাইম : April 20, 2018 6:01 AM

বিশেষ প্রতিনিধি : ময়নুল হক চৌধুরী। ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি।রাজনীতিতে তিনি নিখোঁজ বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীর ঘনিষ্টজন হিসেবেই পরিচিত। বিগত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ইলিয়াস আলীর ছবি বুকে নিয়ে উপজেলাবাসীর দারে দারে ভোট চেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসার পর থেকেই ঘটে বিপত্তি। দলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন কমে যায় তার কাছে। সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে কানাঘুষা।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এই আসনের সাবেক এমপি এম. ইলিয়াস আলীর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তার পরও তার এই অনুষ্ঠানে যোগদান দলের সাধারণ কর্মীদের মনে আঘাত লেগেছে। ২০১৬ সালে ওসমানীনগর প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তৎক্ষালিন উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতা আব্দাল মিয়ার উপস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তিনি, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এসেছে। আর দুই বছরের ব্যবধানে নিজেই এরকম একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, যা দলের নেতাকর্মীদের কাছে মোটেও কাম্য নয়। এনিয়ে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। দলের নেতাকর্মীরা এখানে তীব্র সমালোচনা করছেন।

ওসমানী নগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন-আহবায়ক সুহিনুল হক আখতার (আখতার হোসাইন) তার ফেইসবুক স্ট্যাসাসে লিখেছেন-

বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে আমরা যানতে চাচ্ছি গত কিছু দিন আগে বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আবদাল মিয়া সাহেব সরকারি কর্মকর্তার দাওয়াতে একটি প্রগরামে উপস্তিত হওয়ার জন্য বিএনপির নেতৃস্থানীয় লোকজন নানান কথা বলেছিলেন এবং বলেছিলেন জনাব আবদাল মিয়া সাহেব নাকি আওয়ামীলীগের এজেন্ডার তাই বলে জনাব আবদাল মিয়া সাহেব কে দল থেকে বয়কট করা হয়েছিল।কিন্তু গত তিন দিন আগে আমাদের ওসমানী নগর উপজেলার সুনামধন্য চেয়ারম্যান জনাব ময়নুল হক চৌধুরী সাহেব সরকারি কর্মকর্তার দাওয়াতে মুজিবনগর দিবস পালন করতে অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন এখন বিএনপির নেতৃস্থানীয় লোকজন উনাকে দল থেকে বয়কট করেননা আমাদের ধারনা মতে জনাব ময়নুল হক চৌধুরী সাহেব উনি আওামীলীগের এজেন্ডার তিনি আমাদের ওসমানী নগর উপজেলা বিএনপির মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক লোক উনার জন্য এভাবে নির্দলীয় চলা টিক নয় এতে দলের বার্ভমূতি নষ্ট হচ্ছে তাই বিএনপির নেতৃবৃন্দের একটা অনুরুদ করছি নির্দলীয় নেতা জনাব ময়নুল হক চৌধুরী সাহেব কে দল থেকে বয়কট করে ওসমানী নগর উপজেলা বিএনপি কে সুন্দর ভাবে গুছান হউক।

এই পোস্টে শিমুল বিশ্বনাথ নামে একজন কমেন্ট করেছেন- সবকটি আওয়ামীলীগের দালাল।

শাহ আখতার নামে একজন কমেন্ট করেছেন- তাহলে আব্দাল ভাই দুষ কি চিলো জাতি জানতে চায়।

শেখ সাদিক নামে একজন কমেন্ট করেছেন- ইতা নতুন কিছুনা সবকটি আওয়ামীলীগের দালাল দেখনানি টুপি মাথায় দালাল।

এ সামাদ মাহবুব নামে একজন কমেন্ট করেছেন- টা সময়ের দাবি, দালাল মুক্ত বি এন পি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ময়নুল হক চৌধুরী আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, এটি একটি সরকারী অনুষ্ঠান ছিলো, আমি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেছি। অনুষ্ঠানটি আওয়ামীলীগের ছিলোনা।

২০১৬ সালে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দাল মিয়ার যোগদান করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে তার বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, মুজিব নগর দিবস একটি ঐতিহাসিক চিরসত্য ঘটনা, এই অনুষ্ঠানে যেতেই পারি। তাছাড়া আমি অনুষ্ঠানে আমার বক্তব্যে বলেছি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার করতে হবে। এর বাহিরে কিছু বলিনি।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, আমরা যে যত বড় নেতা হইনা কেন এমনকি যত বড় জনপ্রতিনিধিই হই তা সম্ভব হয়েছে বিএনপির মনোনয়নের কারনে। যারাই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন আর দলকে খাটো করার মত কাজ করছেন দল অবশ্যই তাদের বিষয়ে যথা সময়ে ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, দল মনোনয়ন দিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করার মূল উদ্দ্যেশ্যই হচ্ছে দলের আদর্শ বাস্তাবায়ন করা। কেউ যদি নির্বাচিত হওয়ার পর সেটি ভূলে যায় তা সত্যিই দুঃখ জনক। দল তাদের বিষয় ঠিকই স্মরণ রাখবে।

 

(আজকের সিলেট/২০ এপ্রিল/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ