আজ মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

মৌলভীবাজার-৩ আসনে দীর্ঘ হচ্ছে আ.লীগ-বিএনপির প্রার্থী তালিকা

  • আপডেট টাইম : আগস্ট ৪, ২০১৭ ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোন্দল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন সরব হয়ে উঠছে। জেলা সদর থেকে শুরু করে হাইকমান্ডের দলীয় নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ শুরু করেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় নিজ নিজ বলয়ে নেতাকর্মীকে কৌশলে ধরে রাখার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে একাধিক নেতা মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সালিশ বৈঠক, বিবাহ অনুষ্ঠান, বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরির্শনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যোগদান করে জনসংযোগ করছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে এগিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন। তাঁর প্রয়াত স্বামী সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর কল্যাণে কেন্দ্রে এবং জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টিতে রয়েছেন।

এছাড়া প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ, এনবিআর ব্যাংকের চেয়ারম্যান, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী, জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক, চেম্বার সভাপতি কামাল হোসেনসহ অনেকে।

মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০-২১ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর ছিলেন আমার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলী। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড এর মূল্যায়ন করবে।

এমএ রহিম (সিআইপি) বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে দেশ ও দলের জন্য অনেক ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেছি। সে সময় মৌলভীবাজারের প্রতিটি স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করি। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার কারণে কারাবরণ করতে হয়েছে। ৭ মে ২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আগমন করলে ১৮ দিন কারাবরণ করতে হয়। আমার বিশ্বাস, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে এবং নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

সম্ভাব্য প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পরকায়স্থ বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু ঐকান্তিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। জননেত্রী আগামী জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন দিলে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সদা প্রস্তুত রয়েছি।

জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ বলেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছি। আমার অবিচল বিশ্বাস হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবে এবং নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

অন্যদিকে, মৌলভীবাজার জেলায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে নেতাকর্মীরা সংগঠিত না হলেও জন সমর্থনের দিক দিয়ে সংগঠন পিছিয়ে নেই। নির্বাচনি আগাম ঢামাডোলে তাদের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সংখ্যা কম নয় বলে জানা গেছে।

দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনে তিন সদস্যের (সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) কমিটিতে ৮ বছর অতিবাহিত করলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। সম্প্রতি পূর্ববর্তী কমিটির কার্যক্রম বাতিল করে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৪৮ সদস্যের নামোল্লেখ করে জেলা বিএনপির কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়। এতে ঝিমিয়ে পড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি, জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান, সাবেক মহিলা এমপি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খালেদা রব্বানী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানূর রহমান ভিপি মিজান, সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন।

জানা গেছে, গত পৌর নির্বাচনে ফয়জুল করিম ময়ূনকে মৌলভীবাজার পৌরসভায় বিএনপির মনোনয়ন দেয় কেন্দ্র। তিনি রহস্যজনক কারণে মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান ।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানূর রহমান বলেন, মাধ্যমিক স্কুল থেকে ছাত্রদল রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষের ভালোবাসায় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। বিএনপির চেয়ারপার্সনসহ হাইকমান্ড আমার দলীয় ঐকান্তিকতার প্রতি সুবিচার করে দলীয় মনোনয়ন দেবে বলে বিশ্বাস করি।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি এম নাসের বলেন, ২০১৮ সালে শেষ দিকে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির হাইকমান্ড মৌলভীবাজার-৩ আসনে আমাকেই মনোনয়ন দেবে এবং বিএনপি প্রার্থীরা ২৫০’র বেশি আসনে বিজয়ী হবে।

এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে জেলা সভাপতি সৈয়দ শাহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নূরুল হকও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন। তবে ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ শাহাব উদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

 

 

(আজকের সিলেট/৪ আগস্ট/ডি/এমকে/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ