আজ শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

আর মাত্র ২ বছর বাঁচবে শিশু নিতু!

  • আপডেট টাইম : May 3, 2018 6:01 AM

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা ওয়ার্কশপের কর্মচারী কামরুল হাসান কমরু ও স্ত্রী জোৎস্না বেগমের মেয়ে নিতু। বয়স এখন মাত্র ১১। অথচ এ বয়সেই তাকে দেখলে মনে হয় ৮০ বছরের বৃদ্ধা। নিতু ভয়ানক রোগ প্রজেরিয়া আক্রান্ত। চিকিৎসকরা বলছেন, নিতু হয়তো বাঁচবে আর মাত্র দুই বছর। কেননা, চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের গড় আয়ু মাত্র ১৩ বছর।

২০০৭ সালে জন্মের তিন মাস পরহঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে নিতু। শুকিয়ে আসতে থাকে নিতুর হাত, পা, মুখ, শরীরের চামড়া। ফুটফুটে চেহারা হয়ে ওঠে বৃদ্ধদের মতো। পরে হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে চিকিৎসা করান নিতুর মা-বাবা। কিন্তু কোনো সমাধান না পেয়ে নিতুর মা-বাবা সিলেটে দুই বছর মেয়ের চিকিৎসা করান। এতেও কোনো ফল পাননি তাঁরা। এর কয়েকদিন পরপর অসুস্থ হয়ে পড়ে নিতু। দিশেহারা হয়ে পড়েন মা-বাবা। একপর্যায়ে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) নিতুর চিকিৎসা শুরু করেন। সেখানে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নিতুর চিকিৎসা করানো হয়।

অনেক গবেষণা করে চিকিৎসকরা ওই মা ও বাবাকে জানান, নিতু প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত। এ ধরনের রোগীরা অধিকাংশ সময় অসুস্থ থাকেন। চিকিৎসা করে এর কোনো ফলাফল পাওয়া যায় না।

গত বছর বেশ অসুস্থ হয়ে পড়ে নিতু। এ সময় নিতু খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। তরল খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়। এ সময় চিকিৎসকদের কাছে নিলে তাকে আটটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু নিতুর শরীর শুকিয়ে গিয়ে মাংস শক্ত হয়ে যাওয়ায় ইনজেকশন দেওয়ার সময় সূঁচ ভেঙে যায়। এ সময় টানা ছয় মাস অসুস্থ থাকে নিতু।

এদিকে, মেয়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে জায়গা-জমি বিক্রি করে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে গেছেন বাবা কামরুল হাসান কমরু। এরই মধ্যে শারীরিক নানা জটিলতায় ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ছোট্ট এ শিশুটি। তাঁর ছয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান নিতু।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সকালে নিতুদের বাসায় যান হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আবু জাহির ও জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ। তাঁরা উভয়েই নিতুকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেন।

এ সময় এমপি আবু জাহির প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিতুর পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো সহায়তা দেওয়ার কথা জানান।

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমাদের বয়স হলে যেমন শরীরের কাঠামো তৈরি হয়, নিতুর শরীরের সে ধরনের কাঠামো তৈরি হয়েছে। আমরা একজন বুড়ো মানুষকে যেভাবে যত্ন নেই, তাদেরকে সে ধরনের যত্ন নিতে হবে। এসব বাচ্চারা বেশিদিন বাঁচে না। তাদের গড় আয়ু হলো ১৩ বছর। তাদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। এতে যতদিন তারা বেঁচে থাকবে জীবনটা ভালো কাটাতে পারবে। তবে এ রোগের কোনো চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই।’

(আজকের সিলেট/৩ মে/ডি/এমকে/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ