আজ শুক্রবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

সিলেটে সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ

  • আপডেট টাইম : July 1, 2018 6:00 AM

অতিথি প্রতিবেদক : প্রতি বছরই ঈদকে সামনে রেখে সিলেটে সড়কে শুরু হয় জোড়াতালির তোড়জোড়। তবে কয়েকদিন যেতে না যেতেই সড়ক আবার পুরনো রূপে ফিরে যায়। ফলে সারা বছরই ভোগান্তি পোহাতে হয় স্থানীয়দের। অনিরাপদ সড়কে শুরু হয় মৃত্যুর মিছিল।

ভোগান্তি শুধু জাতীয় মহাসড়কেই নয়, আঞ্চলিক মহাসড়কেও। ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কের সিলেট অংশে ব্যাপক ভাঙন না থাকলেও রয়েছে খানাখন্দ। যানবাহন দ্রুত চলাচলে খানাখন্দে ঘটছে দুর্ঘটনা। খানাখন্দ দেখে পাশ কাটাতে গিয়ে যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষও ঘটছে। আবার গর্তে গাড়ির চাকা দেবে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যাত্রাপথ দীর্ঘ হয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ।

চালকদের মতে, সময় বেধে যাত্রী নিয়ে রওনা হতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছার তাগিদ থাকে সব চালকেরই। তাতে বাধ সাধে সড়কের খানাখন্দ। একটু অসচেতন হয়ে গাড়ি চালালেই ঘটে দুর্ঘটনা।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে মৌলভীবাজারের শেরপুরের আগে থেকেই ভাঙা শুরু। এরপর ঘোড়াশাল, ভৈরবের আগে থেকে ভাঙা সড়কে যানবাহন চালাতে হয় ধীরগতিতে। যে কারণে যাত্রীবাহী বাস গন্তব্যে পৌঁছাতে লাগে ৭/৮ ঘণ্টা। আর দ্রুত চালাতে গেলেই ঘটে দুর্ঘটনা।খানাখন্দে গাড়ি পড়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ছবি: বাংলানিউজ

আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোও যেনো এক একটি মরণফাঁদ। বিশেষ করে সিলেট-জকিগঞ্জ, সিলেট-বিয়ানীবাজার, বড়লেখা, মৌলভীবাজার সড়কের অবস্থা খুবই করুণ। এক ঘণ্টার রাস্তা পেরোতে হয় তিন ঘণ্টায়।

সিলেটের সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সিলেটে সওজের ২৪৩ দশমিক ৬০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ১৩৯ দশমিক ২০ কিলোমিটার এবং আঞ্চলিক মহাসড়ক ১৬২ কিলোমিটার।

জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে সিলেটের তামাবিল সড়কের বেহাল দশা নতুন নয়। পর্যটন কেন্দ্র জাফলং যেতে ১৮ কিলোমিটার ভাঙা সড়ক অতিক্রম করতে হয়। যে কারণে বিমুখ হচ্ছেন পর্যটকরাও। আর তামাবিল শুল্ক স্টেশনের ৫ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা বছরের পর বছর।

সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কে ফেঞ্চুগঞ্জ পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে গিয়ে দুই পাশ দেবে গেছে। ফলে গাড়ি পার হতে ঘটছে দুর্ঘটনা।

সিলেট-গোলাপগঞ্জ-চারখাই-জকিগঞ্জ ৮৯ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়কের ৬৫ কিলোমিটারই ভাঙা। একই অবস্থা সিলেট-বিয়ানীবাজার ৫১ কিলোমিটার সড়কের চারখাই থেকে ২০ কিলোমিটারের। অথচ সওজ কর্মকর্তাদের দাবি, মাত্র ২ কিলোমিটার সড়ক ভাঙা।

সিলেট-সুলতানপুর ২৪ কিলোমিটার ভাঙা সড়কের দুর্ভোগ নিয়ে এখনও প্রতিবাদমুখর এলাকার লোকজন। আশ্বাসে বছর পার হলেও সওজ কর্মকর্তাদের দাবি, খুব শিগগিরই রাস্তা মেরামত করা হবে।

এছাড়া বিয়ানীবাজার পৌরশহর, ঢাকা দক্ষিণ-ভাদেশ্বর সড়কের ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় ভোগান্তি দূর করতে কেবল প্রলেপ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গর্ত ভরাট করলেও বৃষ্টি হলেই উঠে আসছে পিচ।সিলেটে সড়কের বেহাল দশাসিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কটির জন্য সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তা বৃদ্ধি পেয়ে হাজার কোটি টাকায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এই সড়কের উন্নয়ন কাজ চললেও সাময়িক চলাচলে রক্ষণাবেক্ষণ খাতে অর্থ ব্যয় হচ্ছে না বলে অভিযোগ উপজেলার লোকজনের। মেরামতের অর্থ বরাদ্দ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা করেনি।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ এলাকার বাসিন্দা প্রিন্সিপাল খসরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সিলেট-বিয়ানীবাজার, বড়লেখা, মৌলভীবাজার সড়কের অবস্থা এতই নাজুক যে কেউ একবার এই সড়কে গেলে দ্বিতীয়বার জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাবে না।

বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দা সাদেক আহমদ আজাদ বলেন, সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের ৫৪ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশই ভাঙা। প্রতিদিন এই সড়কে কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত বলেন, সাময়িকভাবে চলার জন্য ঈদের আগে রাস্তা মেরামত করা হবে। স্থায়ীভাবে কাজ করার জন্য অনেক প্রকল্প পাস হয়েছে। আগামী দুই/এক বছরের মধ্যে সিলেটের সব রাস্তা ভালো হয়ে যাবে।

(আজকের সিলেট/১ জুলাই/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ