আজ শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

বালাগঞ্জকে সিলেট-৩ আসনে নেয়া নিয়ে নাখোশ রাজনৈতি দলগুলো

  • আপডেট টাইম : May 1, 2018 6:01 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের ৪টিসহ সারাদেশে ২৫টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের তথ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে সিলেট-২, সিলেট-৩, মৌলভীবাজার-২, মৌলভীবাজার-৪ আসনও রয়েছে। আর সিলেটের এসব সংসদীয় আসন নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বিশেষ করে সিলেট-২ ও ৩ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে।

সিলেট-২ আসনের সাথে থাকা বালাগঞ্জ উপজেলাকে ৩ আসনের সাথে সম্পৃক্ত করা নিয়ে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তিন দলের নেতারাই বলছেন, দীর্ঘদিন থেকে থাকা বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরকে আলাদা করার ফলে এই দুই উপজেলার উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও দীর্ঘ দিনের ভাতৃত্ববোধ বিনষ্ট হবে।

জানা যায়, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ব মুহূর্তে সিলেট-২ আসনের সাথে থাকা বালাগঞ্জ উপজেলার ৩টি ইউনিয়নকে সিলেট-৩ আসনের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। এ নিয়ে শুরু থেকেই উপজেলাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছিলো।

সর্বশেষ বালাগঞ্জ উপজেলাকে পুরোটাই সিলেট-৩ আসনের সাথে নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর উপজেলাবাসী দলমত নির্বিশেষে নির্বাচন কমিশনে বালাগঞ্জ উপজেলাকে সিলেট-২ আসনের সাথে রাখার জন্য আবেদন করেন।

এ নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বালাগঞ্জ উপজেলাকে সিলেট-২ আসনে রাখার পক্ষে ১১২জন এবং সিলেট-৩ আসনের সাথে রাখার পক্ষে ৪৯জন নাগরিক নিজেদের আইনজীবী নিয়ে শুনানিতে অংশ নেন। কিন্তু এরপরও বালাগঞ্জকে সিলেট-৩ আসনের সাথে অন্তর্ভূক্ত করায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে উপজেলার রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে। আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতারাও চাইছেন বালাগঞ্জ যেন সিলেট-২ আসনের সাথে থাকে।

বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মুজিবুর রহমান আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, সিলেট-২ আসন নিখোঁজ বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীল নির্বাচনী এলাকা। বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ঘাটি। মুলত বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করতেই ২০০৮সালে এই ষড়যন্ত্র শুরু হয়। যার ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন এই হঠকারি সিদ্ধান্ত নেন। যা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আদালতের শরনাপন্ন হবো।

বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আনহার মিয়া আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরবাসীর সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। প্রবাসেও বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরবাসী যৌথ উন্নয়নমুলক সংগঠন রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দুই উপজেলার সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমাদের দাবী সবসময় এই দুই উপজেলা যেন এক সাথে রাখা হয়। প্রয়োজনে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উচ্চ আদালতে যাব।

তিনি বলেন, আমাদের এলাকার কিছু লোক অতি উৎসাহী হয়ে সিলেট-৩ আসনের পক্ষে নির্বাচন কমিশনের দালালি করেছে, যা দুঃখজনক।

সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী আব্দুন নুর (নুর মিয়া) আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, নিখোঁজ এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করার জন্যই ২০০৮ সালে এই আসনটি ভাংগার ষড়যন্ত্র করা হয়। এখন তার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে ইলিয়াসপত্মী তাহসিনা রুশদীর লুনা নির্বাচনে অংশ নিবেন। তার জনপ্রিয়তার ইর্শ্বানিত হয়েই এই আসনটি ভাঙ্গা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, আমরা বালাগঞ্জ উপজেলাকে সিলেট-২ আসনে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। বালাগঞ্জকে সিলেট-৩ আসনোর সাথে নেয়া এটি মানুষের ইচ্চার বিরুদ্ধে একটি চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত। আমিও চাই বালাগঞ্জ সিলেট-২ আসনের সাথে থাকুক।

সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ন-মহাসচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, আমিও মনেপ্রাণে চাই আমার সংসদীয় আসনের তিনটি উপজেলাই এক সাথে থাকুক। কিন্তু ইতিমধ্যে এই উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন সিলেট-৩ আসনের সাথে ছিলো। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে এক উপজেলাকে দুই ভাগ না করা। এরজন্যই পুরো বালাগঞ্জকে সিলেট-৩ আসনের সাথে নেয়া হয়েছে। তার পরও আমরা বালাগঞ্জকে সিলেট-২ আসনের সাথে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

প্রসঙ্গত, সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানান, এবার ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৫টি আসনে পরিবর্তন এনেছে কমিশন।

(আজকের সিলেট/১ মে/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ