আজ বুধবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

চালু হচ্ছে সিলেট টেক্সটাইল মিলস

  • আপডেট টাইম : মে ২৮, ২০১৮ ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট টেক্সটাইল মিলস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বি.টি.এম.সি)। সিলেটসহ বন্ধ থাকা ১৬ টি মিলস চালুর অনুমোদনের পর দু’টির আন্তর্জাতিক টেন্ডারও আহ্বান করা হয়েছে। প্রথম ধাপে আহমদ ও কাদেরিয়া মিলস চালু করা হচ্ছে।

করপোরেশনের পরিচালক এম.এ সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিলেট টেক্সটাইল মিলসসহ বন্ধ থাকা- ১৬টি মিলস চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ডেমরা ও টঙ্গীর দু’টি মিলস চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। ধাপে ধাপে বাকী ১৪টি মিলস চালু করা হবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বি.টি.এম.সি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকা ১৬টি টেক্সটাইল মিলস পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপের ভিত্তিতে পুনরায় চালুর অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রীসভা কমিটি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে গত ২৯ নভেম্বর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরই মিল গুলো চালুর জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বি.টি.এম.সি) এ লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করে। এরপর বি.টি.এমসি’র প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বন্ধ থাকা মিলগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

প্রথম ধাপে ঢাকার ডেমরার আহমদ টেক্সটাইল মিলস ও টঙ্গীর কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলস চালুর জন্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক দরপত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দরপত্রের সকল কার্যক্রমের পরই মিল দু’টি চালুর কাজও শুরু হয়ে যাবে।

বি.টি.এম.সি সূত্র জানায়, কাদেরিয়া ও আহমদ মিলস চালুর পরই ধাপে ধাপে বাকী ১৪টি টেক্সটাইল মিলস চালু করবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন। এই ১৪টি মিলসের মধ্যে সিলেট টেক্সটাইল মিলস অন্যতম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বি.টি.এম.সি এই ১৬টি মিলস চালুর জন্যে ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ধাপে ধাপে মিলসগুলো চালু হবে। বলা যায়, প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন সূত্র জানায়, ১৯৭৮ সালে সিলেট শহরতলীর মেজরটিলার ইসলামপুরে ২৮ দশমিক ৮১ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট টেক্সটাইল মিলস। ভূমি ও মিলসের সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৬৬ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন মিলটি লোকসান গুনতে থাকায় এক সময় মিলটির উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে মিলটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০১২ সালের ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভার বৈঠকে মিলটি বেসরকারী করণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে মিলটি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বি-ডা) অধীনে চলে যায়। এই সিদ্ধান্তের আগমূহুর্ত পর্যন্ত মিলটির নিয়ন্ত্রণে ছিল বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন। এরপর ২০১৩ সালে মিলটি বিক্রির উদ্যোগ নেয় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর সিলেট চেম্বারে এক সভায় বেসরকারীকরণ কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস মিলটি বিক্রির কথা জানান।

সভায় সিলেট টেক্সটাইল মিলসের সম্পদ, দায় দেনা ও দরপত্রের বিভিন্ন শর্তাবলীর ওপর একটি প্রতিবেদন পেশ করে বলা হয়, ‘মিলের জমিতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আবাসন প্রকল্প তৈরি বা আবাসন প্রকল্পের জন্য বিক্রি করা যাবে না।’

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিলটি বিক্রির উদ্যোগের মধ্যেই ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক সভায় ‘ভবিষ্যতে কোন কারখানা বিক্রয় বা হস্তান্তরের বিষয়ে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনকে (বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) দায়িত্ব না দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে মর্মে সুপারিশ করা হয়।’

ওই বছরের ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত আরেক সভায় ‘বেসরকারী কমিশনে ইতোপূর্বে ন্যস্ত মিল- কারখানা এবং বস্ত্র ও পাট খাতের সমূদয় সম্পত্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে বলে সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বন্ধ হওয়া মিলগুলো নিজেদের অধীনে এনে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

এরই ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রীসভা কমিটিতে সিলেট টেক্সটাইল মিলসসহ ১৬ টি মিলস পুনরায় চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এই সিদ্ধান্তের পরই বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন সিলেট টেক্সটাইল মিলসসহ ১৬টি মিল চালুর জন্যে প্রকল্প গ্রহণ করে। বি.টি.এম.সি’র প্রকল্প গ্রহণের পর সিলেট টেক্সটাইল মিলস নিয়ে আবারো আশাবাদী হয়ে উঠেছেন সিলেটবাসী। বর্তমানে সিলেট টেক্সটাইল মিলটি আবাসন ও দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করছে র‌্যাব-৯।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের পরিচালক এম.এ. সালাম সিলেটের ডাককে বলেন, আমরা যে ১৬টি টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছি সিলেট টেক্সটাইল মিলস এর মধ্যে অন্যতম। ধাপে ধাপে মিলগুলো চালু করা হবে। প্রথম দফায় দু’টি চালু হচ্ছে। বাকী গুলোও কম সময়ে যাতে চালু করা যায় সেদিকে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমেই মিলগুলো চালুর কাজ চলছে। এর ফলে মিলগুলো আবারো প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

(আজকের সিলেট/২৮ মে/ডি/এসটি/ঘ.)

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ...