আজ শুক্রবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

ছেলেদের পছন্দের তালিকায় পাঞ্জাবি

  • আপডেট টাইম : June 13, 2018 6:00 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদকে ঘিরে সিলেট নগরীতে জমে উঠছে উৎসব মুখর কেনাকাটা। নগরীর নয়াসড়ক, কুমাড়পাড়া, সিলেটপ্লাজা মার্কেট গুলোতে ঝিকঝাঁক আলোকসজ্জার মধ্যে দিয়ে ঈদ উপলক্ষ্যে সবশ্রেণি পেশা ও সববয়সী মানুষের চলছে স্বতঃস্ফুর্ত কেনাকাটা। এছাড়া সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মহাজনপট্টীর ব্যবসালয়গুলোতে পুরুষের জন্য রয়েছে বিভিন্ন কোয়ালিটির পাঞ্জাবী ও যাকাতের জন্য পণ্যসামগ্রী।

শহরের প্রাণকেন্দ্র বন্দর বাজারের অতি সুপরিচিত মধুবন সুপার মার্কেট এর নিচ তলায় শাড়ী ও ২য় তলায় পাঞ্জাবীর সমাহার রয়েছে। এছাড়া সর্বজন পরিচিত সিলেটের কোর্ট পয়েন্ট সংলগ্ন হাসান মার্কেটে রয়েছে সাধ্যের মধ্যে নারী পুরুষের ঈদ উপযোগী পণ্য সামগ্রী। এর মধ্যে দেশী-বিদেশী পাঞ্জাবীর সমাহারতো রয়েছে প্রায় প্রতিটি দোকানে। আর সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারেতো কথাই নেই- প্লাজা মার্কেট, শুকরিয়া মার্কেট, সিলেট মিলেনিয়াম, ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটি, কাকলী মার্কেট, সিলেট সিটি সেন্টার এবং আল হামরা শপিং সিটির মতো মার্কেট ও বিভিন্ন শপিং মল গুলো রকমারী ও বাহারী কেনাকাটায় উৎসব মুখর হয়ে উঠছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে আমরা সারা বছর ব্যবসা করছি এবং প্রতি বছরে ঈদুল ফিতর ফিরে আসে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন রমজান মাসে ক্রয়-বিক্রয়ের হার সারা বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। সাধারণত ১৫ রমজানের পর থেকে ব্যবসা জমে উঠে এবং ঈদের চার-ছয় দিন পূর্ব থেকে নগরীর দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষণীয়। সবশ্রেণির মানুষের সহজীকরণ ক্রয় ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য রয়েছে সিলেট নগরীর সুরমা মার্কেটের সম্মুখ থেকে কোর্ট পয়েন্ট, বন্দর বাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা পর্যন্ত ফুটপাতে নানা রকম পসরা ও পাঞ্জাবী। প্রয়োজন আইন মানে না এ প্রবাদ বাক্যেটির সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যাবে সিলেট শহরের ফুটপাত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে কেনাকাটার দৃশ্য এমনই। বলা যায় স্বল্প আয়ের সববয়সী মানুষের জন্য সিলেট শহরের ফুটপাত প্রাণস্বরূপ ও কেনাকাটার জন্য বিশাল পরিসর।

তবে সব মানুষের বিবেক দিয়ে বুঝা উচিত ফুটপাত ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসার জন্য উপযোগী জায়গা নয়। ফুটপাত হচ্ছে সকল মানুষ নিরাপদে পায়ে হেটে চলাফেরা করার জন্য রাস্তা।

ঈদ মানে খুশি! ঈদ মানে আনন্দ! মাসব্যপী সংযম ও রোজা শেষে প্রতি বছরের ন্যায় ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকি। ঈদের আনন্দকে উপভোগ করার জন্য নারীদের জন্য প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে শাড়ী তেমনি পুরুষের জন্য প্রধান আকর্ষণ ও ঈদের নামায আদায়ের জন্য অন্যতম উপাদান এবং পছন্দের সহিত উৎফুল্লতার জন্য প্রয়োজন মানসম্মত ও আকর্ষণীয় পাঞ্জাবী। আর এই পাঞ্জাবী রয়েছে বিভিন্ন রকমের। দিনে দাবদাহের জন্য অতিষ্ট গরম আর যানজট উপেক্ষা করেই মানুষ ঈদের কেনাকাটা করছে তবে পড়ন্ত বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতারা বেশি ভিড় করছে দোকানগুলোতে।

নগরীর ভিতরে ক্রেতা সাধারণ ছাড়াও শহরতলী ও বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম অঞ্চলের ক্রেতা সাধারনও ভিড় করছেন শহরের দোকানগুলোতে। এবারে ভারতীয় পোষাকের বিশেষ আকর্ষন রয়েছে ক্রেতাদের নিকট এমনটাই জানান সিলেট নগরীর অনেক ব্যবসায়ী। এবার ছেলেদের নজর কাটছে সুলতান দবির পাঞ্জাবী। এছাড়াও ক্রেতাদের নিকট পাকিস্তানীসহ দেশি-বিদেশী বিভিন্ন কোয়ালিটি সম্পন্ন পাঞ্জাবীর আকর্ষন রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে এবারে ঈদের কেনাকাটায় দেশি-বিদেশী পাঞ্জাবীর মধ্যে রাজশাহী সিল্ক, এনডি সিল্ক, খদ্দর পাঞ্জাবী, কাবুলী সেট, শার্ট কলার, অর্গেন্তি সুতি, ধূতি সুতি, জাপানী ইউনিটিকা, ইন্ডিায়ান আদি পাঞ্জাবী, রাইস কাবুলি সেট, জয়পুরি সিল্ক, জয়শ্রী সিল্ক প্রভৃতি বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্য রয়েছে বিশেষ আকর্ষনীয় ব্যবস্থা এমনটাই জানান শুকরিয়া মার্কেটের পাঞ্জাবী ব্যবসায়ী ‘কারুণ্য’ শপের প্রোপ্রাইটর: এম.ডি নাসিম আহমেদ,

ছয় মাসের বাচ্ছাদের জন্য আকর্ষনীয় পাঞ্জাবী ৬৫০/- থেকে শুরু করে ৭৫০০/- পর্যন্ত মূল্যের রয়েছে। আমাদের এখানে সর্বোচ্চ/ অভার সাইজ ৪৮, ৫০, ৫২। দেশি-বিদেশি ও নিজস্ব প্রোডাক্টস্ এর মধ্যে বাপ-পেটা মেচিং পাঞ্জাবী, নানা-নাতী মেচিং পাঞ্জাবীও রয়েছে। ‘কারুণ্য’ শপের প্রোপ্রাইটর আরও জানান এ বছর মালামালের দাম তেমন একটা বাড়ে নাই বিদায় ক্রেতাদের নিকট বেশি চাহিদাজনক মনে হচ্ছে- প্রিন্ট পাঞ্জাবী, বাপ-বেটা মেচিং পাঞ্জাবী ও ইন্ডিয়ান শেরওয়ানী। জিন্দাবাজার পয়েন্টে ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটির বিশিষ্ট পাঞ্জাবী ব্যবসায়ী ভি.আই.পি আড়ং এর প্রোপ্রাইটর জুয়েল তালুকদার বলেন- আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এবারে ক্রেতাদের চাহিদা হচ্ছে দেশি প্রিন্ট পাঞ্জাবীর উপর। দোকানে বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবীর মধ্যে ২৫০/- থেকে শুরু করে ২৫,০০০/- পর্যন্ত মূল্যের পাঞ্জাবী রয়েছে।

এসময় এক ক্রেতা দেলওয়ার হোসেন শাহজালাল উপশহর হাইস্কুল এর শিক্ষক বলেন, এ বছর ঈদের জন্য আমি ক্রয় করেছি সাদা ইউনিটিকা ১,২০০/- এবং ইন্ডিয়ান মুদিকটন ৪,৩৮০/- মূল্যের। মোটামুটি পাঞ্জাবীর তুলনায় দাম স্বাভাবিক। বন্দর বাজার মধুবন সুপার মার্কেট এর রিমন পাঞ্জাবী হাউস এর প্রোপ্রাইটর মাওঃ মোঃ এহছানুল হক (মিলাদ) জানান প্রতি বছর দেশি-বিদেশী পাঞ্জাবী ক্রয় করি ঈদ উপলক্ষ্যে ক্রেতাদের জন্য। এবছর ক্রেতার চাহিদা দেশি সুতি পাঞ্জাবী ও ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবীর উপর। ক্রেতার উপস্থিতি খারাপ নয় কিন্তু সামনের দিকে বিক্রয় আরও বাড়বে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন রিমন পাঞ্জাবী হাউসের প্রোপ্রাইটর। বন্দর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ১৯৭ নং হাসান মার্কেট এর ফাতেমা ক্লথ ষ্টোর এর প্রোপ্রাইটর আকিক আলী জানান- এবছর ঈদ উপলক্ষ্যে ব্যবসার পরিস্থিতি ভাল।

২৮০/- থেকে শুরু করে ২,০০০/- পর্যন্ত দেশি পাঞ্জাবী এবং এর চেয়ে আরও বেশি মূল্যের বিদেশী পাঞ্জাবী রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা পাঞ্জাবীর প্রতি লক্ষণীয়। কারণ পাঞ্জাবী ছাড়া ঈদের আনন্দ অকল্পনীয়। সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্র বন্দর বাজার ও জিন্দাবাজার হকারদের ঈদ উপলক্ষ্যে রকমারী পসরার সমাহার লক্ষনীয়। এর সাথে স্বল্প মূল্যের বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবী সাটানো ও মুখে মুখে হকার ব্যবসায়ীদের হাকডাক একদাম একরেইট ক্রেতাদের নজর কারে।

পুরানলেনে আলী ম্যানশন এর সামনে ফুটপাতে পাঞ্জাবী ব্যবসায়ী হারুনুর রুশীদ জানান- ৪৫০/- এক মুল্যে পাঞ্জাবী বিক্রয় করছি সাথে পায়জামাও। দাম সস্তা বিদায় দেশি সুতি পাঞ্জাবীগুলোর কাস্টমার আমরা বেশি পাচ্ছি। আল্লাহর রহমতে বেচা-বিক্রি ভাল। ঈদ যত ঘনাবে বেচা-বিক্রি আরও বাড়বে। এদিকে সিলেট নগরীর জনবহুল ও নন্দিত মার্কেট শুকরিয়া আধুনিক বিপনী কেন্দ্র এর বিশিষ্ট পাঞ্জাবী ব্যবসায়ী ‘বৈশাখী’ এর প্রোপ্রাইটর আব্দুস সামাদ জোয়ারদার জানান পাঞ্জাবী বেচাকেনা এবং ঈদ উপলক্ষ্যে সার্বিক ক্রয়-বিক্রয় ভাল। সবধরনের ক্রেতাদের উপস্থিতি আমাদের শুকরিয়া মার্কেটে অন্যান্য মার্কেটের চেয়ে সারা বছরই তুলনামুলক বেশি থাকে। আর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা এলেতো কথাই নেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। ঈদ উপলক্ষ্যে আমি দেশি বিদেশী পাঞ্জাবী ক্রয় করেছি। অন্য বছরের তুলনায় দাম একটু বেশি। তবে ক্রেতারা দামের জন্য পিছু হটছেন না, ঈদ উপলক্ষ্যে পাঞ্জাবী বিক্রয়ের পরিমান মোটামুটি ভালই হচ্ছে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত পাঞ্জাবী বিক্রয় চলবে।

(আজকের সিলেট/১৩ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ