আজ সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

তোপের মুখে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত ভিসি!

  • আপডেট টাইম : মে ২৫, ২০১৮ ২:৫৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ভিসি, প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগসহ চার দফা দাবিতে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এস.আই.ইউ) শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের তোপের মুখে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর মনির উদ্দিন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ভিসি, প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে গত দুইদিন থেকে স্বারকলিপি প্রদান এবং পরবর্তী কর্মসূচী নির্ধারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বৈঠক করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত বুধবার সমস্যা নিরসনে কতৃপক্ষকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষর্থীরা।

এদিকে এ আন্দোলনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর মনির উদ্দিনের কক্ষে ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে বসেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর মনির উদ্দিন পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন।

তিনি (ভিসি) বলেন ”আমি এখানকার নিয়োগ প্রাপ্ত ভিসি না। আমাকে জোর করে এখানে বসানো হয়েছে। তাই আমি পদত্যাগ করব। ” এতে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা। তারা বলেন- ‘আপনি সুদিনে আমাদের সাথে ছিলেন। এখন দুর্দিনে কেন চলে যাবেন। এসময় কিছুটা তোপের মুখে পড়েন ভারপ্রাপ্ত ভিসি। তিনি খানিকটা সময়ের জন্য তার কক্ষ ত্যাগ করেন। পরে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা পরিস্থিতি সামাল দেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী ও সিইসি বিভাগের দুই শিক্ষার্থী জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে রিটেইক সাবজেক্টের বিষয়ে কথা বলতে তারা ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলরের কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় কথা বলার এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মনির উদ্দিনের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে বেশ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের শান্ত করেন উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।

এ ব্যপারে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর মনির উদ্দিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২২ মে) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের অবস্থা বর্ণনা করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সেখানে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিবাবকদের পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কেউ অনুমোদনবিহীন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাস বা অননুমোদিত কোনো প্রোগ্রামে কোর্সে ভর্তি হলে তার দায়-দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি নেবে না।” এরপর থেকে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

(আজকের সিলেট/২৫ মে/ডি/এমকে/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ